ঢাকা, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২:১৫:০৫

ভালোবাসার সম্পর্ক ঠিক রাখতে …

ভালোবাসার সম্পর্ক ঠিক রাখতে …

কয়েকদিন পরেই আসছে ভালোবাসার দিবস। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন এই দিনে প্রিয় মানুষগুলো একত্রিত হওয়ার সুযোগ পায়। ভেঙে যাওয়া সম্পর্কও এই দিনে এসে জোড়া লেগে যায়। প্রিয় মানুষগুলোকে যেন কাছে আনিয়ে দেয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই কিছু সম্পর্ক যেন টিকে থাকতেই চায় না।  যতই চেষ্টা করুক না কেন কাছাকাছি আসতে বাধা পরে যায়। এর পিছনে বিভিন্ন কারণ অবশ্যই রয়েছে। তবে বদঅভ্যাসের কারণটা অন্যতম। দুজনের মধ্যে যদি কেউ একজন সবসময় বিরক্তিকর কাজ করে, সেই বিরক্তিকর কাজ অন্যজন দেখতে দেখতে তার মনে প্রতিকূল সৃষ্টি হয়। এতে সম্পর্ক আর টিকে থাকা সম্ভব হয় না। তাই প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিরক্তিকর বদঅভ্যাসগুলো ত্যাগ করা উচিত। যেসব বদঅভ্যাসগুলো ত্যাগ করা উচিত সেগুলো একুশে টিভি অনলাইনে তুলে দেওয়া হলো- সাবেক প্রেমিক-প্রেমিকের কথা ত্যাগ করা   অনেকেই বর্তমান ভালোবাসার মানুষটির সামনে বার বার সাবেক প্রেমিক-প্রেমিকের কথা বলার অভ্যাস আছে। এতে আপনার ভালোবাসার মানুষটি বিরক্তবোধ করে। কেননা সে ভাবতে পারে আপনার সাবেক প্রেমিক-প্রেমিকাকে এখনও ভালোবাসেন। তাই তার সামনে এসব কথা বলবেন না। কথা না শোনা- ভালোবাসার সম্পর্ক ঠিক রাখতে হলে প্রেমিক-প্রেমিকাকে উভয়কেই ভালো শ্রোতা হতে হবে। সে যা বলছে এবং যা করতে বলছে তা যদি আপনি না করেন তাহলে সে ভাবতে পারে আপনি তাকে এড়াতে চাইছেন। এতে আপনার কাছ থেকে সে সরে যাওয়ার চেষ্টা করবে। দূরত্বের সৃষ্টি হবে। তাই আপনি তার কথা শোনার চেষ্টা করবেন। অতিরিক্ত খবরদারী না করা- আপনার প্রেমিক-প্রেমিকা কি করছে, কি খাচ্ছেন, কোথায় যাচ্ছেন এসব প্রশ্ন করা অবশ্যই আপনার দায়িত্ব। তবে বাড়তি খবরদারী করতে যাবেন না। যেমন- তার সঙ্গে মিশা যাবে না, সেখানে যাওয়া যাবে না, তার সঙ্গে কথা বলা যাবে না এই ধরনের আচরণ করলে আপনার সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তাই কৌশলে চলুন এবং অতিরিক্ত খবরদারী করা বন্ধ করুন। অন্যের সঙ্গে তুলনা করা- আপনি সবসময় নিজের প্রেমিক-প্রেমিকার প্রশংসা করবেন। কখনই অন্যের প্রশংসা তার সামনে তুলে ধরবেন না। এতে সে খুব মন খারাপ করবে। এমনকি সে ভাববে তার ওপর ভালোবাসা উঠে গেছে। এতে সম্পর্ক ভেঙে যাবে। তাই অন্যের তুলনা করবেন না। কথায় কথায় অতীত টেনে আনবেন না- তুমি এই কাজটি করেছিলে, তুমি ওই কথাটা বলেছিলে এই ধরণের কথাবার্তা আপনার ভালোবাসার মানুষটির কাছে আপনাকে শুধু বিরক্তিকর হিসেবে উপস্থাপন করে। তাই কথায় কথায় অতীত টেনে এনে সম্পর্ক নষ্ট করবেন না।     /কেএনইউ/ এসএইচ/  
অতিরিক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহারে ক্যান্সারের ঝুঁকি

মুখের দুর্গন্ধ ও এর ভিতরের সংক্রামণ দূর করতে সাধারণত মাউথওয়াশ ব্যবহার করা হয়। তবে মাউথওয়াশ ব্যবহারে কিছু ঝুঁকির কথা সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের গবেষকরা জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, মাউথওয়াশ দারুণ কার্যকরী হলেও এটি পক্ষান্তরে বাড়িয়ে দিতে পারে হার্ট অ্যাটাকের মত ভয়ংকর রোগ। তারা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, মুখের ভিতরে থাকা ক্ষতিকর ব্যকটেরিয়া যেমন মেরে ফেলে তেমনি কিছু উপকারি ব্যকটেরিয়াগুলোকেও মেরে ফেলে। গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, অতিরিক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহারে বাড়তে পারে মুখ ও গলার ক্যানসারের ঝুঁকি৷ যারা দিনে অনন্ত তিন বা তার বেশি সংখ্যক বার মাউথওয়াশ ব্যবহার করেন তাদের ক্ষেত্রেই ওই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি৷ গবেষণায় দেখা গেছে, মুখের খারাপ স্বাস্থ্য ও নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ বাড়ানোর ফলেও মুখ ও গলায় ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়৷ জার্মানির বেরমেন ইন্সটিটিউট ফর প্রিভেনশন রিসার্চ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক উল্ফগ্যাঙ্গ অ্যাহরেন্স জানিয়েছেন, মাউথওয়াশের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলেই মূলত এই ধরনের ক্যান্সারে কোষের বৃদ্ধি হতে দেখা যায়। তবে এর জন্য আরও বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন৷ এছাড়াও গবেষণায় দেখা যায়, মাইথওয়াশ মদ জাতীয় দ্রব্যের থেকেও বেশি ক্ষতিকর৷ মদ সেবনের তুলনায় মাইথওয়াশ ব্যবহারে ওরাল ক্যান্সারের সম্ভাবনা ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়৷ তথ্যসূত্র : কলকাতা ২৪। /কেএনইউ/এসএইচ

সন্তানের সামনে নেতিবাচক আচরণ নয়

শিশুরা অনুকরণ প্রিয় হয়। বড়দের দেখেই অনেক কিছুই শিখে থাকে। তাই সন্তানের সামনে দুঃখ-কষ্ট বা হাসি-আনন্দ যা-ই করুন না কেন সেটাই তার ওপর প্রভাব পড়বে। সুতরাং শিশুদের সামনে কোন রকম নেতিবাচক কিছু কথা বা ব্যবহার করা যাবে না। তাহলে সেও নেতিবাচক হয়ে যাবে। তারা যেটা করতে চাইছে না সেটা জোর করে করানো যাবে না। এতে তার জেদি হয়ে উঠবে। অনেক সময় সন্তানরা ছোটখাট ভুল করে থাকে, তাই বলে তাকে ধমক দিলে তার মানসিক দিকে নেগেটিভ হয়ে পড়তে পারে। এ কারণে ওই কাজটি করা যাবে না। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তার সঙ্গে ইতিবাচক ব্যবহার করতে হবে। সন্তানের সামনে যেটা তুলে ধরা হবে সেটাই শিখবে। কোন বিষয়ে অবহেলা করলে সে কষ্ট পাবে। আর উৎসাহ দিলে সে আগ্রহী হয়ে উঠবে। সন্তানের সামনে যেসব ‍তুলে ধরা যাবে না সেগুলো একুশে টিভি অনলাইনের পাঠকদের জন্য দেওয়া হলো- ১) আপনার সন্তানকে কোন বিষয়ে উপযোগী করার জন্য সেই বিষয়ে তাকে সবসময় মেজাজ দেখাচ্ছেন, এতে সন্তানের ক্ষতি হতে পারে। এমনকি সন্তান বদমেজাজী হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং মেজাজ না দেখিয়ে আন্তরিকতা দেখাতে হবে। সবসময় পজেটিভ বা ইতিবাচক কথা বলতে হবে। ২) সন্তান কোন একটি বিষয়ে অপরাধ করেছে সেই অপরাধের কথা আপনি সন্তানের বাবার কাছে নালিশ করবেন কিংবা তার টিচারের কাছে নালিশ করবেন এমনটি শোনালে সে নেতিবাচক আচরণ করতে পারে। এ বিষয়ে একটু সতর্ক থাকবেন। ৩) আপনার সন্তান পড়াশোনায় একটু খারাপ কিংবা রেজাল্ট একটু খারাপ করেছে এ বিষয়ে কখনই তাদের সামনে বলা যাবে না যে সে খারাপ। এতে পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ কমে যাবে। ৪) আপনার সন্তান দেখতে সুন্দর হোক বা না হোক তান সমানে কখনই বলা যাবে না সে অসুন্দর। তার সামনে সমসময় গুণগুলো তুলে ধরবেন। কখনই খারাপ দিকটা বলবেন না। ৫) শিশুর সামনে কখনই তার খারাপ স্বাস্থ্য নিয়ে কথা তুলবেন না। আপনি নিজ দায়িত্বে তাকে সঠিক খাবার খেতে দিবেন। সন্তানের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে যাতে কোন ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য তার সামনে কখনও নেতিবাচক কথা বলা যাবে না। না হলে সন্তান দুশ্চিন্তা করবে এবং নিজেকে খুব অসহায় মনে করবে। সূত্র : কলকাতা টুয়েন্টিফোর।   /কেএনইউ/এসএইচ         

‘১৮ বছরের নিচে সন্তানকে স্মার্ট ফোন নয়’

প্রযুক্তি মানুষের জীবনটা কিছুটা হলেও সহজ করছে। শিশু আধো আধো কথা বলা থেকে শুরু করে পরিপূর্ণ শব্দ বা বাক্য শিখছে- এখন ট্যাব বা স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে। একসময় শিশুরা মায়ের চোখে চোখে রেখে শব্দ বা বাক্য শিখত, এখন এটা চলে গেছে স্মার্ট ফোনের দখলে। দিনে দিনে শিশুরা স্মার্টফোনে আসক্ত হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এটা প্রযুক্তির প্রসার বললেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, যেসব কিশোর-কিশোরী স্মার্টফোন বা ইন্টারনেটে বেশি সময় কাটায় তাদের মস্তিষ্কে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, যা দেখে বোঝা যায় তাদের এ বিষয়ে আসক্তি রয়েছে। স্মার্টফোন আসক্তি আর মাদক আসক্তি একই রকম। ফলে শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহার করতে না দিলে তাদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। এমনকি এর আসক্তির কারণে সম্প্রতিক আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৮ বছরের বয়সের কম শিশু-কিশোরদের হাতে স্মার্টফোন না দেওয়া উচিত। এটা প্রতিকারে অভিভাবকদের সচেতন হতেও পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। উন্নত দেশেগুলোতে ১৮ বছরের কম বয়সীদের স্মার্টফোন আসক্তি প্রতিকারে বিভিন্ন গেম ও কোচিং সেন্টার চালু হয়েছে। প্রযুক্তির এমন বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি বুঝতে পেরে বিল গেটস, স্টিভ জবসের মতো প্রযুক্তি জগতের কর্ণধাররা নিজেদের সন্তানকে প্রযুক্তি থেকে দূরে রেখেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফাতেমা রেজিনা পারভীন একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, শিশুরা অতিমাত্রায় স্মার্টফোনে আসক্ত হওয়ার কারণে অপরাধমূলক কাজ সমাজের নানা স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। সমাজে নৈতিকতা ও মূলবোধ অভাব দেখা দিয়েছে। বাড়ছে খুন-ধর্ষণের মতো ঘটনা। অল্প বয়সে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট আসক্তির কারণে শিশুরা মা, বাবা থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। ফলে যে বিষয়গুলো শিশুরা মা, বাবা, ভাই, বোন থেকে শিখে নেওয়ার কথা ছিল, তা পারছে না। ফলে তারা কুশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। অল্প বয়সে চোখে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের কানে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শিশুরা অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যাচ্ছে। অনেকের আবেগ ও অনুভূতি কমে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো এখনকার ছেলে মেয়েরা বই পড়ে না। আমাদের অনেক সময় বই পড়ে পার করতাম। এখনকার শিশুরা বই থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা বইকে বিনোদন মনে করে না। স্মার্টফোনে আসক্ত হাওয়ার কারণে তারা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। শিশুরা মূল্যবোধ বিসর্জন দিয়ে প্রযুক্তিকে তাদের ভোগ ও আয়েশের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এর প্রতিকার হিসেবে ইন্টারনেট ও অনন্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইন প্রয়োগ ও তার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমস্যা অনেকটা লাঘব করা সম্ভব। পাশাপাশি পরিবারের অপ্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের ওপর বড়দের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।  এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, ১৮ বছরের আগে শিশু কিশোরদের স্মার্টফোন ব্যবহার আগামী প্রজন্মের জন্য হুমকিস্বরূপ। ইতোমধ্যে যারা আসক্তি হয়েছে, তাদের অভিভাবকদের অনেক সচেতনতার সঙ্গে এ থেকে বিরত রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে মা-বাবা উভয়ের উপস্থিতিতে আন্তরিকভাবে সমস্যার কথা তুলে ধরা উচিত। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে গেলে অনেক সময় সন্তান আপনার মতামতের সঙ্গে এক না হয়ে উল্টো আপনাকে দোষারূপ করতে পারে, সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করে মা-বাবার কিছু ছাড় দেওয়ার মানসিকতাও থাকতে হবে। সমস্যা আলোচনা করার পূর্বে যদি আপনি সন্তানের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন, তা সন্তানের মনোযোগ আকর্ষণ করতে অনেকাংশে সহায়তা করবে। আপনি যে তার সুখ এবং মঙ্গল কামনাকারী, তাকে তা বুঝাতে হবে। তাদের ইন্টারনেট ব্যবহার করা হুট করেই বন্ধ করা যাবে না। বলতে হবে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে; কিন্তু কি পরিমাণ সময় ব্যয় করছে এবং কি কাজে সে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে- তা জানাতে হবে। এভাবে নজরদারিতে রাখলে আশা করা যায়, এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। /ডিডি/ এআর

শিশুদের বিব্রতকর প্রশ্নের উত্তর দিবেন যেভাবে

শিশুরা খুই কৌতূহল প্রবণ। কখনো কখনো তারা এমন প্রশ্ন করে যা শুনে আপনি বুঝতে পারেন না হাসবেন না কাঁদবেন। কিন্তু শিশুরা তাদের প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় এবং তাদের জানানোও প্রয়োজন। শিশুরা অবহেলা পছন্দ করেনা, তাদেরকে মিথ্যে বলাও উচিত নয় এবং তাদের শিশুসুলভ আচরণের জন্য হাসাহাসি করাও উচিত নয়। আসুন জেনে নিই শিশুদের কয়েকটি বিব্রতকার প্রশ্নের উত্তর দেবেন যেভাবে- আমি কোথা থেকে এসেছি? এই বিষয়ে শিশুকে কোনো আজগুবি কথা না বলে আসল কথাটা খুলে বলা উচিত। যেমন – বাবা-মায়ের ভালোবাসার ফলে সে মায়ের গর্ভে এসেছে। মায়ের পেটে সে অনেকদিন থাকার পরে যখন বড় হয়েছে তখন সে জন্মগ্রহণ করেছে। ছেলে এবং মেয়ে কেন আলাদা? শিশুরা তাদের জননাঙ্গ নিয়ে উৎসাহিত হবে এটাই স্বাভাবিক। তাই তাকে বলুন ছেলে এবং মেয়ের পার্থক্য হওয়ার কারণ সৃষ্টিগত এবং এর একটি উদ্দেশ্য আছে। আর উদ্দেশ্যটি হচ্ছে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে যখন পূর্ণবয়স্ক হয় তখন তাদের মধ্যে সম্পর্ক (বিয়ে) হলে নতুন একটি শিশুর জন্ম হতে পারে যেন সে কারণেই ছেলে এবং মেয়ের শারীরিক গঠনে পার্থক্য দেখা যায়। তোমরা কেন ঝগড়া কর? পিতামাতা যখন ঝগড়া করে তখন সন্তানরা অবচেতনভাবেই নিজেদের দোষী মনে করে। শিশুকে এটা বোঝান যে বাবা-মায়ের ঝগড়া-ঝাটি তাদের জন্য হচ্ছেনা। মতের মিল না হলেই একজন মানুষ আরেকজনের সাথে ঝগড়া করে। শিশুরা যেমন ঝগড়া করে তেমনি বড়রাও ঝগড়া করতে পারে। কিন্তু আমরা একে অপরকে ভালোবাসি এবং তোমাকেও ভালোবাসি। উনি এতো মোটা কেন? যদি পাবলিক প্লেসে অস্বাভাবিক গড়নের কোনো মানুষকে দেখে আপনার শিশু সন্তানটি প্রশ্ন করে তাহলে তাকে চুপ করিয়ে দেবেন না। তাকে বলুন যে, ‘প্রতিটা মানুষই আলাদা। মানুষ মোটা, শুকনো, লম্বা বা খাটো হতে পারে। কখনো কখনো অসুস্থতার কারণেও মানুষের দেহের আকার পরিবর্তিত হতে পারে। তুমি এটা বললে তারা কষ্ট পাবে। তাই কখনো কারো সামনে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে এ রকম প্রশ্ন করবেনা। যদি তোমার মনে প্রশ্ন জাগে তাহলে আমাকে জিজ্ঞেস করবে। আমরা যখন একা থাকব তখন আমি তোমাকে বুঝিয়ে বলবো। তুমি কাকে বেশি ভালোবাসো আমাকে নাকি আমার বোনকে? পিতামাতার আদর পাওয়া নিয়ে সহোদরদের মধ্যে সবসময় প্রতিযোগিতা হয়। তাই পিতামাতার কখনোই উচিত নয় তাদের সন্তানদের একজনের উদাহরণ অন্যজনকে দেয়া অথবা এটা বলা যে ওকে আমি বেশি ভালোবাসি কারণ ও স্কুলে ভালো রেজাল্ট করে। বরং আপনি বলুন যে, তুমি ভিন্ন এবং তোমাদের প্রত্যেকের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ভিন্ন রুপে প্রকাশ পায়। কিন্তু আমরা তোমাদের দুজনকেই সমান ভালোবাসি। ডাক্তার কী আমাকে ব্যথা দেবেন? চিকিৎসক তোমাকে ব্যথা দিতে চান না। তাদের কাজই হচ্ছে জীবাণু ও অসুস্থতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। হয়তো তুমি ব্যথা পেতেও পারো। কিন্তু এটা ছাড়া তুমি সুস্থ হবেনা। যখন আমি অসুস্থ হয়েছিলাম তখন আমাকেও ইনজেকশন নিতে হয়েছে। আমি ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু তারপরও আমি এটা সহ্য করেছি এবং তুমিও পারবে। আমি কী মারা যাবো? তুমিও কী মারা যাবে? মৃত্যু নিয়ে শিশুর কাছে মিথ্যা বলবেন না, তারা সত্যটি গ্রহণ করতে পারে। ‘মানুষ, জীবজন্তু এমনকি ফুলও একদিন মারা যায়। এটা প্রকৃতিরই একটি নিয়ম। তাই আমরাও একদিন মারা যাবো। তবে খুব তাড়াতাড়ি নয়। আমি যখন অনেক বুড়ো হয়ে যাবো তখন আমি মারা যাবো। তুমিও আমাদের মত বড় হবে। তোমারও সন্তান হবে। তারা যখন বড় হবে তখন তুমি বুড়ো হবে এবং একদিন তোমাকেও চলে যেতে হবে। কিন্তু তুমি একটি সুন্দর জীবন অতিবাহিত করবে। তুমি আমাকে রেখে কাজে চলে যাও কেন? আপনাকে কেন চাকরি করতে হয় তা বুঝিয়ে বলুন। ‘আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে চাইনা, কিন্তু আমার কাজটি আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা আমাকে করতেই হবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমি যখন ফিরে আসি তখন আমরা যখন একে অন্যকে দেখি তখন আমারা দুজনেই আনন্দিত হই। চল আমাদের জিনিস অদলবদল করি, তুমি আমার ব্রেসলেট রাখো আর আমি তোমার একটা খেলনা নেই। আমরা যখন ভিন্ন জায়গায় থাকবো তখনো একে অন্যকে আদর করতে পারবো’। আমি কেন তোমার মতো পারিনা? পিতামাতা যা করবেন তার সবকিছুই সন্তান কপি করতে পারবেনা এটা তাকে বুঝতে হবে। ‘হ্যাঁ আমি ধূমপান করি এবং কম্পিউটারে কাজ করার কারণে অনেক দেড়িতে ঘুমাতে যাই। এটা আমার বদভ্যাস এবং আমি চাই এই অভ্যাসটি ত্যাগ করতে, কারণ আমি একজন আদর্শ মানুষ হতে চাই’। দৈত্য যদি আমাকে খেয়ে ফেলে কী হবে? শিশুর ভয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিন এবং তা দূর করার চেষ্টা করুন। কোনোভাবেই শিশুকে ভয় দেখাবেন না। বরং ভয়ের কোনো ঘটনা ঘটলে তাকে বুঝিয়ে বলুন আসল ঘটনা। যাতে সে আতঙ্কিত না হয়। সূত্র:ব্রাইট সাইড ডব্লিউএন

কাউকে দুঃসংবাদ দিবেন যেভাবে

কেউই কি দুঃসংবাদ আশা করে? করে না। তারপরও দুঃসংবাদ যখন মেনেই নিতে হবে তখন অন্য কোনো প্রসঙ্গ না টেনে বা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে না বলে সরাসরি বলে দিন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিগাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, কাউকে কোনো দুঃসংবাদ দিতে সরাসরি বলার চেষ্টা করতে হবে। দুঃসংবাদ সহজ সরলভাবে বলা হলে অধিকাংশ মানুষ সহজে মেনে নিতে পারে। তারা সরাসরি কথা বলাটাকেই বেশি পছন্দ করে। ব্রিগাম ইয়ং ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাপক অ্যালান ম্যানিং বলেন, ‘যদি আপনার ঘরে আগুন লাগে তাহলে অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে। প্রাণ বাঁচাতে আপনে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে হবে। আবার আপনার যদি ক্যান্সার হয় তাহলে অবশ্যই তা জানতে চাইবেন। ডাক্তারের সঙ্গে এই বিষয়ে খুব বেশি কথা বলতে চাইবেন না।’ গবেষণায় ১৪৫ জন অংশগ্রহণকারীকে বিভিন্ন ধরনের খারাপ খবর শোনার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি করানো হয়। তারা প্রতিটি পরিস্থিতিতে দুই ধরনের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া দেন। আর প্রতিটি খবর গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তারা কতটা স্পষ্ট, নির্দিষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত ছিলেন তা দেখা হয়। পাশাপাশি তাদের এই বৈশিষ্টগুলোকে মূল্যায়ন করা হয়। গবেষকরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অধিকাংশরাই স্পষ্ট ও সরাসরি কথা বলাটাকেই বেশি পছন্দ করেছেন। সূত্র : রয়টার্স। আর

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি