ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ নভেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ৬ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

শোক প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে সংসদ অধিবেশন শুরু 

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২১:১৫ ৭ নভেম্বর ২০১৯

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) -এর একাংশের সভাপতি ও চট্টগ্রাম- ৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মঈন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতীয় সংসদ। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) অধিবেশনে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন উত্থাপিত শোক প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়। শোক প্রস্তাবের ওপর সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ সরকারি ও বিরোধী দলের সিনিয়র সংসদ সদস্যরা আলোচনা করেন। 

এছাড়া ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাসহ সংসদে আনা অন্যদের শোক প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়। শোক প্রস্তাব শেষে মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সংসদে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। পরে সংসদের অন্যান্য কার্যক্রম স্থগিত রেখে বৈঠক মুলতবি ঘোষণা করা হয়। চলমান সংসদের কোনও সদস্য মারা গেলে রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হয়।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মঈন উদ্দীন খান বাদলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘মঈন উদ্দীন খান বাদল ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান রয়েছে। তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও শান্তি সম্প্রীতির রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। সংসদে তিনি বলিষ্ঠ কণ্ঠে কথা বলতেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। তবে, স্বাধীনতার পর তিনি জাসদে যোগ দেন। তিনি আমাদের ঐক্যজোটের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ও সংসদে তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আমি সব সময় তার অসুস্থতার খবর নিতাম। তার স্ত্রীর কাছ থেকে আমি ম্যাসেজ পেতাম। আজ যখন মৃত্যুর সংবাদ পাই, বড় ধাক্কা লাগলো। ভাবতেই পারিনি তিনি এভাবে চলে যাবেন। সংসদ শুরু হবে। তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে সংসদে আসবেন, কথা বলবেন। কিন্তু, দুর্ভাগ্য তার সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর আমরা সংসদে শুনতে পারবো না। তার মৃত্যু রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করলো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে চলেই যেতে হবে। মৃত্যু সত্য। এই সত্য মেনে নেওয়া কঠিন। কিন্তু মেনে নিতেই হয়।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, লাশ নিয়ে আসার জন্য ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাইকমিশনার থেকে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মরহুম বাদলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, ‘তার বক্তব্য আমরা মন দিয়ে শুনতাম। তার থেকে অনেক কিছু শেখার ছিল, অনেক কিছু জানার ছিল।’

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে সংসদ কার্যক্রম পরিচালনাসহ আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বয়সে আমার ছোট হলেও দীর্ঘদিনের পুরনো কর্মী ও সহযোগী। জন্মলগ্ন থেকেই তিনি জাসদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমার সহকর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেন। সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবিরোধী সংগ্রামে তার ভূমিকা রয়েছে।’

ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘সফল মুক্তিযোদ্ধা তিনি। পাকিস্তান বাহিনীর কাছে তিনি আতঙ্ক ছিলেন। সংসদে তার বাচনভঙ্গি ও দৃঢ়তা আমাদের মুগ্ধ করতো।’

শোক প্রস্তাবেরও পর অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ নাসিম, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আ স ম ফিরোজ, শাজাহান খান, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা, জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বক্তব্য রাখেন।

এদিকে অধিবেশন শুরুর আগে সংসদ সচিবালয়ের ক্যাবিনেট কক্ষে স্পিকারের সভাপতিত্বে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে আগামী ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অধিবেশনের মেয়াদ নির্ধারন করা হয়। প্রতিদিন বিকেল সোয়া চারটায় অধিবেশন শুরু হবে। তবে স্পিকার চাইলে অধিবেশনের সময় বাড়াতে বা কমাতে পারেন।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, মো: ফজলে রাব্বী মিয়া, আনিসুল হক, গোলাম মোহাম্মদ কাদের, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নূর-ই-আলম চৌধুরী এবং আবদুস সাত্তার ভুঞা। বৈঠকে জানানো হয়, ৫ম অধিবেশনে সংসদে উত্থাপণের জন্য ১টি সরকারি বিলের নোটিশ পাওয়া যায়। আগের অধিবেশনের অনিষ্পন্ন ৫টিসহ মোট ৬টি সরকারি বিল রয়েছে। এর মধ্যে উত্থাপনের অপেক্ষায় ১টি এবং কমিটিতে পরীক্ষাধীন ৫টি বিল রয়েছে। বেসরকারি সদস্যদের কাছ থেকে কোনো বিলের নোটিশ পাওয়া যায়নি। তবে আগের অনিষ্পন্ন ২টি বেসরকারি বিল রয়েছে।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, চলতি অধিবেশনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উত্তরের জন্য ৬৯টি ও ১৬০৫টি সাধারণ প্রশ্নসহ মোট প্রশ্নের সংখ্যা ১৬৭৪টি। সিদ্ধান্ত প্রস্তাব (বিধি ১৩১) ৯৬টি, মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ (বিধি ৭১) ৫৫টি এবং প্রস্তাব (সাধারণ) (বিধি ১৪৭) ৩টি নোটিশ পাওয়া গেছে।
 
বিধি ১৪৭-তে সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী আনীত ‘জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগের আঘাত, জীববৈচিত্র বিনষ্ট হওয়া, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুপেয় পানির সংকট, সমুদ্র সম্পদ হ্রাস ইত্যাদি কারণে বিশ্ব আজ ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন। এ কারণে গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হোক এবং এসব বহুমাত্রিক সংকট মোকাবেলায় বিশ্বের সকল পার্লামেন্ট ও সরকার, জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া হোক’ শীর্ষক প্রস্তাবের উপর আলোচনা হবে। এ সম্পর্কিত একটি প্রস্তাব স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিতব্য কপ-২৫ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থাপন করবেন।

আরকে//
 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি