ঢাকা, সোমবার   ১৬ মার্চ ২০২৬

খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন, দিনাজপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:২০, ১৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৩, ১৬ মার্চ ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঈদের আগেই ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে সোমবার (১৬ মার্চ)। দিনাজপুরের কাহারোলে খাল খননের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এ উপলক্ষে সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল পৌনে ১১টায় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন তিনি।

প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হবে। আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় খাল খননের মাধ্যমে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

একইসঙ্গে আরও ৫৩টি জেলায় মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ ও সংসদ সদস্যগণ সংশ্লিষ্ট জেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

কৃষি প্রধান দেশ হলেও, অনুন্নত কৃষি ব্যবস্থাপনা আর নদী-খাল শুকিয়ে যাওয়ায় দিনদিন ধ্বংস হচ্ছে কৃষিখাত। কৃষি সেচ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় চলবে এই কর্মসূচি।  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিয়াউর রহমানের সফল উদ্যোগ থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে টেকসই ও আধুনিকভাবে খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ করলে কৃষি বিপ্লব ঘটবে। তবে বাস্তবায়নে পড়তে হবে চ্যালেঞ্জে।

গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্যে ১৯৭৭ সালে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। লক্ষ্য ছিলো বর্ষকালের অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে, শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সে সময় সারা দেশে ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন করেন তিনি। শুধু তাই নয়, স্থানীয় জনগণকে সরাসরি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে জিয়াউর রহমান চালু করেন কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেই খাল খনন প্রকল্প দেশের কৃষি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত চাল বিদেশেও রফতানিও শুরু হয়। তবে কালের পরিক্রমায় দখল, ভরাট ও অপরিকল্পিত উন্নয়নে হারিয়ে গেছে অনেক খাল। এতে অনেক এলাকায় দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা, আবার কোথাও শুষ্ক মৌসুমে দেখা দেয় তীব্র পানির সংকট।

এমন বাস্তবতায় সরকার গঠনের পর বাবার দেখানো পথে আবারও খাল পুনরুদ্ধার ও খনন কাজ শুরু করেছে বিএনপি। সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবে সরকার। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খাল পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ফসল ও কৃষি উৎপাদনের জন এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু পানি সেচ নয়, পানি নিষ্কাশনেরও ব্যবস্থা করতে হবে। জলাবদ্ধতা দূর করতে হবে। যে অর্থ সরবরাহ করা হবে, তা আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে কল্যাণ বয়ে আনবে।

শুধু খাল খনন করেলেই হবে না রক্ষণাবেক্ষণের দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,  আজ খাল খনন করলাম কাল বৃষ্টির পানিতে ভরে গেল, এটা যেন না হয়। খাল খনন যেন স্থায়ী হয়, টেকসই হয়। আধুনিক কৃষির জন্য খাল খনন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সব প্রকল্পে অনেক সময় অনেক দুর্বৃত্তায়নের অভিযোগ পাওয়া যায়। এটা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হারিয়ে যাওয়া খালগুলো আবার ফিরে এলে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বদলে যেতে পারে গ্রামবাংলার পানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার চিত্র।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি