ঢাকা, সোমবার   ০৫ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশি ভেবে নিজ দেশের নাগরিকদের গুলি করলো বিএসএফ, আহত ২

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:৫৩, ৫ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

বাংলাদেশি নাগরিক মনে করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ছররা গুলিতে ভারতের আসাম রাজ্যের দুই নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার মধ্যরাতে কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা পুলিশি নিরাপত্তায় হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত ব্যক্তিরা হলেন আসামের দক্ষিণ সালমারা-মানকারচর জেলার সুখচর থানার বড়বালু এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন এবং খাজা আব্দুল আলীম। তাদের দাবি, রোববার বিকেলে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিজেদের গরুকে নদীতে গোসল করানোর সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে। তারা বারবার নিজেদের ভারতীয় নাগরিক বলে পরিচয় দিলেও বিএসএফ তা শোনেনি। বিএসএফ সদস্যরা তাদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে প্রচণ্ড মারধর করে এবং ছররা গুলি ছুড়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তাদের মৃত ভেবে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়।

প্রাণ বাঁচাতে আহত দুই ভারতীয় নাগরিক নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার যাত্রাপুর সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করেন। বিকেলে স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও মাঝি তাদের নদীতে ভাসমান ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন। স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, দুজনের শরীরেই ছররা গুলি ও গোলাবারুদের গুরুতর জখম রয়েছে।

এই ঘটনায় বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। অন্যদিকে চিকিৎসাধীন দুই ভারতীয় নাগরিক নিজেদের ভুল স্বীকার করে দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। তারা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বিএসএফ-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের নিজ দেশে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

এমএইচ 
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি