ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, || আশ্বিন ৩ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

রাঙামাটিতে ব্রাশফায়ারে প্রিসাইডিং অফিসারসহ নিহত ৬

প্রকাশিত : ২১:০৯ ১৮ মার্চ ২০১৯ | আপডেট: ০৮:৩৬ ১৯ মার্চ ২০১৯

রাঙ্গামাটির সীমান্তবর্তী এলাকা সাজেক থেকে নির্বাচন শেষে উপজেলা সদরে ফেরার পথে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের ব্রাশফায়ারে প্রিসাইডিং অফিসারসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও সাত-আটজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নিহতদের মধ্যে চারজন আনসার সদস্য। তাদের মধ্যে দুজন নারী। সাজেক ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা শেষে চাঁদের গাড়িতে করে বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরে ফিরছিলেন তারা। নিহত অন্যজনকে হামলাকারী হিসেবে সন্দেহ করছে স্থানীয়রা। এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও সাত-আটজন।

আজ সোমবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাঘাইছড়ির নয় মাইল এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। বাঘাইছড়ির থানার ওসি এমএম মঞ্জুরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত পোলিং অফিসার হচ্ছেন স্থানীয় কিশলয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আমির হোসেন। আর নিহত চার আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা হচ্ছেন মো. আল আমিন, মিহির কান্তি দত্ত, বিলকিস ও জাহানারা বেগম। নিহত অপরজনকে মন্টু চাকমা হিসেবে শনাক্ত করেছে স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের পাশের ঝোঁপ থেকে মন্টু চাকমার লাশ উদ্ধার হয়েছে।

তারা জানান, চাঁদের গাড়িটিতে সন্ত্রাসীরা ব্রাশফায়ার করার সময় আনসার সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় প্রশাসনের গুলিতে মন্টু চাকমা নিহত হন।

এ হামলায় আহতদের হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বাঘাইছড়ি ইউএনও নাদিম সরোয়ার।

রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের গুলিতে ছয়জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশ সদস্যরা গিয়েছেন। আমরা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছি।

এদিকে একাধিক সূত্র জানায়, সন্ত্রাসীদের হামলায় ছয়জন নিহত হওয়ার খবরের পর রাঙ্গামাটিতে নিয়োজিত সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথভাবে অভিযানের প্রস্তুতিও চলছে।

দ্বিতীয় দফার উপজেলা নির্বাচনে আজ রাঙ্গামাটির সাতটি উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলাও রয়েছে। এ হামলার দায়িত্ব এখনও স্বীকার করেনি কেউ। প্রশাসনও এখন পর্যন্ত দুর্বৃত্তদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ নির্বাচনে জাতীয় কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছিল না। পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দল সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি ( জেএসএস) ও এই দলটি ভেঙে কয়েক বছর আগে গঠন করা জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) দুই প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। জেএসএস প্রার্থী বড়ঋষি চাকমা অনিয়মের অভিযোগ এনে আজ দুপুরে নির্বাচন বর্জন করেন। নির্বাচনে এমএন লারমার প্রার্থী সুদর্শন চাকমা।

আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি