সুনামগঞ্জের মানবপাচারকারী নারী গ্রেপ্তার, বেরিয়ে আসছে চক্রের ভয়ঙ্কর তথ্য
প্রকাশিত : ১৮:৪১, ৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪৪, ৪ অক্টোবর ২০২৬
ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় পরিবার-পরিজন ছেড়ে প্রবাসে পাড়ি জমানোর স্বপ্নকে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম দুই প্রধান সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইউরোপের দেশ ইতালিতে উচ্চ বেতনের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি ও সর্বস্বান্ত করার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ইছাকপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছা. শোবি বেগম (৩০) এবং তার ভাই শামছুল (২৮)। জগন্নাথপুর থানায় একাধিক সুনির্দিষ্ট মানবপাচারের মামলা দায়েরের পর থেকে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জগন্নাথপুর থানা-পুলিশ জানতে পারে যে, এই চক্রের সদস্যরা সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ থানা এলাকায় আত্মগোপন করে আছেন। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে জগন্নাথপুর থানার এসআই মতিউর রহমান, এসআই মোস্তাফিজুর রহমান, এসআই অনিক পাল এবং এএসআই আলাউদ্দিনসহ পুলিশের একটি চৌকস দল শাহপরাণ থানা-পুলিশের সহায়তায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
এই ভয়ংকর চক্রের মূলহোতারা গ্রেপ্তার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে দীর্ঘদিন আতঙ্কে মুখ না খোলা ভুক্তভোগী পরিবারগুলো একে একে সামনে আসতে শুরু করেছে। বের হয়ে আসছে তাদের ওপর চালানো সীমাহীন শারীরিক নির্যাতন, লোমহর্ষক প্রতারণা ও সর্বস্ব হারানোর করুণ কাহিনী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রটি মূলত তিনটি দেশে বিস্তৃত একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট। শোবি বেগমের স্বামী মেশকার মিয়া এবং তার এক ভাই বর্তমানে ইতালিতে অবস্থান করছেন। এছাড়া তার আরেক ভাই রয়েছেন লিবিয়ায়। ইতালিতে থাকা স্বামী ও ভাই এবং লিবিয়ায় থাকা ভাই মূলত আন্তর্জাতিক এই পাচার সিন্ডিকেটের মূল নেটওয়ার্ক ও আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করেন। অন্যদিকে বাংলাদেশে অবস্থান করে শোবি বেগম ও তার ভাই শামছুল স্থানীয় পর্যায়ে গ্রামের সহজ-সরল ও বেকার যুবকদের সরাসরি ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলতেন এবং ধাপে ধাপে কোটি কোটি টাকা আদায় করতেন।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রাকিবুল হাসান জানান, বর্তমান সরকার মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সেই প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ জেলায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত বেশ কয়েকটি মানবপাচারের মামলা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জগন্নাথপুর থানার মামলায় এই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধীদের দমনে পুলিশের এমন কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ভুক্তভোগী ও জেলাবাসীর দাবি, এই মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকি সদস্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
এমএইচ
আরও পড়ুন










