ঢাকা, বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯, || কার্তিক ১ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

নৈতিকতার শিক্ষা নিয়েই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব: এনবিআর চেয়ারম্যান

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২১:৫১ ৭ অক্টোবর ২০১৯ | আপডেট: ২৩:২১ ৭ অক্টোবর ২০১৯

দেশে খুব দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। এখন দরকার আমাদের মানুষিকতার উন্নয়ন। তাই সময় এসেছে আমাদের নীতি-নৈতিকতার শিক্ষায় শিক্ষীত হওয়ার। উন্নয়নের সঙ্গে নীতি-নৈতিকতা থাকলে সেই উন্নয়ন-ই হবে প্রকৃত উন্নয়ন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

সোমবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব পিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এ মুক্ত আলোচনার আয়োজক   কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। ‘বিকশিত হোক শত ভাবন’ শীর্ষক এ আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক সমন্বয় সুরাইয়া রহমান। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সক্রিয় সদস্যদের মুক্ত চিন্তা, সুস্থ মানসিক গঠন ও মননশীলতা তৈরির লক্ষ্যে ফাউন্ডেশন প্রতি মাসে এ ধরনের মুক্ত আলোচনা করে আসছে। এটি ছিলো এর ৯৩ তম পর্ব।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমাদের সরকারি অফিসহ প্রত্যেক মানুষের মধ্যে দুর্নীতি প্রবণতা আছে। তারপরও আমি আশাহত হতে চায় না। দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত হতে হতে এমন একটা জায়গায় যাবো যেখানে গিয়ে আর কেউ খারাপ থাকতে পারবে না। এর জন্য হয়তো সময় লাগবে। তবে আমাদের এখন থেকেই ভালো হওয়ার মানষিকতা থাকতে হবে। উন্নতির পাশাপশি নীতি-নৈতিকতা শিক্ষায় শিক্ষীত হতে হবে। আর পরিবর্তন একদিন আসবেই।
 

তিনি বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে কথা আসলেই স্বাধারণ মানুষ প্রথমেই আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সরকারি অফিস। কারণ ওই যে, সরকারি অফিসে যাওয়া লাগে। বিদ্যুৎ অফিসে গেলে পয়সা ছাড়া কিছু করাই যায় না। ট্যাক্স দিতে কাস্টমসে টাকা দিতে হয়, ‍পুলিশে তো কথাই নাই। আর দুই তিনটা জায়গার কথা উচ্চারণ করতে মানা। সমস্যা হয়ে যাবে। পরবর্তী দিন কি হয়ে যাবে, এর কোনো উপায় নেই। এসব জায়গার কথা বলা যাবে না।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা কিন্তু এর চেয়ে আরও বেশি দেখি, প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে দুর্নীতি রয়েছে। আমি যদি কস্টমসে আমাদের অফিসারদের বলি যেখানে যে ডিউটি আছে ঠিকমত নিবা। মালামাল আমদানির ক্ষেত্রে ঠিকমত ডিক্লেরেশন দেয়া আছে কিনা দেখবা, মাল কতটুকু এনেছে সেটা দেখবা। দেখা গেলো যে, আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে এ রকম হয় যে সে কাগজে বলবে ৫0 টন মাল আমদানি করছি। কিন্তু আসলে আনবে ৭০ টন। ৫০ টনে শুল্ক দিয়ে বের করে নিয়ে যেতে চাইবে ৭০ টন। তারপর বলবে যে, গামছা আনছি। কিন্তু আনবে স্যুটের কাপড়। কমদামি কাপড় আনার ঘোষণা দিয়ে আনবে দামি দামি কাপড়।
 
মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, রফতানির জন্য যেসব কাপড় আনা হয় সেসব কাপড়ে ডিউটি ফ্রি সুযোগ দেয়া আছে। তারা ডিউটি ফ্রি কাপড় আমদানি করে গারমেন্টসে পোশাক তৈরি করে রফতানি করে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আনবে। সে কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রা সরকারকে দিয়ে দেবে না। এ জন্য সরকার তাকে সমান টাকা দিয়ে দেবে। লাভটা সেই ভোগ করবে।

তিনি বলেন, এ সযোগ নিয়ে ডিউটি ফ্রি কাপড় এনে সে পোশাক তৈরি করে রফতানি না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দেয়। সরকারকে প্রায় ৫০ শতাংশ ট্যাক্স না দিয়ে এনে এটা দেশেই বিক্রি করে দেয়। এতে অনেক লাভ। কারণ সে ট্যাক্স বাবদই ৫০ শতাংশ ছাড় পেয়েছে। এসবের জন্য ইসলামপুর, নয়াবাজার, তাঁতি বাজার এ রকম কত বাজার গড়ে উঠেছে শুধু মাত্র এ ধরনের বন্ডের কাপড় দিয়ে। শুধু ঢাকায় না, চট্টগ্রাম, খুলনা সব জায়গায়।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এক ধরনের ব্যবসায়ীরা কম দামে নিম্নমানের বিদেশি কাগজ এনে দেশের বাজার নষ্ট করে দিচ্ছে। এতে করে দেশের কাগজ মিলগুলো লকশানে পড়ছে। তিনি বলেন, এটা একটা উদাহরণ দিলাম। সাধারণ মানুষ যে বলে সরকারি চাকরিজীবীরা ঘুষ খায়, ওমুকে খায়, তমুকে খায়। সুবিধা যদি পায় কোন মানুষটা খায় না’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

তিনি বলেন, মানুষ সরকারকে ঠকাতে তৎপর। ৭০-৮০ হাজার টাকা দিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে অথচ আয়কর দেয় না। বলে আমার তো বাড়িই নেই। আবার অনেকে বাড়ি আছে তারপরও টিআইএন সার্টিফিকেট নেই। কেউ কর দিতে রাজি নয়। আমাদের দেশে কর দেয়ার সামর্থ রাখে এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি। অথচ আয়কর রিটার্ন জমা দেয় মাত্র ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এতকিছুর পরও  ২০০৬ সাল থেকে ২০১৮ সালে আমাদের জাতীয় আয় বেড়েছে চার গুণ। আমামী ২০৩০ সালে এটা আরও চারগুণ বাড়বে। আমাদের অর্থনীতি এতটাই উন্নত হয়েছে যে, এখন সামান্য ব্যবহৃত একটা ভালো কাপড়ও কাউকে দিতে ভয় পাই। কারণ সে বলবে আমাকে পুরানাটা দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘তবে কোয়ান্টাম ফউন্ডেশনের সঙ্গে যারা জড়িত তারা অন্য রকম হয়। কারণ এখানে ধ্যান, জ্ঞানের পাশাপাশি নীতি-নৈতিকতাও শেখানো হয়। পরোপকারে উৎসাহীত করতে হয়। একজন মৃত্যুপথযাত্রীকে রক্ত দিয়ে তাকে বাঁচিয়ে তুলতে এগিয়ে আসে। যা খুব বেশি প্রসংশার দাবিদার।

আরকে//
 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি