ঢাকা, রবিবার   ০৯ মে ২০২১, || বৈশাখ ২৫ ১৪২৮

চীনা ভ্যাকসিন সিনোফার্মের কার্যকারীতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:১৭, ১১ এপ্রিল ২০২১ | আপডেট: ১৯:২০, ১১ এপ্রিল ২০২১

চীনের তৈরি সিনোফার্ম করোনা ভ্যাকসিন গ্রহন সত্তেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে বহুল আলোচিত ভ্যাকসিনটির কার্যকারীতা নিয়ে সন্দেহ ও সমালোচনা ক্রমে তীব্র হয়ে উঠছে।

ওষুধ প্রস্তুতকারী চীনের তিনটি কোম্পানি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করছে। তবে এই তিনটি কোম্পানিই ভ্যাকসিন নিয়ে তাদের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ না করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। চীনের খাদ্য এবং ওষুধ প্রশাসন বিভাগের সাবেক প্রধান বি জিংকুয়ানকে এসব পরীক্ষার বিষয়ে আরো তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। 

বিশ্বব্যাপি ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞরা সিনোফার্মের বিপক্ষে মতামত দিচ্ছেন। এরমধ্যে সাংহাইয়ের চিকিৎসক তাও লিনা সিনোফার্মের ভ্যাকসিনকে ‘বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে অনিরাপদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইজিপ্টশিয়ান হেলথ অ্যান্ড পপুলেশন মিনিস্ট্রির পক্ষ থেকে সিনোফার্ম কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহনের পর কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে তার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ তালিকায় ব্যাথা, শরীর লাল লালভাব হয়ে যাওয়া এবং টিকা নেয়ার স্থানের আশেপাশে চুলকানি, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়। 

সিনোফার্ম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান উহান ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যল প্রোডাক্টসের বিরুদ্ধে এরআগেও নিম্নমানের পণ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে ২০১৮ সালে নবজাতকদের জন্য চার লাখ ৫২০ ডোজ নিম্নমানের ডিপথেরিয়া, টিটেনাস এবং হুপিং কাশির টিকা সরবরাহ করেছিলো কোম্পানিটি। এছাড়া চীনের এই ওষুধ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি এক লাখ ১৩ হাজার র‌্যাবিজ ভ্যাকসিন উৎপাদন সংশ্লিষ্ট তথ্য জাল করাও অভিযোগ রয়েছে।  

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) টিকাদান বিষয়ক স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইসরি গ্রুপ অব এক্সপার্টের পক্ষ থেকে সিনোফার্মের বিষয়ে বলা হয় ‘বয়স্ক ও অসুস্থ্য ব্যাক্তিদের ক্ষেত্রে এই টিকাগ্রহনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।’ 

পেরুর একজন স্বেচ্ছাসেবী সিনোফার্ম ভ্যাকসিন গ্রহনের পর মৃত্যু এবং অন্য আরেকজন স্বেচ্ছাসেবী ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সময় মারাত্মক স্নায়বিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর এর কার্যকারীতা নিয়ে সন্দেহ আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। এরপর থেকে ভ্যাকসিনটির সবধরনের ট্রায়াল বন্ধ রয়েছে। 

ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের এক জরিপে দেখা গিয়েছে, ৬১ শতাংশ সাধারণ মানুষই চীনের তৈরি ভ্যাকসিন গ্রহন করতে চাচ্ছে না। ভ্যাকসিন কূটনীতি নিয়ে চীনের বড় ধরনের প্রতিশ্রুত পালনের ব্যর্থতার ভুক্তভোগি এখন বিশ্বের অনেক দেশই। সূত্র: এএনআই।

এসি
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি