ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৮ ২:০৮:০৮

Ekushey Television Ltd.

যাকাত গরিবের হক

ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এমদাদ উদ্দিন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:৩৪ পিএম, ১২ জুন ২০১৮ মঙ্গলবার

অাল্লাহ রাব্বুল অালামীনের পক্ষ থেকে ইসলামের যে পাঁচটি রুকন বা স্তম্ভ দেওয়া হয়েছে তার একটি হলো যাকাত। `যাকাত` বলতে অামরা পারিভিষিকভাবে বুঝি, বৎসরান্তে মালের ওপর বা সম্পদের ওপর ধর্মের দিক থেকে একটি কর অারোপিত হয়। সেটা গরিব মিসকিনকে দেওয়া। যাকাত এর শাব্দিক অর্থ দু`রকম। `যাকাত` শব্দের অর্থ পরিশোধিত করা।

অামরা যে যাকাত প্রদান করি, তা দেওয়ার পরে মালিকের অবশিষ্ট যে সম্পদ থাকে তা পরিশোধিত সম্পদ হিসেবে অাল্লাহর কাছে গণ্য হয়। এগুলোতে কোন নষ্টামী, অপবিত্রতা, কোন কদর্যতার স্পর্শ এগুলোতে থাকে না। নির্ধারিত অর্থ প্রদান করার পরে বাকি সম্পদ পরিশোধিত হয়, পরিচ্ছন্ন হয়। এজন্য এটাকে বলা হয় যাকাত।

`যাকাত` শব্দের অারেকটি অর্থ হলো `অাননাম্মাহ`। এর অর্থ বর্ধিত হওয়া। এই দৃষ্টিকোন থেকে এটা বলা হয়, যাকাত দেওয়ার পরে বাকি যে সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে অাল্লাহর পক্ষ থেকে সেখানে বরকত অাসবে।

এটা অলৌকিক ও অাধ্যাত্মিক বিষয়। মালিক বুঝতেই পারবে না কীভাকে তার সম্পদ বৃদ্ধি হচ্ছে। এটা অাল্লাহর পক্ষ থেকে ফয়সালা। যাকাত প্রদান করলে বাকি সম্পদ উত্তোরত্তোর বৃদ্ধি পাবে।

ইসলাম যেমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান তেমনি যাকাত একটি জীবন ঘনিষ্ট বিষয়। ইসলামে সমগ্র মানবতার কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সমগ্র সৃষ্টির কল্যাণের জন্য একটি জীবন বিধান।

প্রশ্ন হচ্ছে অামরা যাকাতে কী কল্যাণটা দেখতে পাই? অাল্লাহ রাব্বুল অালামীন কাউকে বিত্তবান বানিয়েছেন, কাউকে গরিব বানিয়েছেন। এটা অাল্লাহ তা অালার একটি বিশেষ ইচ্ছা, হেকমত, প্রজ্ঞা। যারা বিত্তবান তারাই শুধু অারাম অায়েশে থাকবে, তারাই অাজীবন মালিক থাকবে, অার গরিব বা দরিদ্ররা শুধুই গরিব থাকবে- এটা সমাজ ও অর্থনীতিতে বড় বৈষম্যা হয়ে দেখা দেয়। কিন্তু অাল্লাহ বলছেন এই বৈষম্য চলবে না। সম্পদ কোন একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত থাকবে তা হতে দেওয়া চলবে না। বরং সম্পদ সবার মধ্যে হাত বদল হবে। ধনী-গরিব সবার মধ্যে সম্পদ হাত বদল হওয়ার অন্যতম উপায় হলো যাকাত।

দরিদ্র শ্রেণির সুবিধা বঞ্চিত, অসহায়দের মাঝে যেন সম্পদ যায় সেজন্য অাল্লাহ তা অালা যাকাত তার বান্দাদের জন্য ফরজ করেছেন। যাকাত প্রদানের ফলে বিত্তবানের লাভ, দরিদ্রদেরও লাভ। ধনীদের লাভ হলো যাকাত প্রদানের ফলে অাল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষভাবে সম্পদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অার দরিদ্রদের লাভ হলো, সেই সিস্টেমে তাদের হাতে ধন-সম্পদ অাসছে।

এমনো হতে পারে একজন বিত্তবান ব্যক্তি তার সম্পদের একটি অংশ দরিদ্র কাউকে প্রদানের ফলে সেই দরিদ্র ব্যক্তি অার্থিকভাবে সাবলম্বী হয়ে গেলো। পরের বছর সে যেন অন্য কোন ব্যক্তিকে সাবলম্বী করে দিতে পারে।

অাল্লাহ তা অালা যাকাত- এর প্রেক্ষিতে বলেছেন, "কেউ কেউ মনে করে সুদী লেনদেনে ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু যারা সুদী লেনদেন করে এবং মনে করে যে তাতে তাদের সম্পদের বৃদ্ধি ঘটবে কিন্তু তাদের সম্পদের বৃদ্ধি ঘটে না।" অাল্লাহ অারও বলেছেন, "তোমরা যে যাকাত দিয়ে থাক তা অাল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দিয়ে থাক। এর প্রেক্ষিতে অাল্লাহ তোমাদেরকে এমন এক প্রক্ষোতে পৌঁছিয়ে থাকেন যে তোমাদের সম্পদ দ্বিগুণ হারে বাড়তেই থাকে।"

সুতারাং যাকাত মানবকল্যাণে একটা বিশেষ অর্থনৈতিক পদ্ধতি। এটাকে জরিমানা মনে করার কোন কারণ নাই। দণ্ড মনে করার কোন কারণ নাই। যাকাত দিয়ে গরিবকে অনুগ্রহ করলাম, অনুকম্পা করলাম এটাও ভাবার কোন সুযোগ নেই। এই যাকাতে গরীবদের হক অাছে, দাবি অাছে। এই যাকাত দিয়ে কেউ যদি অহংকার করে সেটা মোটেই সমীচীন নয়। বরং যাকাত গরিবের হক। দিয়ে দিতে পারলে তৃপ্তি পাবে, অবশিষ্ট সম্পদ পরিশুদ্ধ হবে। অাল্লাহর পক্ষ থেকে পরিবর্ধন ঘটবে। যারা গরিব শ্রেণির লোক তারা এই অর্থ পেয়ে উপকৃত হবে। সুতরাং যারা বিত্তবান অাছেন তারা হিসেব করে যাকাত দিয়ে দিবেন।

লেখক: খতিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।

এসএইচ/



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি