ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ২৮ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

গরম ছ্যাঁকা দিয়ে পায়ে দাগ বানিয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা!

নড়াইল প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৬:০৪ ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | আপডেট: ১৬:০৭ ১৫ নভেম্বর ২০১৯

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার গোপীনাথপুরে অপপ্রচার ও তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে হুমকি-ধামকি দেয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আবুল খায়ের মোল্যা নামে এক ব্যক্তি। অভিযুক্ত যুবকের নাম শিহাব মল্লিক (২৮)।  

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে নড়াইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গোপীনাথপুর এলাকার আবুল খায়ের মোল্যা।

তিনি বলেন, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার এনামুল মল্লিকের ছেলে শিহাব মল্লিকের কাছে পাওনা তিন লাখ আট হাজার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে একই এলাকার মনিরুল মল্লিকদের অব্যাহত হুমকি দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ নভেম্বর বিকালে শিহাব মল্লিক ও তার মা বিউটি বেগম মনিরুলদের বাড়ির গেটে লাঠি দিয়ে প্রহার করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে মনিরুলের ভাই বদরুল মল্লিক ঘর থেকে বের হলে শিহাব মল্লিক তাকে (বদরুল) বেধড়ক মারধর করে। পরে বদরুলকে অচেতন অবস্থায় লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শিহাবের বিরুদ্ধে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করা হলে ৩ নভেম্বর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। পরবর্তীকালে শিহাব ৭ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরে আসে। শিহাব তার নিজের শরীর নিজেই বিভিন্ন প্রকার ছ্যাঁকা দিয়ে দাগের চিহ্ন বানিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পুলিশ এবং মামলার বাদী মনিরুলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ আনে। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। 

আবুল খায়ের মোল্যা বলেন, শিহাবকে গ্রেফতারের পর ৩ নভেম্বর যদি পুলিশ এবং বাদী নির্যাতন করে তাকে; তাহলে নির্যাতনের চারদিন পরে ৭ নভেম্বর অসুস্থ হওয়ার কথা নয়! কারাগারে থাকাকালীন অসুস্থ হওয়ার কথা। এছাড়া শিহাব মল্লিককে কারাগারে প্রেরণের আগে কোর্টহাজতে থাকা অবস্থায়ও আদালত সংশ্লিষ্ট কাউকে তার ওপর নির্যাতনের কোনও কথা বলেনি। বিষয়টি ডাহা মিথ্যা বলেই কোর্টে বা কারাগারের কাউকে জানায়নি শিহাবসহ তার পরিবার।

এদিকে, গত ৮ নভেম্বর শিহাব লোহাগড়া থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শিহাব কারাগার থেকে বাড়িতে আসার সময় লোহাগড়ার নিরিবিলি পিকনিক স্পটের সামনে তাকে বাদী মনিরুলসহ তার বড় ভাই বদরুল, ছোট ভাই খায়রুল ও মামলার সাক্ষী আবুল খায়ের মোল্যা তাকে (শিহাব) গাড়ি থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধরে জখম করে। অথচ ঘটনাস্থলের কেউ বিষয়টি জানেন না। অন্যদিকে, মনিরুল মল্লিক, বদরুল মল্লিক ও আবুল খায়ের মোল্যাসহ আমাদের পরিবারের সদস্যদের শিহাব ও তার পরিবার অব্যাহত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। কখনও প্রকাশ্যে, কখনও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার আমাদের হুমকি দিচ্ছে।

শিহাব মল্লিক নেশাগ্রস্থ ব্যক্তি বলে অভিযোগ করে আবুল খায়ের মোল্যা বলেন, শিহাব যে কোনও সময় আমাদের খুন জখম করতে পারে বলে আতঙ্কের মধ্যে আছি।     

‘শিহাব আমাদের হুমকি দিয়েছে, যেখানে যাকে পাবো, খুন করে টুকরো টুকরো করে কেটে বস্তা ভরে নবগঙ্গা নদীতে ভাসিয়ে দিবো। আবার ফেসবুকে কখনও হুমকি দিয়েছে, ‘আয় কাপুরুষরা সামনে আয়। এতদিন আমার ভালো রূপ দেখেছিস। এবার দেখবি ভিন্ন রূপ। মরব না হয় মারব। এটাই আমি সিহাব মল্লিক।’ আবার লিখেছে, ‘মামলা আগে একবার খাইছি সেটা মিটেছে গত পাঁচদিন আগে। বড়টা মেরেছিলাম, এবার ছোটটা আসছে দেশে; এ হচ্ছে আমার চিরো শত্রু খাইরুল।’

‘এছাড়া শিহাব মল্লিক তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে ফেসবুক ও ইমোর মাধ্যমে আমাদের অশ্লীল গালিগালাজ ও হুমকির পাশাপাশি বিভিন্ন আইডি হ্যাকড করে থাকে। ইতোমধ্যে এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ নভেম্বর তারিখে মনিরুলের নিজের মোবাইল ফোন নাম্বার ক্লোন করে তার (মনিরুল) নাম্বার থেকে শিহাবের মোবাইল নাম্বারে ভুয়া হুমকি দিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টা করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী লোহাগড়া উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার মনিরুল মল্লিক, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল কবির টুকু, সাধারণ সম্পাদক শামীমূল ইসলাম টুলুসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি