ঢাকা, রবিবার   ২১ জুলাই ২০১৯, || শ্রাবণ ৭ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

যুক্তরাষ্ট্রে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত

প্রকাশিত : ২২:৩৩ ১৯ মে ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৯তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়েছে।

গত ১৭ মে সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওযামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাবুব রহমানের  সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের পরিচলনায় সমাবেশে জননেত্রী শেখ হাসিনার সুস্থ্য আর দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয । এরপর দোয়া পরিচলনা করেন মাওলানা সাইফুল সিদ্দীক।

সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সামসুদ্দীন আজাদ, লুৎফর করিম, যুগ্ম সম্পাদক আইরীন পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, কোষাধ্যক্ষ আবুল মনসুর খান, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সোলয়মান আলী, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, সহ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক, নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল ও সহ সভাপতি শেখ আতিক, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বাবু, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী সামছুল আবেদিন, আলী গজনবী, আব্দুল হামিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সভায় ড. আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, ১৯৮১ সালে ১৭ মে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে না ফিরলে আজকের বাংলাদেশ হতো না। জননেত্রীর নেতৃত্বে  বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের চরম সঙ্কটে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন বলেই ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যার বিচার হয়েছে।

তিনি  বলেন, বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিকে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে সকল নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে আশাতীত সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ একদিন আমেরিকার মতো উন্নত-আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। 

সভায় বক্তারা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ আর দলের এক ক্রান্তিকালে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরে জাতি আর মুজিব সৈনিকদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তিনি দেশে না ফিরলে আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে যেতো, আওয়ামী লীগ আর ক্ষতায় ফিরে আসতে পারতো না।

বক্তারা বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার ফলেই বঙ্গবন্ধু হত্যাসহ সকল হত্যার বিচার হচ্ছে। দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দাঁড়িয়েছে। বক্তারা বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সবাইকে সজাগ থাকারও আহ্বান জানান।

সভায বক্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়্যু কামনা করে বলেন, তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের উন্নয়ন আর গনতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এসময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূ-লুণ্ঠিত করে বাঙালি জাতির অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করে ঘাতকগোষ্ঠী। ঠিক এমনি ক্রান্তিলগ্নে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫, ও ১৬ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। কিন্তু সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন শেখ হাসিনা।

কেআই/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি