ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ৬:৪৮:১২

শিশুদের বিব্রতকর প্রশ্নের উত্তর দিবেন যেভাবে

শিশুদের বিব্রতকর প্রশ্নের উত্তর দিবেন যেভাবে

শিশুরা খুই কৌতূহল প্রবণ। কখনো কখনো তারা এমন প্রশ্ন করে যা শুনে আপনি বুঝতে পারেন না হাসবেন না কাঁদবেন। কিন্তু শিশুরা তাদের প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় এবং তাদের জানানোও প্রয়োজন। শিশুরা অবহেলা পছন্দ করেনা, তাদেরকে মিথ্যে বলাও উচিত নয় এবং তাদের শিশুসুলভ আচরণের জন্য হাসাহাসি করাও উচিত নয়। আসুন জেনে নিই শিশুদের কয়েকটি বিব্রতকার প্রশ্নের উত্তর দেবেন যেভাবে- আমি কোথা থেকে এসেছি? এই বিষয়ে শিশুকে কোনো আজগুবি কথা না বলে আসল কথাটা খুলে বলা উচিত। যেমন – বাবা-মায়ের ভালোবাসার ফলে সে মায়ের গর্ভে এসেছে। মায়ের পেটে সে অনেকদিন থাকার পরে যখন বড় হয়েছে তখন সে জন্মগ্রহণ করেছে। ছেলে এবং মেয়ে কেন আলাদা? শিশুরা তাদের জননাঙ্গ নিয়ে উৎসাহিত হবে এটাই স্বাভাবিক। তাই তাকে বলুন ছেলে এবং মেয়ের পার্থক্য হওয়ার কারণ সৃষ্টিগত এবং এর একটি উদ্দেশ্য আছে। আর উদ্দেশ্যটি হচ্ছে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে যখন পূর্ণবয়স্ক হয় তখন তাদের মধ্যে সম্পর্ক (বিয়ে) হলে নতুন একটি শিশুর জন্ম হতে পারে যেন সে কারণেই ছেলে এবং মেয়ের শারীরিক গঠনে পার্থক্য দেখা যায়। তোমরা কেন ঝগড়া কর? পিতামাতা যখন ঝগড়া করে তখন সন্তানরা অবচেতনভাবেই নিজেদের দোষী মনে করে। শিশুকে এটা বোঝান যে বাবা-মায়ের ঝগড়া-ঝাটি তাদের জন্য হচ্ছেনা। মতের মিল না হলেই একজন মানুষ আরেকজনের সাথে ঝগড়া করে। শিশুরা যেমন ঝগড়া করে তেমনি বড়রাও ঝগড়া করতে পারে। কিন্তু আমরা একে অপরকে ভালোবাসি এবং তোমাকেও ভালোবাসি। উনি এতো মোটা কেন? যদি পাবলিক প্লেসে অস্বাভাবিক গড়নের কোনো মানুষকে দেখে আপনার শিশু সন্তানটি প্রশ্ন করে তাহলে তাকে চুপ করিয়ে দেবেন না। তাকে বলুন যে, ‘প্রতিটা মানুষই আলাদা। মানুষ মোটা, শুকনো, লম্বা বা খাটো হতে পারে। কখনো কখনো অসুস্থতার কারণেও মানুষের দেহের আকার পরিবর্তিত হতে পারে। তুমি এটা বললে তারা কষ্ট পাবে। তাই কখনো কারো সামনে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে এ রকম প্রশ্ন করবেনা। যদি তোমার মনে প্রশ্ন জাগে তাহলে আমাকে জিজ্ঞেস করবে। আমরা যখন একা থাকব তখন আমি তোমাকে বুঝিয়ে বলবো। তুমি কাকে বেশি ভালোবাসো আমাকে নাকি আমার বোনকে? পিতামাতার আদর পাওয়া নিয়ে সহোদরদের মধ্যে সবসময় প্রতিযোগিতা হয়। তাই পিতামাতার কখনোই উচিত নয় তাদের সন্তানদের একজনের উদাহরণ অন্যজনকে দেয়া অথবা এটা বলা যে ওকে আমি বেশি ভালোবাসি কারণ ও স্কুলে ভালো রেজাল্ট করে। বরং আপনি বলুন যে, তুমি ভিন্ন এবং তোমাদের প্রত্যেকের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ভিন্ন রুপে প্রকাশ পায়। কিন্তু আমরা তোমাদের দুজনকেই সমান ভালোবাসি। ডাক্তার কী আমাকে ব্যথা দেবেন? চিকিৎসক তোমাকে ব্যথা দিতে চান না। তাদের কাজই হচ্ছে জীবাণু ও অসুস্থতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। হয়তো তুমি ব্যথা পেতেও পারো। কিন্তু এটা ছাড়া তুমি সুস্থ হবেনা। যখন আমি অসুস্থ হয়েছিলাম তখন আমাকেও ইনজেকশন নিতে হয়েছে। আমি ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু তারপরও আমি এটা সহ্য করেছি এবং তুমিও পারবে। আমি কী মারা যাবো? তুমিও কী মারা যাবে? মৃত্যু নিয়ে শিশুর কাছে মিথ্যা বলবেন না, তারা সত্যটি গ্রহণ করতে পারে। ‘মানুষ, জীবজন্তু এমনকি ফুলও একদিন মারা যায়। এটা প্রকৃতিরই একটি নিয়ম। তাই আমরাও একদিন মারা যাবো। তবে খুব তাড়াতাড়ি নয়। আমি যখন অনেক বুড়ো হয়ে যাবো তখন আমি মারা যাবো। তুমিও আমাদের মত বড় হবে। তোমারও সন্তান হবে। তারা যখন বড় হবে তখন তুমি বুড়ো হবে এবং একদিন তোমাকেও চলে যেতে হবে। কিন্তু তুমি একটি সুন্দর জীবন অতিবাহিত করবে। তুমি আমাকে রেখে কাজে চলে যাও কেন? আপনাকে কেন চাকরি করতে হয় তা বুঝিয়ে বলুন। ‘আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে চাইনা, কিন্তু আমার কাজটি আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা আমাকে করতেই হবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমি যখন ফিরে আসি তখন আমরা যখন একে অন্যকে দেখি তখন আমারা দুজনেই আনন্দিত হই। চল আমাদের জিনিস অদলবদল করি, তুমি আমার ব্রেসলেট রাখো আর আমি তোমার একটা খেলনা নেই। আমরা যখন ভিন্ন জায়গায় থাকবো তখনো একে অন্যকে আদর করতে পারবো’। আমি কেন তোমার মতো পারিনা? পিতামাতা যা করবেন তার সবকিছুই সন্তান কপি করতে পারবেনা এটা তাকে বুঝতে হবে। ‘হ্যাঁ আমি ধূমপান করি এবং কম্পিউটারে কাজ করার কারণে অনেক দেড়িতে ঘুমাতে যাই। এটা আমার বদভ্যাস এবং আমি চাই এই অভ্যাসটি ত্যাগ করতে, কারণ আমি একজন আদর্শ মানুষ হতে চাই’। দৈত্য যদি আমাকে খেয়ে ফেলে কী হবে? শিশুর ভয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিন এবং তা দূর করার চেষ্টা করুন। কোনোভাবেই শিশুকে ভয় দেখাবেন না। বরং ভয়ের কোনো ঘটনা ঘটলে তাকে বুঝিয়ে বলুন আসল ঘটনা। যাতে সে আতঙ্কিত না হয়। সূত্র:ব্রাইট সাইড ডব্লিউএন
কাউকে দুঃসংবাদ দিবেন যেভাবে

কেউই কি দুঃসংবাদ আশা করে? করে না। তারপরও দুঃসংবাদ যখন মেনেই নিতে হবে তখন অন্য কোনো প্রসঙ্গ না টেনে বা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে না বলে সরাসরি বলে দিন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিগাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, কাউকে কোনো দুঃসংবাদ দিতে সরাসরি বলার চেষ্টা করতে হবে। দুঃসংবাদ সহজ সরলভাবে বলা হলে অধিকাংশ মানুষ সহজে মেনে নিতে পারে। তারা সরাসরি কথা বলাটাকেই বেশি পছন্দ করে। ব্রিগাম ইয়ং ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাপক অ্যালান ম্যানিং বলেন, ‘যদি আপনার ঘরে আগুন লাগে তাহলে অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে। প্রাণ বাঁচাতে আপনে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে হবে। আবার আপনার যদি ক্যান্সার হয় তাহলে অবশ্যই তা জানতে চাইবেন। ডাক্তারের সঙ্গে এই বিষয়ে খুব বেশি কথা বলতে চাইবেন না।’ গবেষণায় ১৪৫ জন অংশগ্রহণকারীকে বিভিন্ন ধরনের খারাপ খবর শোনার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি করানো হয়। তারা প্রতিটি পরিস্থিতিতে দুই ধরনের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া দেন। আর প্রতিটি খবর গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তারা কতটা স্পষ্ট, নির্দিষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত ছিলেন তা দেখা হয়। পাশাপাশি তাদের এই বৈশিষ্টগুলোকে মূল্যায়ন করা হয়। গবেষকরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অধিকাংশরাই স্পষ্ট ও সরাসরি কথা বলাটাকেই বেশি পছন্দ করেছেন। সূত্র : রয়টার্স। আর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি