ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৭ জুন ২০২১, || আষাঢ় ২ ১৪২৮

নজরুলের চিন্তা যুগে যুগে মানুষকে দেখাবে মুক্তির পথ (ভিডিও)

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৫:৪৭, ২৫ মে ২০২১

অন্যায়, অবিচার, নির্যাতন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলাম সবসময় প্রাসঙ্গিক। কবিতা ও গানে বিদ্রোহের সুরের সাথে মিলেছে প্রেমের সুর। জীবনভর গেয়েছেন সাম্যের গান। বিভেদের সমাজে সবসময় বলেছেন সম্প্রীতির কথা। একদিকে হামদ ও নাত আরেকদিকে শ্যামা সঙ্গীত লিখে অসাম্প্রদায়িক সমাজের স্বপ্ন ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন তিনি। গবেষকরা বলছেন, নজরুলের চিন্তা যুগে যুগে মানুষকে দেখাবে মুক্তির পথ।

কাজী নজরুল ইসলাম শোষণ ও সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে তাঁর কলম। বাংলা সাহিত্যের সব অঙ্গনেই নজরুলের বিচরণ।

তখন ব্রিটিশের রাজ, ১৮৯৯ সালে ঝঞ্জা-বিক্ষুব্ধ সময়ে নজরুলের জন্ম। শৈশবেই জীবন যুদ্ধের ময়দানে। লোটো গানের দল থেকে সৈনিকের জীবন- বড় ভূমিকা রাখে নজরুলের সাহিত্য ভাবনায়। তাঁর লেখনি ছিন্ন করে ব্রিটিশ উপনিবেশিক চিন্তার জালকে।

বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী দিয়ে লেখার শুরু। প্রথম প্রকাশিত কবিতা মুক্তি। পরে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে লেখেন বিদ্রোহী কবিতা। অসংখ্য গণসঙ্গীত লিখেছেন। সাহিত্য সাংবাদিকতায়ও ছিলেন নজরুল। নাটক ও চলচ্চিত্রের কাহিনী যেমন রচনা করেছেন তেমনি চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন। গান রচনা করেছেন আড়াই হাজারেরও বেশি।

প্রেম-প্রকৃতির মিশেলে রচনা করেন দোলনচাঁপা, সঞ্চয়িতা, সিন্ধু-হিন্দোল, বুলবুল, ভাঙ্গার গান, রিক্তের বেদন, মৃত্যুক্ষুধা’র মত রচনা। জীবনভর অসাম্প্রদায়িক সমাজের কথা ভেবেছেন, লিখেছেন অসংখ্য শ্যামা সঙ্গীত। 

বহু হামদ ও নাত লিখেছেন তিনি। আর রমজানের ওই রোজার শেষে, এলো খুশির ঈদ- না গাইলে তো ঈদ যে এসেছে তা মনেই হয় না। 

রাজদ্রোহিতার অভিযোগে নজরুলকে কারবরণও করতে হয়েছে। ১৯৪২ সালে কবি দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবিকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। 

তাঁর সকল রচনার কেন্দ্রেই ছিলো মানুষ। 

নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফেরদৌস আরা বলেন, নজরুল আমাদের পথের দিশারী। তাঁর সমস্ত জীবনের রচনায় আমাদের জীবন-আদর্শ দেখতে পাই। 

নজরুলের দর্শন মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণা।

কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, বল বীর বল উন্নত মম শীর- মানুষের যে সমতার কথা, নারী-পুরুষ বৈষম্যহীনতার কথা, সবকিছুর ক্ষেত্রে এই একটি কবিতা।

সাম্প্রদায়িকতার বিষ কিংবা মহামারির বিপর্যয়ে পথ দেখায় নজরুল।

মুহাম্মদ নুরুল হুদা আরও বলেন, জন্মের পর থেকেই তিনি আমাদের যুগের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন। যৌবনে প্রাসঙ্গিক হয়েছেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়েছেন।
 
নজরুল চর্চা সমাজে ছড়িয়ে দেবে সাম্যের বার্তা। 

ভিডিও-

এএইচ/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি