ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০১৯, || শ্রাবণ ৮ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

খানজাহান আলীর মাজারে তিন দিনব্যাপী মেলা

প্রকাশিত : ২০:১৬ ২০ মার্চ ২০১৯

বাগেরহাটে পীর হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-র মাজারে তিন দিনব্যাপী মেলা শুরু হয়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এ মেলা শুরু হল।

বুধবার (২০ মার্চ) ফজরের নামাজ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার শুরু হয়েছে। চলবে ২২ মার্চ (শুক্রবার) রাত পর্যন্ত। সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার নারী পুরুষ মাজারে জড়ো হতে শুরু করেছে। এসব ভক্ত ৩ দিন অবস্থান করবে মাজারে। নিজের মনোবাসনা পূরণের আশায় খোদার আরাধনায় মগ্ন থাকবেন তারা। এ তিনদিন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে লালন, মুর্শিদী, ভাটিয়ালী ও বিভিন্ন আধ্মাতিক গান পরিবেশন করবেন ভক্তরা। রাতভর লোকে-লোকারন্য থাকবে মাজার প্রাঙ্গণ। আগত ভক্তদের বিশ্বাস এখানে এসে দোয়া করলে যে কোন সমস্যার সমাধান মেলে।

প্রায় সাড়ে ছয়’শ বছর ধরে হযরত খানজাহান (রহ.) মাজারে এই মেলা চলে আসছে। এবার মেলায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। এছাড়া পুলিশের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছে।

মেলায় আসা টাঙ্গাইলের খোকন হাওলাদার বলেন, অনেকদিন ধরে মাজারের মেলার গল্প শুনে আসছি। অনেকবার চেষ্টা করছি আসার, কিন্তু গতকাল সিদ্ধান্ত নিয়ে চলে আসলাম। দেখলাম, খুব ভাল লাগল।

শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম ও তানজিম আহমেদ বলেন, মেলার প্রস্তুতির খবর শুনেই মাজার প্রাঙ্গণে আসলাম। অসাধারণ সাজগোজ দেখে খুব ভাল লাগ। রাতের আলোক সজ্জা আমাদের খুব আকর্ষণ করেছে।

মাজারের খাদেম মোস্তফা ফকির বলেন, মুরব্বীদের ধারণা মতে প্রায় সাড়ে ৬‘শ বছর ধরে এ মাজারে এই মেলা হয়ে আসছে। আধ্মাতিক জগতের গুরু পীর খানজাহানের অগনিত ভক্তরা দুর দুরান্ত থেকে এসে মাজার, দীঘিরপাড়সহ বিস্তৃর্ণ স্থানজুড়ে যে যার মত করে তাদের আসর বসান। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকল ভক্তের পদচারণায় মাজার প্রাঙ্গণ যেন এক মিলন মেলায় পরিণত হয়ে উঠে।

মাজারের প্রধান খাদেম শের আলী ফকির বলেন, প্রতিবছর চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই মেলা বসে। খানজাহানের হাজার হাজার ভক্ত তাদের নানা মনো বাসনা নিয়ে হাজির হন। তারা বিশ্বাস করেন খানজাহান এখানে কাউকে খালি হাতে ফিরান না। তাদের সব আশা পূরণ করেন খানজাহান। তাই সব সব ধর্মের মানুষ এই সময়ে হযরত খানজাহানের মাজারে মিলিত হন।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন,‘নিরাপত্তার স্বার্থে পূরো মেলায় পর্যাপ্ত পরিমান ক্লোজ সার্কিট ( সিসি) ক্যামেরা  স্থাপন করা হয়েছে। ভক্তদের নিরাপত্তা দিতে পর্যাপ্ত পরিমান পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন।

কেআই/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি