ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০, || চৈত্র ২৪ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

অর্থ সংকটে চিকিৎসা করাতে পারছেন না বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক

প্রকাশিত : ১৯:৪৯ ২৯ অক্টোবর ২০১৮ | আপডেট: ২০:৩৫ ২৯ অক্টোবর ২০১৮

সারা জীবন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র পড়িয়েছেন। ছবি এঁকেছেন। ছবির প্রদর্শনী, গ্যালারী এসব নিয়ে কাজ করেছেন। মুক্তচিন্তা মুক্তবুদ্ধির প্রসারে সাধনা করেছেন। জীবনে কখনো কোন জটিলতাকে প্রশ্রয় দেননি। অন্যায়ভাবে আয় করেন নি একটি টাকাও। অথচ সেই তিনি আজ জীবন যুদ্ধে পরাজিত আহত সৈনিক।

বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের কর্মরত অধ্যাপক গোলাম ফারুকের কথা। সমসাময়িক কালে দেশে যারা চিত্রকলা নিয়ে কাজ করছেন তাদের অন্যতম তিনি। ছাপচিত্রে এই মুহুর্তে তাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন কেউ কেউ। শিল্পী মর্তুজা বশীরের এই গুণী ছাত্র সারা জীবন রং তুলিতে মানুষের কষ্টের চিত্র তুলে ধরলেও আজ তিনিই তিনি কষ্টের সাগরে ডুবে আছেন। প্রতিযোগিতাময় এ সমাজে তার দিকে তাকানোর সময় কারো নেই। শুধু টাকার অভাবে আটকে আছে এই গুণী শিল্পী- শিক্ষকের চিকিৎসা।

শিল্পী অধ্যাপক গোলাম ফারুক ১৯৫৮ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ভাই-বোন ছিলেন দশ জন। স্কুল শিক্ষক বাবা চেয়েছিলেন ছেলে উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা হোক। প্রাচুর্য্যের পেছনে ছুটুক। কিন্তু গোলাম ফারুক ছবিকে ভালবেসে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। প্রিন্ট ম্যাকিং গ্রুপে তিনি প্রথম ব্যাচের ছাত্র। শিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন মর্তুজা বশীর, আমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ কিবরিয়া, শফিউদ্দিন আহমেদ, আবুল বারাক আলভী -এর মতো দেশ বরণ্য শিল্পীদের।

গোলাম ফারুকের জীবনটাও ব্যস্ত ও কর্মময়। ১৯৭৮ সালে তরুণ বয়সেই তিনি জাতীয় পুরুস্কার পান। পদক, সম্মাননা, প্রদর্শনী, ফেলোশীপ, ওয়ার্কশপ- সব মিলিয়ে তিনি সারাজীবনই তিনি ছুটেছেন কাজের পেছনে। আপাদমস্তক এ শিল্পী শিল্পের ছোঁয়ায় পৃথিবীকে রাঙাতে চাইলেও নিজের জীবনটা শৈল্পিক হয়নি। আর তাই হয়তো টাকার অভাবে আটকে গেছে তার চিকিৎসা। অভাবের বিশাল দরজা দিয়ে দৈত্যাকারে ধেয়ে আসছে মৃত্যু।

২০১৬ সালে প্রথম অধ্যাপক গোলাম ফারুকের হার্টে ব্লক ধরা পড়ে। সেই বছর জুলাই মাসে তার বাইপাস সার্জারী হয়। সম্প্রতি তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভারতের চেন্নাইতে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। তখন ডাক্তাররা জানান, তার দুটো কিডনীই অকেজো হয়ে গেছে। গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মতো একই সময়ে তার ব্রেন স্ট্রোক হয়। কিন্তু টাকার অভাবে এই প্রবীন অধ্যাপক চিকিৎসা না করিয়েই দেশে ফিরে আসেন।

শারীরিক অবস্থার আরো অবনতির প্রেক্ষাপটে এই গুণী শিল্পীকে নিয়ে যাওয়া হয় স্কয়ার হাসপাতালে। বর্তমানে তিনি একই সঙ্গে প্যারালাইসিস, নিউমোনিয়াসহ আরো কয়েকটি রোগে আক্রান্ত। পাশাপাশি হাঁটুর রগে ব্লক ধরা পড়েছে। ফলে পা ধীরে ধীরে কার্যকারিতা হারাচ্ছে।

অধ্যাপক গোলাম ফারুক- এর মেয়ে সাদিয়া আমরিন লিউনি জানান, বিকল হয়ে যাওয়া কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে শুধুমাত্র অপারেশন খরচ হবে সতের লাখ টাকা। এছাড়া কিডনীর আলাদা মূল্য ও অন্যান্য খরচ তো রয়েছেই।

অধ্যাপক গোলাম ফারুক বর্তমানে স্কয়ার হসপিটালে নেফ্রোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. এমএ ওহাব খানের অধীনে চিকিৎসাধীন আছেন।

তিনি জানান, অনেকগুলো রোগের চিকিৎসার ব্যয় ভার মেটাতে গিয়ে প্রতিমাসে এই শিল্পীর খরচ হয় একলাখ টাকা।

শিল্পী ও অধ্যাপক গোলাম ফারুক-এর স্ত্রী কামরুন্নাহার স্বপ্না জানান, ভারতের চেন্নাইতে যাওয়া, বাইপাস সব মিলিয়ে গত সাত মাসে খরচ হয়েছে তেইশ লাখ টাকা। এবং পুরো টাকাটাই ঋণের টাকা।

তিনি আরও জানান, `তিনি (অধ্যাপক গোলাম ফারুক) কখনো টাকা জমাননি বা জমানোর সুযোগও তার ছিল না। যেহেতু তিনিই একমাত্র কর্মক্ষম ছিলেন, তাই ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার খরচ থেকে শুরু করে তিনিই চালিয়েছেন। আমরা শুধু ঋণে জর্জরিত হচ্ছি তাই নয় বরং তিনি সুস্থ না হলে এক পর্যায়ে ছেলে মেয়ে নিয়ে আমার রাস্তায় নামা ছাড়া উপায় থাকবে না।

এই প্রতিবেদকের সামনে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অধ্যাপক গোলাম ফারুক। তিনি বলেন, আমি আবার ছবি আঁকতে চাই। একজন শিল্পী হিসেবে শিল্পের ক্ষুধা আমার মেটেনি। আমি সেই ক্ষুধা মেটাতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিকতা ও উদারচিত্তের কারণে বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছেন। অধ্যাপক গোলাম ফারুক- এর এই বিপদের দিনে প্রধানমন্ত্রীর ভালবাসাই পারে পরিবারটিকে রক্ষা করতে। প্রধানমন্ত্রীর মানবিকতার তালিকায় অধ্যাপক গোলাম ফারুক হবেন নতুন সংযোজন এটিই প্রত্যাশা।

ভিডিও: https://youtu.be/OrYpBwwa8oc

আ আ//

New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি