ঢাকা, রবিবার   ২৫ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ১১ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে আমরা বিশ্বে প্রথম হবো: প্রধানমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:৩৮ ১৮ জুলাই ২০১৯ | আপডেট: ১২:৫৭ ১৮ জুলাই ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মৎস উৎপাদন ও ভোক্তা চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করতে দেশের সব জলাধারগুলোকে উদ্ধার করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।’ 

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় মৎস সপ্তাহের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নদী ড্রেজিং করে নাব্যতা ঠিক রাখতে কাজ করছি। পানির প্রবাহ বাড়লে মাছের উৎপাদন বাড়বে। বিদেশে রপ্তানিসহ দেশের চাহিদা বাড়ছে। গত কয়েক বছরে ৯৮.৪২ শতাংশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে এখন বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৩য়। আশা করছি আমরা বিশ্বে ১ম হবো।’

এ সময় তিনি মৎস ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়কে আরও বেশি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান। 

শেখ হাসিনা বলেন, ৭৫ সালের আগস্টের কালো রাতের পরে বাংলাদেশ পিছিয়ে যায়। বাংলাদেশ প্রথম খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে। সে সময় ৫ বছর আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নেই। চিংড়ি ও মাৎস গবেষণা ইনস্টিটিট আমরাই স্থাপনা করি।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করার করার ১০ বছরের মধ্যে দারিদ্রের হার ৪০ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে নিয়ে এসেছি। মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মানুষের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ১১ শতাংশ মানুষ মাছ শিকার ও চাষের মাধ্যমে জীবন নির্বাহ করে। আমিষের চাহিদার ৬০ শতাংশই পূরণ হয় মাছের মাধ্যমে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলাধার নীতিমালা প্রণয়ন করেছি। মৎস হ্যাচারি আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন করেছি। সঠিক জনবল যেন তৈরি করা যায় এ জন্য আমার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। হাওর অঞ্চলগুলো যেন মাছের অভয়াশ্রম হয় সে জন্য কাজ করছি।’ 

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। রপ্তানির জন্য মাছের মান বৃদ্ধি করতে হবে। বিএনপির সময়ে চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা এটাকে ঠিক করে আবারও জায়গা দখল করেছি।’ 

সমুদ্রসীমায় নিজেদের অবস্থানের বিষয়ে ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রসীমার অধিকার নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। আমরা যেন আমাদের সমুদ্রসীমাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু দেশটাকে স্বাধীন করে দিয়ে যাননি তিনি দেশকে সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে নিতে কাজ করে গেছেন। সমুদ্রসীমার বিষয়ে তিনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবারও কাজ শুরু হয়। ১৯৭৪ সালে সমুদ্রসীমার আইন জাতির পিতা করেছিলেন আর জাতিসংঘ এ আইন করে ১৯৮২ সালে। জাতির পিতার ভাবনা তখন জাতিসংঘের চেয়েও এগিয়ে ছিল। আমাদের এ আইনের উপর ভিত্তি করে সে সময়ে অনেক দেশ সমুদ্রসীমা লাভ করেছিল।’

সমুদ্রে ব্লু ইকোনমির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রে মৎস ও সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা ও আহরণের উপর আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা ১ হাজার ৮ শত ৬৭ কোটি টাকা ব্যয় করে উপকূলে মেরিন ফিসারিজ স্থাপন করেছি। সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় আমাদের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডসহ অন্যান্য সংস্থা কৃতিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। মৎসজীবীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। আমরা নৌযান নিবন্ধনের জন্য কাজ করছি। এতে ঐ নৌযানের নিরাপত্তা বাড়বে। আমার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নৌযানের অবস্থান সনাক্ত করতে পারব এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে পারব।’

এমএস/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি