ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:০৯:২০

৯০০ বছরের খরায় ধ্বংস হয় ইন্দোজ সভ্যতা

৯০০ বছরের খরায় ধ্বংস হয় ইন্দোজ সভ্যতা

টানা ৯০০ বছর ধরে চলা খরার কারণেই ইন্দোজ উপত্যকার উপর নির্মিত সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে। ৪ হাজার ৩৫০ বছরের পুরানো এই সভ্যতা ধ্বংসের কারণ খুঁজে পেয়েছেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজির গবেষকরা। এদিকে তাদের গবেষণায় যে বিষয়গুলোকে প্রমাণ হিসেবে হাজির করা হচ্ছে, তাতে বলা হচ্ছে ইন্দোজ সভ্যতা ধ্বংসের পেছনে খরাই দায়ী। তবে তা ২০০ বছরের খরা নয়, বরং ৯০০ বছরের টানা খরার ফলেই ওই সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে। এই মাসেই বিশ্বের স্বনামধন্য জার্নাল কোয়াটারনারিতে এটি প্রকাশ হতে যাচ্ছে। ভূতত্ত্ব ও ভূপদার্থবিদ বিভাগের গবেষকরা গত ৫ হাজার বছরের বর্ষাকালের তারতম্য নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর হিমালয়ে ৯০০ বছর ধরে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। এতে পানির সব উৎস শুকিয়ে গিয়েছিলো। এতে ওই সভ্যতায় বসাবাসকারী মানুষজন পূর্বে ও দক্ষিণে স্থানান্তর হন। যেসব এলাকায় মোটামুটি বৃষ্টিপাত হতো, তারা সেখানেই আবাস গেড়েছিল। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়াএমজে/
নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে প্রতিবাদ

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেন একজন বিশিষ্ট মার্কিন আইনজীবী। নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের প্রস্পেক্ট পার্কে পাওয়া যায় ৬০ বছর বয়সী ডেভিড বাকেলের দেহাবশেষ। মৃত্যুর আগে তাঁর লিখে যাওয়া সুইসাইড নোটে বাকেল লিখেছেন, ‘জৈব জ্বালানি ব্যবহার করে মানবজাতি পৃথিবীর যে ক্ষতি করেছে তারই প্রতীকী প্রতিফলন হবে তার মৃত্যুতে। অধিকাংশ মানুষই এখন দূষিত বায়ু গ্রহণ করে এবং সময়ের আগেই মারা যায়।’ সুইসাইড নোটে লিখেছেন, ‘আবহাওয়ার সব উপাদানের মধ্যে দিয়ে দূষণ ছড়িয়ে পরে আমাদের গ্রহ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে’  যা নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় উঠে এসেছে। পত্রিকাটি জানিয়েছে তাঁর দেহ খুঁজে পাওয়ার আগেই একাধিক সংবাদ সংস্থার কাছে এই নোটটি মেইল করে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও লিখেন,‘আমরা আমাদের কত বড় ক্ষতি করছি তা জৈব জ্বালানি দিয়ে আমার অকাল মৃত্যুর মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে।’ এটি নতুন নয়! যেসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করার আর কোনো পথ খোলা থাকে না সেসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এর আগেও অনেকে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। বাকেলের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজ। উল্লেখ্য, সমকামী ও হিজড়াদের অধিকার আদায় সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রমের জন্য খ্যাতনামা ছিলেন বাকেল। পরে তিনি একাধিক পরিবেশবাদী সংঘের সাথে কাজ করেছেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা কেআই/টিকে 

গাড়ির নম্বর প্লেটের মূল্য ১৩২ কোটি টাকা!

শুধু এফ ওয়ান (F1) অর্থাৎ ফর্মুলা ওয়ান। গাড়ির নম্বর প্লেট। কী এমন অমূল্য হতে পারে এ নম্বর প্লেটের। যার জন্য কোটি কোটি টাকার বাজি ধরবেন ক্রেতারা। গাড়ির নম্বর প্লেট নিয়ে অনেকেরই অনেক রকম হুজুগ থাকে। তাই বলে কেউ কি নম্বর প্লেটের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করতে পারে? অবাক হলেও সত্য, লাখ টাকায় নয়, গাড়ির একটি নম্বর প্লেট বিক্রি হয়েছে ১৩২ কোটি টাকায়। সম্প্রতি এমন কাণ্ডটি ঘটেছে ব্রিটেনে।  বাইরের দেশের তারকারা অনেক সময় নিজের পছন্দের নম্বর প্লেটের জন্য লাখ খানেক টাকা খরচ করেন বটে। তবে ১৩২ কোটি টাকা খরচ করার কথা শোনা যায়নি কখনও। F1 নম্বর প্লেটটি কেনার জন্য যেকোনও মূল্য দিতে রাজি ছিলেন ব্রিটেনের একাধিক ব্যক্তি। এই নম্বর প্লেট গাড়িতে রাখা নাকি একটি আভিজাত্যের লক্ষণ। আর সেকারণেই ব্রিটিশ বিলিওনেয়াররা এই নম্বর প্লেট পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। এক্ষেত্রে সেটাই ঘটেছিল। উল্লেখ্য, ১৯০৪ সাল থেকে এসেক্স সিটি কাউন্সিলের অধীনে ছিল এই নম্বর প্লেটটি। ২০০৮ সালে ৪ কোটি টাকায় সেটি কিনে নিয়েছিলেন আফজন খান নামে এক ব্রিটিশ শিল্পপতি। তারপর থেকে খান ডিজাইনের অধীনেই ছিল F1 নম্বর প্লেটটি। এই প্রথম বাজারে দর উঠল তার। ৪ কোটি থেকে এক ধাক্কায় ১৩২ কোটি। সূত্র: জিনিউজ একে//টিকে

এবার ডায়নোসরের কঙ্কাল দিয়ে সাজাবে ঘর

একটু ভাবুন, দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকেই বড় একটা ড্রয়িং রুম৷ আর সেই রুমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি ডায়নোসরের কঙ্কাল৷ তার আশপাশে পাতা টেবিল, চেয়ার, সোফা ইত্যাদি৷ আর সেখানেই বসে আড্ডা মারতে পারবেন অতিথিরা৷ জানি কোনও বাড়িতে এমন দৃশ্য আজ পর্যন্ত কারও চোখে পড়েনি। কিন্তু ভবিষ্যতে পড়বে এটা নিশ্চিত। ঘর সাজানোর সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার হতে চলেছে ডায়নোসরের হাড়। প্যারিসে চলতি সপ্তাহেই রয়েছে তার নিলাম। কোনও গৃহস্থ বাড়িতে এমন দৃশ্য এখনও পর্যন্ত চোখে পড়েনি৷ কিন্তু ভবিষ্যতে পড়বে৷ ঘর সাজানোর সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত চলেছে ডায়নোসরের হাড়৷ প্যারিসে চলতি সপ্তাহেই রয়েছে তার নিলাম৷ পকেটে টাকা থাকলে বড় লিভিং রুমের জন্য অনায়াসে নিতে পারেন এই নতুন জিনিস৷ অকশন হাউজ বিনোচে এট গিগোয়েলোর তরফে জানানো হয়েছে, ‘ফসিল মার্কেট এখন শুধু বিজ্ঞানীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই৷ ডায়নোসর এখন ট্রেন্ডি। পোইন্টিংয়ের মতো সাজানোর জলজ্যান্ত বস্তু’। মানুষ ডায়নোসরের দাঁত খুব বেশি রকম পছন্দ করে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা৷ কারণ এটির দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম৷ মাত্র ৩.৮ মিটার বা ১২.৫ ফিট৷ সেদিক থেকে দেখতে গেলে ডায়নোসরের নাক ও লেজ প্রায় ১২ মিটার লম্বা৷ ফলে ঘর সাজানোর জন্য দাঁত রাখাই শ্রেয়৷ কিন্তু এই বিপুল গ্রহণযোগ্যতার ফলে দাঁতের দাম বেশিই৷ অথচ নাক ও লেজের দাম সে তুলনায় কম। উল্লেখ্য, গত ২/৩ বছর ধরে চীন বড় কোনও ডায়নোসরের কঙ্কাল খুঁজছে। দেশের জাদুঘর বা কোনও ব্যক্তিবিশেষের জন্য এই খোঁজ চলছে। একে তো ডায়নোসরের কঙ্কাল দুর্লভ। তার উপরে এত চাহিদার ফলে হু হু করে এর দাম বাড়ছে৷ সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস একে//টিকে  

কংকাল থেকে সিপাহি বিদ্রোহের অজানা অধ্যায়

২০১৪ সালে লন্ডনের মাইল এন্ডে নিজের অফিস কক্ষে বসে কাজ করার সময় একটি ইমেইল পান ইতিহাসবিদ কিম ওয়াগনার, যেখানে এক দম্পতি লিখেছেন যে তাদের কাছে কংকালের মাথার খুলি আছে। কিন্তু সেটি তারা বাড়িতে রাখতে চান না আর বুঝতেও পারছেন না তাদের কী করা উচিত। কংকালের বাকি অংশ নেই। কয়েকটি দাঁতও ছুটে গেছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তার সঙ্গে থাকা কাগজটি। সেখানে একটি নোটে এই খুলির পরিচয় লেখা রয়েছে। এই খুলিটি হাবিলদার আলম বেগের। তিনি ৪৬ বেঙ্গল নর্থ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের একজন ছিলেন, যে তার রেজিমেন্টের আরও কয়েকজনের সঙ্গে বন্দুকের গুলিতে নিহত হন। তিনি ছিলেন ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান নেতা। হাবিলদার আলম বেগ একটি ছোট দল নিয়ে কেল্লার দিকে যাওয়ার রাস্তা দখল করেন, যেখান থেকে ইউরোপিয়ানরা নিরাপদে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তিনি ঘোড়ার গাড়িতে অতর্কিত হামলা করে কন্যার সামনেই ড. গ্রাহামকে হত্যা করেন। তার পরবর্তী শিকার ছিল রেভারেন্ড হান্টার, একজন মিশনারি, যিনি তার স্ত্রী আর কন্যার সঙ্গে পালাচ্ছিলেন। ড. হান্টারকে হত্যার পর তিনি তার স্ত্রী আর কন্যাকেও চরম নির্যাতন করে জবাই করে হত্যা করেন। আলম বেগের বয়স ছিল ৩২ বছর, ৫ ফিট সাড়ে ৭ ইঞ্চি লম্বা আর কোন ভাবেই স্থানীয়দের মতো ছিল না। এই খুলি ক্যাপ্টেন (এআর) কোস্টেলো দেশে নিয়ে আসেন, যিনি আলম বেগের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত ছিলেন। এই নোট থেকে যেটি পরিষ্কার যে, এই খুলিটি আলম বেগ নামের একজন ভারতীয় বিদ্রোহী সেনার, যিনি বেঙ্গল রেজিমেন্টে কাজ করতেন আর ১৮৫৮ সালে পাঞ্জাবের কামানের মুখে বেধে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। যিনি নোটটি লিখেছেন, তিনিই খুলিটি ইংল্যান্ডে নিয়ে আসেন। কিন্তু কেন আলম বেগ অভিযোগ করা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নোটে কিছু বলা নেই। কার্তুজে মাখানো পশুর চর্বি ব্যবহার করলে তা ধর্মবিরোধী হবে, এই কারণে ১৯৫৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্থানীয় হিন্দু আর মুসলিম সেনারা। এর আগে পরে মিলিয়ে ব্রিটিশরা প্রায় দুইশ বছর ভারত শাসন করেছে। ওই দম্পতি এই কংকাল খুলির বিষয়ে, আলম বেগের ইন্টারনেটে যথেষ্ট খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু সেখানে কিছু না পেয়ে এই অধ্যাপকের শরণাপন্ন হন। এরপর নভেম্বর মাসের একদিনে এই দম্পতির সঙ্গে দেখা হয় অধ্যাপক ওয়াগনারের। তারা জানান, পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে তারা এই কংকাল খুলির মালিক হয়েছেন। তাদের একজন আত্মীয় কেন্টে একটি ছোট পাব কিনেছিলেন এবং তখন সেখানে একটি রুমে পুরনো বাক্স পেটরার মধ্যে এই খুলিটি পান। কেউ জানতো না পাবে কিভাবে খুলিটি এসেছে। কিছুদিন সেটা পাবের মানুষজনকে দেখার জন্য সাজিয়ে রাখা হয়। ওই দোকানের মালিক মারা যাওয়ার পর নানা হাত ঘুরে খুলিটি এই দম্পতির হাতে আসে। এরপর ওই খুলির অতীত খুঁজে বের করার কাজে নামেন ড. ওয়াগনার। প্রথমে তাকে নিশ্চিত হতে হবে যে, খুলিটির সঙ্গে ইতিহাসের সত্যিই কোন যোগাযোগ আছে। এজন্য তিনি লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের শরণাপন্ন হন। একজন বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মতামত দেন যে, এটা মধ্য উনিশ শতকের এশিয়ান কোন যুবকের মাথার খুলি। যার বয়স হতে পারে ত্রিশের কোঠায়। কংকাল খুলি দেখে অবশ্য কিভাবে তিনি মারা গেছেন সেটা বোঝার উপায় নেই। কামানের গোলায় মারা গেলে সেটা অস্বাভাবিকও নয়। ড. ওয়াগনার আশা করেননি যিনি তিনি এই ব্যক্তির সম্পর্কে খুব তাড়াতাড়ি কিছু জানতে পারবেন। কারণ সাধারণত ছোট সেনাদের বিষয়ে খুব একটা নথিপত্র থাকে না। ব্রিটেন বা ভারতের আর্কাইভে বহু খুঁজেও বেগের নাম কোন কাগজপত্র, প্রতিবেদন, চিঠি বা স্মরণিকায় পাওয়া গেলো না। তবে এখানে কিছু সূত্রের দেখা পেলেন ড. ওয়াগনার। আলম বেগ যাদের হত্যা করেছিলেন বলে বলা হয়েছে, তাদের পরিবারের কিছু চিঠি পত্র পেলেন ড. ওয়াগনার। সেখানে অ্যান্ড্রু গর্ডন নামের একজনের কথা জানা গেলো, যিনি নিহত ডা. গ্রাহাম আর হান্টারকে জানতেন আর বেগের মৃত্যুদণ্ডের সময় উপস্থিত ছিলেন। এসব তথ্যকে সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন ড. ওয়াগনার। লন্ডন আর দিল্লির আর্কাইভ ঘাটতে শুরু করেন। এখনকার পাকিস্তানের শিয়ালকোট থেকে চারদিনের দূরত্বে, দেড়শ বছর আগের সেই যুদ্ধক্ষেত্রও তিনি খুঁজে বের করেন, যেখানে আলম বেগ ব্রিটিশদের সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে যান। সেই বিদ্রোহের বইপত্র, চিঠি, পিটিশন, বিবৃতি ঘাটাঘাটি শেষ করে অবশেষ আল বেগের বিষয়ে এই উপসংহারে পৌছাতে পারেন ড. ওয়াগনার। সেই বর্ণনা নিয়ে তিনি আলম বেগের খুলি নামের একটি বইও লিখছেন। আসলে তার সত্যিকার নাম আলিম বেগ, যিনি ছিলেন উত্তর ভারতের একজন সুন্নি মুসলমান। বর্তমান উত্তর প্রদেশের কানপুরে বেঙ্গল রেজিমেন্টটি গঠিত হয়েছিল। আলিম বেগও সেই এলাকা থেকে এসেছেন বলে ধারণা করা হয়। তিনি ছোট একটি সেনা বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন। যাদের কাজ ছিল ক্যাম্প পাহারা দেওয়া, চিঠিপত্র বহন করা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপরাশি হিসাবে কাজ করা। যিনি ওই খুলিটি ব্রিটেনে এনেছিলেন, তার পরিচয় পাওয়া গেছে ক্যাপ্টেন রবার্ট জর্জ কোস্টেলো। আয়ারল্যান্ডের জন্ম এবং ১৯৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে ভারতে যান। এর দশ মাস পরে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। ড. ওয়াগনার বলছেন, আমার গবেষণার চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে, আলিম বেগকে আবার ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া, যদি সম্ভব হয়। এখনও এই কংকাল খুলির জন্য কোন দাবি আসেনি। তবে ভারতের নানা প্রতিষ্ঠান আর ভারতে ব্রিটিশ হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন ড. ওয়াগনার। তিনি বলেন, আমি চাই না, আলিম বেগের এই মাথার খুলি কোন রাজনৈতিক ইস্যু হোক বা কোন মিউজিয়ামের কাচের বক্সে শোভা পাক, অথবা কোন বাক্সে পড়ে থাকুক। আমি চাই, আলিম বেগ তার দেশে ফেরত যাক আর সম্মানের সঙ্গে তার দেশের মাটিতেই শুয়ে থাকুক। তিনি মনে করেন, আলিম বেগের কবর হওয়া উচিত রাভী নদীর মাঝের ছোট দ্বীপে, যেখানে তিনি আর সঙ্গের সেনারা ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখন সেই দ্বীপটি ভারত আর পাকিস্তানের সীমান্ত। সুতরাং, আলিম বেগের চূড়ান্ত অধ্যায় লেখার এখনও কিছু বাকি রয়ে গেছে। সূত্র: বিবিসি একে/

প্রাণিজগতের রেকর্ডধারীরা

কোন প্রাণী সবচেয়ে বড়, কোনটি সবচেয়ে লম্বা, কোনটির ওজন সবচেয়ে বেশি– এসব জানার আগ্রহ অনেকেরই আছে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, এমন জানা-অজানা কিছু তথ্য। গ্রেট বাস্টার্ড ইউরোপের সবচেয়ে ওজনদার উড়ন্ত পাখি এরা৷ এদের ওজন ১৫ কেজির বেশি হতে পারে৷ ভারী হওয়ার কারণে তারা বেশি উঁচুতে উঠতে পারে না৷ ফলে মাঝেমধ্যে বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে তাদের ধাক্কা লাগে৷ উটপাখি বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখি এরা, যদিও তারা ওড়ে না৷ উচ্চতা সাধারণত ২ দশমিক ৭ মিটার আর ওজন ১৫ কেজি হয়ে থাকে৷ ভল্লুক ডাঙায় বাস করা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাংসাশী প্রাণী ভল্লুক৷ যখন তারা পেছনের পায়ে ভর করে দাঁড়ায় তখন তারা প্রায় তিন মিটার দীর্ঘ হতে পারে৷ পোলার বেয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে এরা সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত৷ গড়ে এরা তাদের বাদামি রংয়ের আত্মীয়দের চেয়ে আকারে একটু বড় হয়ে থাকে৷ দেখতে সুন্দর হওয়ায় পর্যটকদের কাছে খুবই প্রিয় সাদা ভল্লুক৷ কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে৷ আফ্রিকান হাতি ডাঙায় বাস করা বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাণী আফ্রিকান হাতি৷ এদের মধ্যে সবচেয়ে বড়টি সাড়ে সাত মিটার দীর্ঘ হতে পারে৷ আর লম্বায় হতে পারে ৩ দশমিক ৩ মিটার৷ তাদের ওজন হতে পারে প্রায় ছয় মেট্রিক টন৷ জিরাফ বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা প্রাণী৷ উচ্চতা হতে পারে প্রায় সাড়ে পাঁচ মিটার৷ এমনকি একটি জিরাফের বাচ্চার উচ্চতা জন্মের সময় ১ দশমিক ৮ মিটার হয়ে থাকে৷ একটি বিষয় বোধ হয় অনেকের জানা নেই৷ প্রাণীদের মধ্যে তাদেরই রক্তচাপ সবচেয়ে উচ্চ৷ কুমির লোনাপানির কুমিররা বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সরীসৃপ হিসেবে বিবেচিত৷ দৈর্ঘ্যে তারা সর্বোচ্চ ছয় মিটার হতে পারে৷ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় যে কুমিরটির হিসেব রয়েছে তার ওজন ছিল প্রায় ১ দশমিক ৯ মেট্রিক টন৷ হাঙর বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাছ৷ ছবির এই হাঙরটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ছয় মিটার৷ তবে কোনও কোনও হাঙ্গরের দৈর্ঘ্য এর দ্বিগুণও হতে পারে৷ নীল তিমি বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাণী নীল তিমি৷ এদের ওজন ১৮০ টন পর্যন্ত হতে পারে৷ দৈর্ঘ্য হতে পারে ৩০ মিটার পর্যন্ত৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে একে//

বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘায়ু ব্যক্তির বেঁচে থাকার রহস্য!

বিশ্বের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির শতায়ু পাওয়ার রহস্য উন্মোচন করেছেন ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা। জাপানের ১১২ বছর বয়সী মাসাজো নোনাকো আজ মঙ্গলবার বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তির স্বীকৃতি পাওয়ার পরই তাঁর পরিবারের সদস্যরা নোনাকোর দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার কারণ বাতলে দিয়েছেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ওই ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। নোনার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, মৃদু গরম পানি দিয়ে প্রতিদিন গোসল ও প্রচুর মিস্টি খাওয়ার কারণেই নোনাকো এখনও পর্যন্ত জীবিত রয়েছেন। নোনাকো ১৯০৫ সালের ২৫ জুলাই উত্তর জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের মাত্র একমাস আগে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন তাঁর বিখ্যাত তত্ত্ব ‘দ্য থিউরি অব স্পেশাল রিলেটিভিটি’ প্রকাশ করেন। জন্মের পর থেকেই দ্বীপটিতে পরিবারের সঙ্গে বাস করে আসছেন নোনাকো। তার নাতনি জোযোক নোনাকো বলেন, নোনাকোর চলাফেরার জন্য একটি হুইলচেয়ার প্রয়োজন, কিন্তু তার শরীরের অবস্থা অনেক ভালো বলেও জানান তিনি। জোযোক নোনাকো আরও বলেন, তার দাদা যে কোনো ধরণের মিস্টি খেতে পছন্দ করেন। ১৯৩১ সালে হাটসোনোকে বিয়ে করেন নোনাকো। গিনেস ওয়ার্লড বুক অনুযায়ী, জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারিতে স্পেনের নাগরিক ও বিশ্বের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ফ্রান্সিস নুনেজ অলিভেরা মৃত্যু বরণ করেন। ১১৩ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করায় নোনাকো-ই এখন বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি। জাপানকে দীর্ঘায়ূর দেশ বলা হয়। এর আগে ২০১৩ সালে দেশটিতে জিরোমন কিমোরা নামের এক ব্যক্তি ১১৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। গত বছর দেশটির সরকার জানিয়েছে, দেশটিতে শতায়ূপ্রাপ্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৬৮ হাজারেরও বেশি। সূত্র: এনডিটিভিএমজে

যে গ্রামে গেলে কেউ জীবিত ফিরতে পারে না

রাশিয়ায় উত্তর ওশেটিয়ার ডারগাভস নামে একটি গ্রাম রয়েছে। যেটি বিশ্বের নির্জন এলাকা হিসেবে পরিচিত।  যেখান থেকে কেউ জীবিত ফিরে আসে না। লোকে গ্রামটিকে মৃতদের শহর বলে ডাকে। গ্রামটিকে ঘিরে রয়েছে পাঁচটি খাড়া পাহাড়। আর গ্রামের ঘরগুলো সব পাহাড়ি পাথরে তৈরি করা হয়েছে।গ্রামটি দেখতেও খুবই সুন্দর। কিন্তু কেউ এই গ্রামে যেতে সাহস পান না। কারণ সেখানে শুধু মৃতদেহরাই বাস করে। বিশ্বাস করা হয় যে স্থানীয় মানুষরা ওই গ্রামের ঘরগুলোতে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের মৃতদেহগুলো রেখে আসেন।পাহাড়ি এই গ্রামে এমন অসংখ্য ভবন আছে যেগুলোতে ভূগর্ভস্থ ঘরও আছে। এই গ্রামের কয়েকটি ভবনে চারটি পর্যন্ত তলা আছে। এটি আসলে বিশাল এক গোরস্থান। এই ভবনগুলোর প্রতিটি তলায় মৃতদেহ কবর দেওয়া হয়। গ্রামটিতে প্রায় ৯৯টি ভবন আছে। আজ থেকে প্রায় পাঁচশ’ বছর আগে ১৬ শতক থেকেই এই ভবনগুলোতে মৃতদেহ কবর দেওয়া হতো।স্থানীয়দের বিশ্বাস যারা একা একা এই ভবনে যায় তারা আর কখনো জীবিত ফিরে আসে না। আর এ কারণেই এই গ্রামে কখনো কোনো পর্যটকও যাননি। এ ছাড়া পাহাড়ি এলাকা হওয়ার কারণে এখানকার আবহাওয়া ক্ষণেক্ষণেই বদলে যায়। যা ভ্রমণকারীদের জন্য উপযোগী নয়।সূত্র : ডেইলি মেইল/এআর/

ডায়মন্ড যার ক্ষতি তার!

ডায়মন্ড মূল্যবার একটি ধাবত। এই ডায়মন্ড সবাই পেতে চায়। এছাড়া একটা বড় আকারের ডায়মন্ড নিজের কাছে থাকা মানে অর্থশালী হওয়া। তাইতো সবাই ডায়মন্ড সংগ্রহ করতে চায়। কিন্তু নীলরঙের একটি ডায়মন্ড যে পরিবারের কাছে গেছে সেই পরিবারেরই ক্ষতি করেছে। তেমননি একটিন ডায়মন্ডের খোঁজ পাওয়া গেছে। সতেরো শতকে ফরাসি রত্ন ব্যবসায়ী জিন ব্যাপ্টিস্ট ট্যাভার্নিয়ার ভারতে এসে এক দেবীর মূর্তি থেকে ১১৫.১৬ ক্যারটের নীলরঙের একটি ডায়মন্ড চুরি করেন। আর রত্নটি সেই দেবীর চোখের জায়গায় লাগানো ছিল। ১৬৬৯ সালে ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুই এটি ট্যাভার্নিয়ারের কাছ থেকে কিনে নেন। ১৬৭৩ সালে তিনি একে আবার কাটানোর ব্যবস্থা করেন। তখন এটি ‘দ্য ব্লু ডায়মন্ড অব দ্য ক্রাউন’ অথবা ‘ফ্রেঞ্চ ব্লু’ নামে পরিচিত ছিল। ৭২ বছর বয়সে গ্যাংগ্রিনে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। চতুর্দশ লুইয়ের রাজস্ব বিভাগের নিয়ন্ত্রক ছিলেন নিকোলাস ফুকুয়েট। তিনি কিছু উৎসবে এ ডায়মন্ডটি নিজের শোভাবর্ধনের জন্য ব্যবহার করেছিলেন। এর কিছুদিন পরই রাজার সঙ্গে কিছু কারণে তার সম্পর্ক খারাপ হয় এবং তাকে ফ্রান্স থেকে নির্বাসন দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে রাজা এ শাস্তি পরিবর্তন করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পিগনেরল দুর্গে ফুকুয়েটকে ১৫ বছর বন্দি রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে উত্তরাধিকার সূত্রে এ ডায়মন্ডটি পান রাজা ষোড়শ লুই। তার স্ত্রী মেরি অ্যান্টোইনেট এটি ব্যবহার করতেন। ফরাসি বিদ্রোহে দুজনেরই শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল। একসময় এ ডায়মন্ডটি যায় ইংল্যান্ডের লর্ড ফ্রান্সিস হোপের কাছে। তিনি আমেরিকার এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন। দুজনেরই টাকা ওড়ানোর অভ্যাস ছিল। ফলে একসময় তারা ডায়মন্ডটি বেচে দেন এবং পরবর্তী সময়ে দারিদ্র্য তাদের আরও ঘিরে ধরেছিল। ডাচ রত্ন ব্যবসায়ী উইলহেলম ফলসের হাতে ডায়মন্ডটি পড়লে তিনি এটিকে আবারও কেটেছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের ছেলের হাতে তিনি খুন হন। ছেলেটি নিজেও আত্মহত্যা করেছিল। গ্রিক বণিক সাইমন মাওনকারিডস একবার ডায়মন্ডটির মালিক হয়েছিলেন। খাঁড়া পাহাড় থেকে গাড়িসহ পড়ে স্ত্রী, সন্তানসহ মৃত্যুবরণ করেন তিনি। নীল রঙের এ ডায়মন্ডটির সর্বশেষ মালিক ছিলেন আমেরিকার নাগরিক এভালিন ওয়ালশ ম্যাকলিন। ডায়মন্ডটি কেনার আগপর্যন্ত তার জীবন বেশ চমৎকারভাবেই কাটছিল। ডায়মন্ডটি তিনি মাঝে মাঝেই গলায় ঝোলাতেন। এমনকি কখনও কখনও নিজের পোষা কুকুরের নেকলেসেও শোভা পেতো সেটি। এরপরই যেন তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। প্রথমে মারা যান তার শাশুড়ি। এরপর মাত্র নয় বছর বয়সে মারা যায় তার ছেলে। পরবর্তী সময়ে আরেক নারীর আশায় তাকে ছেড়ে যান তার স্বামী। যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত এক মানসিক হাসপাতালে মারা যান। এরকম আরও কিছু ঘটনা পরে ঘটে ওই ডায়মন্ডের কারণে। অবশেষে ১৯৫৮ সাল থেকে ডায়মন্ডটি স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়ামেই রাখা হয়। এরপর থেকে রত্নটিকে ঘিরে আর কোনো দুর্ঘটনার কথা শোনা যায়নি। তথ্যসূত্র: মেন্টাল ফলস।এসএইচ/

মহাকাশে হোটেল, রোজ খরচ ৫ কোটি

হোটেল খুলছে মহাকাশে, যেখান থেকে দিব্যি আরামে দিনে ১৬ বার সূর্যের ওঠা-নামা দেখতে পারবেন অতিথিরা। সঙ্গে বাড়তি পাওনা ‘মাধ্যাকর্ষণহীন’ ভাবে ভেসে থাকা। আর উঁকি দিয়ে টুক করে যখন খুশি দেখে নেওয়া সাধের পৃথিবীটাকে। ২০২২-এই আসছে ‘অরোরা স্টেশন’ নামের এই বিলাসবহুল হোটেল। সৌজন্যে আমেরিকার মহাকাশ প্রযুক্তি-ভিত্তিক স্টার্টআপ সংস্থা ‘অরিয়ন স্প্যান’। অর্থাৎ, এখনও চার বছরের অপেক্ষা। গত বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসের এক সম্মেলনে সংস্থাটি যদিও জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই বুকিং শুরু হয়ে গেছে সেই হোটেলের। ১২ দিনের সফর। এক-এক দফায় ৪ জনের বেশি নয়। হোটেলটিতে ২ জন করে উড়ান-কর্মীও থাকবেন বলে খবরে বলা হচ্ছে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও ফ্র্যাঙ্ক বাংগারের দাবি, বিশ্ববাসীকে যথাসম্ভব কম খরচে মহাকাশ ভ্রমণ করানোটাই তাঁদের লক্ষ্য। আর সেই ‘সুলভ’ মূল্য আপাতত ঠিক হয়েছে— ৯০ লক্ষ ডলার। অর্থাৎ ভারত থেকে কেউ গিয়ে ১২ দিনের জন্য ওই হোটেলে থাকতে চাইলে, তাঁকে গুণতে হবে প্রায় ৫৯ কোটি টাকা! থাকা-খাওয়ার চিন্তা নেই। বুকিং শুরু হয়েছে ৮০ হাজার ডলার দিয়ে। বিফলে মূল্য ফেরতের ব্যবস্থাও পাকা। তবে যাওয়ার আগে অন্তত মাস তিনেকের একটি মহাকাশ অভিযানের কোর্স করতে হবে আপনাকে। মহাকাশচারীদের জন্য যেখানে টানা ২৪ মাসের প্রশিক্ষণ লাগে, এ বার তাতেও ছাড়! অরিয়নই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হোটেলে সর্বক্ষণের জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট থাকবে। বিনামূল্যে। যার মানে, চাইলেই আপনি পৃথিবীতে রেখে আসা আপনার প্রিয়জনের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে পারবেন। আর পৃথিবীতে ফেরার পরে জুটবে বিশেষ সম্মান। ব্যক্তিগত খরচে মহাকাশ ভ্রমণ অবশ্য আগেও হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৯-এর মধ্যে অন্তত সাত জন ঘুরে বেড়িয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে। তবে তাতে এক-এক জনের ২ থেকে ৪ কোটি ডলার পর্যন্ত খরচ হয়েছে। সেই হিসেবে ১২ দিনের এই ঘোষিত প্যাকেজ সস্তাই! প্রস্তাবিত ‘অরোরা স্টেশন’-এর মাপ ৩৫/১৪ ফুট। তবে চাহিদা মতো আগামী দিনে এই হোটেলের আয়তন আরও বাড়ানো হবে বলেও জানিয়েছে ‘অরিয়ন স্প্যান’। শোনা যাচ্ছে, মহাকাশে হোটেল ব্যবসায় নামতে চাইছে আরও কয়েকটি সংস্থা। সূত্র: আনন্দবাজার একে// এআর

১৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পেলো ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবার

ছাড়পোকা রক্ত খায়। তারপর সেখানে চুলকায়। ঘুমেরও বারোটা বাজায় খয়েরি রঙের এই ছোট্ট পোকাটি। এর কারণে মারাত্মক ধরনের সংক্রমণও হতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিবার ছাড়পোকার কামড়ের অভিযোগ করে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। গত সোমবার পরিবারটিকে ১৬ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ইংলেউডে ২০১২ সালেই ঘটনার শুরু। লিলিয়ানা মার্টিনেজ ও তার স্বামী ২০১০ সালে সেখানে একটি নতুন অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন। ২০১২ হঠাৎ একদিন লক্ষ করলেন, তার তিন বছরের ছেলে জর্জ মারাভিল্লার মুখসহ শরীরজুড়ে চাকা চাকা লাল দাগ। তখন তিনি হাসপাতালে গেলে ডাক্তাররা তাকে পরামর্শ দেন বাসায় অনুসন্ধান চালাতে। আর সেখানেই তিনি আবিষ্কার করেন ছাড়পোকা। তিনি জানিয়েছেন তার তিন মাস বয়সী মেয়েও ছারপোকার হাত হতে রক্ষা পায়নি। কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কোনও প্রতিকার না পেয়ে আদালতে মামলা করতে বাধ্য হন লিলিয়ানা মার্টিনেজ।   এ মামলায় অ্যাপার্টমেন্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে লিলিয়ানার পরিবারকে ১৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ ডলার দিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন লিলিয়ানার আইনজীবী ব্রায়ান ভিরাগ। সূত্র: গিজমড একে// এআর

জুতো পরা কুকুরের ভিডিও ভাইরাল

প্রকৃতি কুকুরকে জুতো পরিয়ে দিয়েছে৷ তার উপর মানুষের তৈরি জুতা পরালে তারা খুব অদ্ভুত আচরণ করে৷ কুকুরকে জুতো পরালে কী হয়? দ্য ডেইলি হার্টবিট নামের একটি ফেসবুক পেজে সেটির ভিডিও পোস্ট করার পর একমাসেরও কম সময়ে এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ তা দেখেছে৷ এটি শেয়ার হয়েছে তিন লাখ ৩৬ হাজারেরও বেশি বার৷  তিন মিনিটের ভিডিওটিতে প্রায় এক ডজন কুকুরের পায়ে জুতো পরানোর দৃশ্য দেখানো হয়েছে৷ দেখা গেছে কুকুরগুলো বিচিত্র ভঙ্গিতে পা থেকে সেটি খোলার চেষ্টা করছে৷   মজার এই ভিডিওটি দেখে ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষ৷ আর ভিডিও দেখে মন্তব্য করেছেন ৯ হাজার ৮০০ ফেসবুক ব্যবহারকারী৷ কুকুরদের এ ভিডিও দেখে মন্তব্যকারীদের অনেকেই একে নিষ্ঠুর পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন৷     সূত্র: ডয়চে ভেলে্ একে//এসি      

জার্মানির সড়কে এবার চালকবিহীন বাস

যাত্রীদের জন্য স্বয়ংক্রিয় বাস চালু করেছে জার্মান রেল কোম্পানি ‘ডয়চে বান’৷ তবে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে একজন মানুষ ওই বাসের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে৷ ইজেড১০ নামের ছোট্ট এই বাসে ছয় জনের বসার আসন আছে৷ দাঁড়ানো অবস্থায় আরও ছয় জন যাত্রী বাসটিতে উঠতে পারবেন৷ গতকাল বুধবার বাভারিয়া রাজ্যের পর্যটন এলাকা বাড বির্নবাখের আট কিলোমিটার রাস্তায় চলেছে এ বাস৷ প্রথম যাত্রায় যাত্রী হিসেবে ছিলেন ডয়চে বান-এর প্রধান নির্বাহী রিচার্ড লুৎস৷ বাড বির্নবাখের বিভিন্ন স্পা থেকে যাত্রী নিয়ে বাসটি শহরের কেন্দ্র হয়ে রেল স্টেশনে পৌঁছবে৷ যাত্রীরা বিনামূল্যে এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন৷ ভবিষ্যতে জার্মানির অন্যান্য শহরেও এই ধরণের বাস চালুর পরিকল্পনা করছে ডয়চে বান৷ আগামী বছর হামবুর্গে তা শুরু হতে পারে৷ এছাড়া ভবিষ্যতে প্রাইভেট কার সার্ভিস হিসেবেও এই বাস চলতে পারে৷ অর্থাৎ রেলের কোনো যাত্রী আগে থেকে বুকিং দিলে এই বাস তাঁকে বাড়ি থেকে স্টেশনে পৌঁছে দেবে৷ প্রাথমিক পর্যায়ে বাসটি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে চলবে৷ ভবিষ্যতে বিদ্যুৎচালিত পরিবহণের মাধ্যমে যাত্রীসেবা দেয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে জার্মান রেল কোম্পানি ডয়চে বান ‘লকি’ নামের একটি সাবসিডিয়ারি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করছে৷ চালকবিহীন বাস ইজেড১০ তৈরি করেছে ফরাসি স্টার্টআপ ‘ইজিমাইল’৷ সেন্সর থাকার কারণে এই বাস যাত্রাপথে কোনও বাধা পেলে ব্রেক কষতে পারে৷ তাছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে, যেমন চলার পথে কেউ ভুল করে গাড়ি পার্ক করে রাখলে, একজন চালক জয়স্টিক দিয়ে ইজেড১০-এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন৷ জার্মানি ছাড়াও ইজেড১০ বাসটি সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশের বিভিন্ন শহরে সীমিত পরিসরে চলাচল করছে৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে একে// এআর

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি