ঢাকা, বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২৬

বংশগত সমস্যায় হাতের ছাপ নিয়ে বিড়ম্বনা (ভিডিও)

রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১১:৪৬, ২ জানুয়ারি ২০২১

Ekushey Television Ltd.

এক বিরল বংশগত সমস্যার কারণে দুই হাতের আঙ্গুলে কোনও ছাপ নেই রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার একটি পরিবারের ছয় সদস্যের। আঙ্গুলের ছাপ না থাকায় নানা বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে পরিবারটিকে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই রোগের নাম অ্যাডারমাটোগ্লিফিয়া।

পুঠিয়া উপজেলার পচামাড়িয়া গ্রাম। গ্রামের সরকার পরিবারটি অন্য পরিবার থেকে কিছুটা ভিন্ন। কারণ, পরিবারের পুরুষ সদস্যদের হাতের আঙ্গুলে কোনো রেখা বা ছাপ নেই।

বংশগত বিরল এ সমস্যার কারণে অমল সরকার ও তার দুই সন্তান অপু-অনুর হাতের আঙ্গুলেও ছাপ নেই। অমলের বাবা, ভাই, জ্যাঠাসহ পরিবারের ৬ জনের একই সমস্যা।

ভুক্তভোগীদের মা জানান, আমার শ্বশুরের হাতে দেখেছি যে ছিল কি ছিল না। কিন্তু আমার যে কয়জন সন্তান তাদের সবারই হাত-পা এ রকম।

২০০৮ সালে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আঙ্গুলের ছাপ নেয়া শুরু হলে বিপাকে পড়েন তারা। মোবাইল সিম কার্ডের জন্য আঙ্গুলের ছাপ বাধ্যতামূলক করার পর সমস্যা আরও বেড়েছে।

তারা জানান, পাসপোর্ট অফিসে ডাক্তারি সার্টিফিকেট নিয়ে দিলাম তারপরও পাসপোর্টটা করে দিল না। আমার পরিবারে যে কয়টা মোবাইল সিম আছে সবগুলোই হচ্ছে মায়ের নামে।

পরিবারটির কথা বিবেচনায় তাদের আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহারের পরিবর্তে অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করার কথা জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নামজা আক্তার বলেন, এটা প্রত্যেক জেনারেশনেই ৫০% চান্স থাকবে। অর্থাৎ প্রত্যেক প্রেগনেন্সিতে ওই রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। সুতরাং এটা বলা যাবে যে, এটা কত জেনারেশন ধরে চলবে।

২০১১ সালে সুইজারল্যান্ডের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পিটার ইটিন এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। তখন পর্যন্ত সারাবিশ্বে এরকম মোট চারটি পরিবার শনাক্ত হয়েছিল, যার সবগুলোই এশিয়া মহাদেশের বাইরে।
ভিডিও :

এএইচ/এসএ/
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি