ঢাকা, বুধবার   ২৩ অক্টোবর ২০১৯, || কার্তিক ৮ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সংঘর্ষে চাইনিজ শ্রমিক নিহত

প্রকাশিত : ২২:৪০ ১৯ জুন ২০১৯

পটুয়াখালির পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাঙালি-চায়নিজ শ্রমিক সংঘর্ষে এক চায়নিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন। বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের পক্ষ খেকে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি তাদের কাজে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

জানা যায়, নিহত চায়নিজ নাগরিকের নাম জাং ইয়াং ফাং। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২ বাঙ্গালি শ্রমিকও চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে শেরে ই বাংলা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের তথ্যনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতের দিকে হাসপাতালে ৬ জন চায়না নাগরিককে ভর্তি করা হয়। আহতরা সকলেই কলাপাড়া উপজেলার নিশানবাড়িয়া ১৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত। বাঙ্গালি ১ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালের দিকে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের ওপর (প্রায় সাততলার সমান উঁচু) থেকে পড়ে এক বাঙালি শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত চীনাদের দাবি, ওই শ্রমিক অসাবধানতার কারণে নিচে পড়ে গিয়ে মারা যান। তবে বাঙালি শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, বয়লারের ওপর থেকে ওই শ্রমিককে এক চীনা নাগরিক লাথি দিয়ে নিচে ফেলে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সে নিহত হয়। এ ঘটনার পর তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে নিহত শ্রমিকের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন বাঙালি শ্রমিকরা।

খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পরে মঙ্গলবার বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাঙালি ও চীনা শ্রমিক এবং পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় তিন পুলিশ সদস্য, ছয় চীনা নাগরিক এবং বাঙালি শ্রমিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে গুরুতর আহত চীনা শ্রমিকসহ মোট আট জনকে রাতেই বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে এক চীনা শ্রমিক আজ শেবাচিমে মারা যান।

এমএস/কেআই

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি