ঢাকা, বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯, || কার্তিক ১ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

জেদ্দায় আহত আলমগীরের অবস্থা সংকটাপন্ন

সৌদি আরব প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২১:০৩ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সৌদি আরবের জেদ্দা নগরীর একটি কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহত বাংলাদেশী আলমগীরের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ডাক্তাররা। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে নগরীর বাওয়াদী এলাকাস্থ বোরকা কারখানায় ঘুমন্ত অবস্থায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হন তিনি।

এদিকে তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম প্রথম সচিব (ফার্স্ট সেক্রেটারি) কাজী সালাউদ্দিন আহমেদ হাসিব নামে কনস্যুলেটের একজন আইন সহকারীকে কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতালে পাঠান এবং আলমগীরের সমস্ত খোঁজ খবর নেন। 

হাসিব জানান, আলমগীরকে আমি দেখতে গিয়েছি এবং ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, ওনার এখনও হুশ ফেরেনি এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

হাসপাতালে গিয়ে আলমগীরের কোন ডকুমেন্ট পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে হাসিব জানান, তবে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল আলমগীরকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন।

জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাতে জেদ্দা নগরীর বাওয়াদী নামক এলাকায় বোরকা কারখানায় ঘুমন্ত অবস্থায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন অগ্নিদগ্ধ হয়। এতে আলমগীর গুরুতর আহত হন। আলমগীর বর্তমানে জেদ্দাস্থ কিং আবদুল আজিজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

অগ্নিদগ্ধ আলমগীর প্রায় ৫ দিন যাবত বার্ন ইউনিটির আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনও জ্ঞান ফেরেনি বলে জানা গেছে।

অগ্নিদগ্ধে গুরুতর আহত মোহাম্মদ আলমগীর চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলাধীন পদুয়া ইউনিয়নের তেওয়ারিহাটের উত্তর পার্শ্বের নয়াপাড়া নিবাসী আলী আহমদের পুত্র।

এ বিষয়ে সৌদিস্থ লোহাগাড়া প্রবাসী সমিতির উপদেষ্টা ও জেদ্দা প্রবাসী মোসলেম উদ্দিন মোসলেম জানান, দেশ থেকে খবর পেয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ৫ দিন খোঁজ খবর নেয়ার পর গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় খবর পাই, অগ্নিদগ্ধ মোহাম্মদ আলমগীর জেদ্দা কিং আবদুল আজিজ হাসপাতালে আছেন। তাকে দেখতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, কে বা কারা আলমগীরকে হাসপাতালরে রেখে চলে যায়। বর্তমানে অভিভাবকহীন অবস্থায় জরুরী বিভাগের বার্ন ইউনিটির আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।

লোহাগাড়া থেকে প্রতিবেশী আবু সাঈদ চৌধুরী টিটু এ প্রতিবেদককে টেলিফোনে জানান, অভাবের সংসার, বাড়ীতে মা-বৃদ্ধা বাবা। পরিবার ও নিজের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গত দু'বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবের জেদ্দায় পাড়ি দেন মোহাম্মদ আলমগীর।

এদিকে হঠাৎ করে বিদেশ থেকে এমন দু:সংবাদের খবর পেয়ে আলমগীরের অসহায় পরিবারসহ পুরো এলাকাবাসী চিন্তিত।

এনএস/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি