ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা
প্রকাশিত : ২১:৩১, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফেনীতে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোট দেওয়ার অপরাধে বিবি জহুরা নামে এক গৃহবধূকে তালাক দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন কাওসার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।
ঘটনার পর স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে কাওসার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী তাকে আটক করে রাখে। পরে মৌখিকভাবে দেওয়া তালাক প্রত্যাহার করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে কৌশলে সেখান থেকে সরে যান। কাওসার ওই এলাকার মৃত ইউসুফ হাজারীর ছেলে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিন সন্তান নিয়ে বিবি জহুরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে জহুরাকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য নিষেধ করেন তার স্বামী। তবে প্রথমবার ভোটার হওয়ায় তিনি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিন সন্তানকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। সে সময় কাওসার ঘুমিয়ে ছিলেন।
ভোট দিয়ে সকাল ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে তিনি স্বামীসহ পরিবারের সবার জন্য নাস্তা প্রস্তুত করেন। সকাল ১১টার দিকে কাওসার নাস্তা খেয়ে বাইরে যান এবং দুপুরে খাবার খেয়ে আবার বিশ্রাম নেন। বিকেলে বাড়ির পাশের রাস্তায় কারও কাছ থেকে স্ত্রী ভোট দিয়েছেন—এ কথা জানার পর মাগরিবের সময় তিনি এ বিষয়ে জহুরার কাছে জানতে চান। জহুরা তার প্রথম ভোট দেওয়ার কথা স্বীকার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় তাকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দেন বলে অভিযোগ। এ সময় তাকে ঘরে ঢুকতেও নিষেধ করা হয়।
স্থানীয়রা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে কাওসারকে আটক করে রাখেন। একপর্যায়ে জনসমাগম বাড়তে থাকলে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান।
২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াবাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে কাওসারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮) ও ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান রয়েছে।
নুরুল আফছার নামে এক গ্রামবাসী দাবি করেন, বিয়ের পর থেকেই জহুরাকে মারধর করতেন কাওসার। এ নিয়ে কয়েকবার সামাজিকভাবে বিচার হয়েছে। আলী আহম্মদ নামে আরেকজন জানান, কাওসার শ্বশুরকেও কয়েকবার মারধর করেছেন।
স্থানীয় সালিশদার মোহাম্মদ আজাদ বলেন, তিনি একাধিকবার এসব বিচারে উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষ্য, কাওসার আক্রমণাত্মক স্বভাবের এবং অতীতে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন।
স্থানীয়দের মতে, পিতার পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের কথা বিবেচনায় জহুরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। কাওসার ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি তেমন কর্মচাঞ্চল্যে ছিলেন না বলেও জানা গেছে।
এমআর//
আরও পড়ুন










