ঢাকা, সোমবার   ০৬ জুলাই ২০২০, || আষাঢ় ২২ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

সেকেন্ড হোম ভিসা মিললেও নাগরিকত্ব দেবে না মালয়েশিয়া

শেখ আরিফুজ্জামান, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি:

প্রকাশিত : ২৩:০১ ৩ অক্টোবর ২০১৯

সেকেন্ড হোম ভিসা মিললেও নাগরিকত্ব দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।  বিগত সরকারের আমলে মালয়েশিয়ার ইকোনোমি শক্ত করতে এবং মালয়েশিয়াকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় নিতে ভেঙে পড়া মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক মজবুত এর জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সেকেন্ড হোমের সুযোগ দেয় নাজিব সরকার।

সেই মোতাবাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ৪ হাজার বাংলাদেশের নাগরিকরা আবেদন করেছিল মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম এর জন্য।

এদের মধ্যে বহু বাংলাদেশি পরিবার পরিজন নিয়ে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম এর সুযোগ নিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করে আসছিল।  কিন্তু যে স্বপ্ন নিয়ে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমের আবেদন করেছিল তা আজ বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান মাহাথির মোহাম্মদের সরকার।

মালয়েশিয়া সরকারের ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার আজিজা জানিয়েছেন, বিগত সরকারের আমলে চালু হওয়া সেকেন্ড হোম এর আবেদনকারীদের আমরা শুধু ১০ বছরের ভিসা দিবো।  কিন্তু এদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না।  মালয়েশিয়া সরকারের রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম ‘মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম’ এ বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, সরকারের বিভিন্নপর্যায়ের আমলা, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে নানা পেশার চার হাজারের বেশি নাগরিক ইতোমধ্যে নাম লিখিয়েছে।  এরমধ্যে অনেকে সপরিবারে ব্যবসাবাণিজ্যের পাশাপাশি দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে।

মালয়েশিয়ার মিনিস্ট্রি অ্যান্ড ট্যুরিজম আর্টস অ্যান্ড কালচারের ওয়েব সাইটের সর্বশেষ তথ্য (২০১৮ সালের জুন) অনুযায়ী পৃথিবীর ১৩০টি দেশের ৪০ হাজার নাগরিক ‘মাইয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোমে’র (এমএম২এইচ) বাসিন্দা হয়েছে।  যারা দেশটিতে সেকেন্ড হোমের বাসিন্দা হয়েছে তার মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে চীনা ও দ্বিতীয় জাপানীরা।  আর তালিকার তৃতীয় স্থানেই রয়েছে বাংলাদেশের নাম।

পরিসংখ্যানে জানা গেছে, মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোমে চাইনিজ ১১ হাজার ৮২০ জন।  জাপানিজ চার হাজার ১৮ জন।  আর বাংলাদেশীর সংখ্যা চার হাজার ১৮ জন।

এরপর যথাক্রমে ব্রিটেন দুই হাজার ৬০৮ জন, দক্ষিণ কোরিয়া দুই হাজার ৬৯ জন, সিঙ্গাপুর এক হাজার ৪২১ জন, ইরান এক হাজার ৩৮১ জন, তাইওয়ান এক হাজার ৩৪৭ জন, পাকিস্তান এক হাজার ১৭ এবং ভারতের এক হাজার আটজন।

‘মাই এক্সপার্ট’ নামক ওয়েব সাইটে বাংলাদেশীদের বর্তমান শেয়ার সর্বোচ্চ ১০ পারসেন্ট অফ দ্য টোটাল মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম (এমএম২এইচ) প্রকল্পের বেনিফিশিয়ারি বলে উল্লেখ রয়েছে।

মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোমে আবেদনের ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের বয়স ৫০+ (বেশি) তাদের জন্য লিকুইড এসেট-এর পরিমাণ থাকতে হবে সাড়ে তিন লাখ মালয়েশিয়ান রিংগিত।  বাংলাদেশী টাকায় ৭৩ লাখ টাকা।

সাথে মাসিক আয় দেখাতে হবে ১০ হাজার মালয়েশিয়ান রিংগিত।  অপরদিকে আবেদনকারী যাদের বয়স ৫০ এর নিচে তাদের জন্য লিকুইড এসেট থাকতে হবে পাঁট লাখ মালয়েশিয়ান রিংগিত।  সাথে মাসিক আয় ১০ হাজার রিংগিত।

ভিসা পারমিট পাওয়ার আগে যাদের বয়স ৫০ এর নিচে তাদের জন্য মালয়েশিয়ান ব্যাংকে তিন লাখ রিংগিত ফিক্সড ডিপোজিট জমা করতে হবে।  আবেদনকারী এক বছর পর সেখান থেকে দেড় লাখ রিংগিত উত্তোলন করতে পারবে।

তবে দ্বিতীয় বছরে অবশ্যই একই পরিমান ব্যালেন্স লেনদেনের পর জমা থাকতে হবে মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম প্রোগ্রাম পর্যন্ত। অপর দিকে আবেদনকারী ৫০-এর ওপরে হলে দেড় লাখ রিংগিত দিয়ে ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট রাখতে হবে।

এ ক্ষেত্রে এক বছর পর আবেদনকারী তার জমা রিংগিত থেকে ৫০ হাজার রিংগিত উত্তোলন করতে পারবে। এই তালিকার আবেদনকারীকে অবশ্যই এক লাখ রিংগিত ব্যাংকে ব্যালান্স টাকা জমা রাখতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই প্রক্রিয়া ও নিয়ম মেনেই ২০০২ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত মোট দেশটিতে চার হাজার ১৮ জন বাংলাদেশী সেকেন্ড হোম প্রকল্পের বাসিন্দা হয়েছেন।

সেই হিসেবে দেশ থেকে শুধু হুন্ডির মাধ্যমে সেকেন্ড হোম প্রজেক্টে নগদ টাকাই পাচার হয়েছে প্রায় চার হাজার ২১৯ কোটি টাকার মতো। যদিও মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ডে হোম প্রজেক্টটি দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম হওয়ার কারণে কোন কোন দেশের কতজন নাগরিক সেকেন্ড হোমের মালিক হয়েছেন সেই তথ্য মালয়েশিয়া সরকার অদ্যাবধি গোপন রেখেছে।

আরকে//


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি