ঢাকা, ২০১৯-০৭-১৬ ১২:০৫:৪২

রায় অনুযায়ী বেরোবি শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতা

সাত বছরের বেতন-ভাতা প্রদানের উদ্যোগ

 প্রকাশিত: ১৬:৪৬ ২৫ মে ২০১৯  

আদালতের রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের, রংপুর কর্তৃপক্ষ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে মাহামুদুল হককে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তাঁর জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নয়ন, সাত বছরের বেতন-ভাতা এবং মামলার ক্ষতিপূরণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সূত্র জানায় হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ‘র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৬১তম সিন্ডিকেটে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- বেরোবি রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল, রংপুর ডিভিশনাল কমিশনার মোহাম্মদ জয়নাল বারি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. শুচিতা শারমিন।

পূর্ণাঙ্গ রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে মাহামুদুল গত ১৪ মে লিখিত আবেদন জানালে সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নেয়। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ৯ মার্চ ২০১৯ তারিখে ওই বিভাগে প্রভাষক পদে (স্থায়ী) মাহামুদুলকে নিয়োগ প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। উল্লেখ্য যে, ১৫ অক্টোবর ২০১৭ হাইকোর্ট এক রায়ে তাঁকে নিয়োগ দিতে বলেন। এরপার রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভ-টু-অ্যাপিল ও পরে রিভিউ করলে অ্যাপিলেট ডিভিশন তা খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন।

চিঠিতে মাহামুদুল হক বলেন, দীর্ঘ সাত বছর নিয়োগ না পেয়ে এবং আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে তিনি জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি, বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন হাইর্কোট তাঁকে বাছাই বোর্ড-এর সুপারিশ অনুযায়ী নিয়োগ দিতে বলেছেন। হাইর্কোট-এর রায় বাস্তবায়নে ২০১২ সালের ২২তম সিন্ডিকেটের তারিখ থেকে নিয়োগ কার্যকর করে জ্যেষ্ঠতার দিক ওই বিভাগে দ্বিতীয় হিসেবে এবং সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার দাবি করেন তিনি। ওই সময় থেকে বেতন-ভাতা, জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী বিভাগের দ্বিতীয় সভাপতি হিসেবে নিয়োগ এবং ক্ষতিপূরণও চান মাহামুদুল।

ক্ষতিপূরণ সর্ম্পকে মাহামুদুল তাঁর আবেদনে বলেন, “একটি মামলা চালাতে যে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি হয় তা পরিমাপ করা খুবই কঠিন। একজন ভিকটিম কয়েক’শবার ভিকটিম হয় মামলা চালাতে গিয়ে। রায় হয়তো ভিকটিমের পক্ষে যায় কিন্তু মামলার ক্ষত সারাজীবন তাঁকে বয়ে বেড়াতে হয়। ওই সময়ের বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনিয়মের কারণে আমার শিক্ষকতার ক্যারিয়ারে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে তা আমাকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আমাকে নিয়োগ প্রদান করেছে। এখন আমার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করে বাংলাদেশে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আামার দৃঢ় বিশ্বাস।”

বাছাই বোর্ডের উল্লেখ করে মাহামুদুল তাঁর চিঠিতে বলেন, ২০১১ সালের ২৯ অক্টোবর বেরোবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে দু’জন প্রভাষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ২০১২ সালে ১৩ জানুয়ারি বাছাই বোর্ড যথাক্রমে মোহা. গোলাম কাদির মন্ডল ও মোহা. নজরুল ইসলামকে মেধা তালিকায় এবং মাহামুদুল হক ও নিয়ামুন নাহারকে অপেক্ষমান তালিকায় রেখে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে।

বাছাই বোর্ডের সুপারিশপত্রকে প্রমাণ হিসেবে দেখিয়ে তিনি ওই চিঠিতে বলেন কম্পিউটারে প্রিন্টকৃত ১ ও ২ নম্বর সিরিয়ালের পরে ৩ নম্বর সিরিয়াল কলমে লিখে একজনকে তাসনিম হুমাইদাকে মেধা তালিকায় তৃতীয় এবং তাবিউর রহমানকে অপেক্ষামান তালিকায় তৃতীয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কম্পিউটারে কম্পোজকৃত “মেধাক্রমানুুসারে” শব্দটি কেটে কলম দিয়ে লিখে “যেকোন” শব্দটি বসানো হয়েছে। ২২তম সিন্ডিকেটে “যেকোন” শব্দটি বাতিল করা হয়েছে। যেহেতু মেধা তালিকায় প্রথমজন যোগদান করেননি সেহেতু বাছাই বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী তিনি অপেক্ষামান তালিকার প্রথম স্থান থেকে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে চলে আসেন বলে জানান তিনি। এ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে তিনি ওই বিভাগে দ্বিতীয়, দাবি মাহামুদুলের।

এসএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

শিরোনাম