ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, || আশ্বিন ৪ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

যেভাবে মেয়েদের ফাঁদে ফেলতো নয়ন বন্ড

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২০:৪৩ ২৯ জুলাই ২০১৯ | আপডেট: ২৩:০৫ ২৯ জুলাই ২০১৯

জনপ্রিয় বন্ড সিরিজের নাম থেকেই নিজের নাম রাখে নয়ন বন্ড। বরগুনা শহরের কলেজের পাশেই তার বাড়ি। ফলে কলেজের আশপাশেই সময় কাটতো তার বেশি। কলেজের পাশের পরিত্যক্ত ইটের ঘেরা একটি জায়গায় ছিল নয়নের আস্তানা। সেখানে মদ গাঁজার নিয়মিত আসর বসতো। সেখান থেকে সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে বসে থাকত কলেজের সামনে।

ছাত্রীদের মধ্যে কাউকে পছন্দ হলে তার আর রেহাই ছিল না। তাকে কাছে পেতে যা কিছু করার সবকিছুই করত সে। নানা কৌশলে নিয়ে যেতো নিজের বাসায়।

এদিকে তার এসকল কর্মকান্ডে প্রতিবাদ করার কারো ক্ষমতা ছিল না। স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে নিত্য ওঠাবসা থাকায় নয়ন চাইলেই যে কাউকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি বা গ্রেফতার করাতে পারত। পুলিশের বিশ্বস্ত সোর্স হিসেবেও সে কাজ করত বলে জানিয়েছেন শহরের বাসিন্দারা।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি নারী ও নেশায় আসক্ত নয়নের হাতে যে ঠিক কতজন তরুণীর সর্বনাশ হয়েছে তার সঠিক হিসাব নেই পুলিশের কাছেও। তবে নয়নের ‘বিশেষ কক্ষ’ থেকে উদ্ধার করা একটি ল্যাপটপে বহু পর্নো ভিডিও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে কলেজ পড়ুয়া বহু মেয়ের সর্বনাশ করেছে এই বন্ড খ্যাত নয়ন। যার দিকে তার চোখ যেতো তার রেহাই পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।

যার কয়েকটি ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুক-ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরমধ্যে বেশ কয়েকটিতে ভিন্ন ভিন্ন তরুণীর সঙ্গে বিশেষ মহূর্তের দৃশ্যে দেখা গেছে নয়নকে। একেক দিন একেক জন তরুণীকে নিজের ফুর্তির শিকার বানাতো নয়ন। অনেকেই বাঁচার চেষ্টা বা কান্নাকাটি করলেও নয়ন এসবকে পাত্তাই দিতো না।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নয়ন বন্ডের ওই বিশেষ কক্ষের গোপন স্থানে কৌশলে আইপি ক্যামেরা বসানো থাকত। বিশেষ উদ্দেশ্যে যাদের ওই কক্ষে আনত তারা কেউই টের পেত না সেই গোপন ক্যামেরার অস্তিত্ব। ফলে সে অনায়াসেই ব্ল্যাকমেইল করতে পারতো যে কাউকে।

তাইতো নয়নের সঙ্গে একবার মিলিত হওয়ার পর আর রক্ষা পেত না কোন মেয়ে। ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে বারবার কিশোরী-তরুণীদের ভোগ করত সে। যে কারণে নয়নের হাত থেকে বাঁচতে কলেজ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে অনেক তরুণী। অনেকে আবার নয়নের চাহিদামতো মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছে। এমন অন্তত ১২ জন তরুণীর তথ্য আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নয়ন অনেকের সঙ্গে মেলামেশা করলেও তবে কাউকেই সে ছাড়তো না। যখন যাকে প্রয়োজন ভিড়িও,র ভয় দেখিয়ে সে কাজ উদ্ধার করতো।

তবে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নয়ন নিহত হওয়ার পর এসব ভিডিও কে বা কারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়াচ্ছে তার সন্ধান করতে পারেনি পুলিশ।

নয়নদের বাড়িটির মূল দরজার পাশেই রয়েছে একটা ছোট বৈঠক ঘর। ওটাই ছিলো নয়নের কক্ষ। যার কক্ষের দরজা খোলা থাকত গভীর রাত পর্যন্ত। সারাদিন এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরির পর গভীর রাতে বাড়ি ফিরত নয়ন। তারপর সেখানে রাত ১২টার পর বেড়ে যেতো নানা লোকজনের আনাগোনা।

বরগুনা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, নয়নের ওই ঘর থেকে যে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়েছে তাতে রয়েছে কয়েকশ’ নীল ভিডিও। স্থানীয় বহু তরুণীই যে তার লালসার শিকারে পরিণত হয়েছে তা ল্যাপটপের ওই ভিডিও-ই প্রমাণ করে। জেলা পুলিশের উচ্চতর কর্মকর্তারা এসব ভিডিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন বলেও জানান তিনি।

এসি
 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি