ঢাকা, শুক্রবার   ২৭ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি তেলে দৈনিক ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৬:২৫, ২৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৬:২৮, ২৭ মার্চ ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকার নেয়নি।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুর ১২টায় যশোরে দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগনের কষ্ট লাঘবে সরকার কাজ করছে। বহির্বিশ্বের অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুৎ, গণপরিবহন ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পায়। চতুর্দিক থেকে চাপ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কোন পরিকল্পনা করেনি। জনগণের দুর্ভোগ কোনো কারণে যাতে না বাড়ে, সেটি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন সরকার ১৬৭ কোটি টাকা জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দিচ্ছে। বিএনপি জনগণের স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চাহিদা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা ছিল ১২ হাজার টন। পেট্রল-অকটেনের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টন। ঈদের আগে গড়ে প্রতিদিন ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টন ডিজেল আমরা সরবরাহ করেছি। বতর্মান সরকার আগামী এপ্রিল পর্যন্ত জনগণের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে পারি, সেটির কাজ শুরু করেছি।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা কর্মসূচি চালু করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরে বিভিন্ন সরকার উপকারভোগী ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হয়েছেন। নির্বাচনের আগে মানুষের দোরগোড়ায় গিয়েছি। বঞ্চিত মানুষের আকুতি শুনেছি। আমরা চাই যাদের ভাতা প্রাপ্তির হক আছে, তারাই যেন পান। উপকারভোগী বাছাইয়ে যেন রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় পরিচয় প্রাধান্য না পায়।’

অনিন্দ্য ইসলাম আরও বলেন, ‘সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু হয়েছে। ধর্মগুরুদের সম্মানী চালু হয়েছে। পয়লা বৈশাখে কৃষক কার্ড চালু হবে। রাষ্ট্রের পাশাপাশি জনগণকে প্রতিবেশী ও আত্মীয়ের হক আদায় করলে সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে আসবে।’

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ১৫৩ জন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তির হাতে এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক হারুন অর রশিদ।

এমআর// 
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি