Ekushey Television Ltd.

১১ বছরে তিন কোটি চাকরির ঘোষণা

প্রকাশিত : ২১:১৭ ১৩ জুন ২০১৯ | আপডেট: ২১:১৯ ১৩ জুন ২০১৯

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আগামী ১১ বছরে তিন কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই লক্ষ্যের কথা জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই কর্মসংস্থান সৃষ্ট করতে হলে দেশে বেকারত্বের অবসান ঘটাবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে, সেখানে ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। যুবকদের মধ্যে সকল প্রকার ব্যবসা উদ্যোগ (স্টার্ট আপ) সৃষ্টির জন্য ১০০ কোটি টাকা চলতি অর্থবছরে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হবে।’

মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে ১০টি আইন-বিধি, নীতি-কৌশল প্রণয়ন অথবা সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই বছরে অবশিষ্ট সংস্কার কাজ সম্পাদন করে ক্রমবর্ধমান জনশক্তির জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যখন কর্মক্ষম জনসংখ্যার অভাবে ভুগছে, তখন বাংলাদেশের জন্য সুযোগের দরজা খুলে গেছে। ২০১৬ সালে বিশ্বে কর্মক্ষম জনসংখ্যা কর্মে অক্ষম জনসংখ্যার অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ কর্মক্ষম জনসংখ্যায় এগিয়ে আছে।

জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এক প্রতিবেদনে (২৬ এপ্রিল ২০১৬) বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন তরুণ জনগোষ্ঠীর রাষ্ট্র। এ অঞ্চলের ৪৫টি দেশের জনসংখ্যাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশ তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এগুরুত্ব অনুধাবন করে এবারের বাজাটে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট (জনসংখ্যার বোনাস কাল) ও দক্ষ মানুষ তৈরি জন্য ১০০ কোটি ঢাকা চলতি অর্থবছরে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হবে।

এবারের বাজাটে বাংলাদেশের সামনে জনমিতিক লভ্যাংশের যে সুবর্ণ সুযোগ এসেছে তা কাজে লাগাতে হবে। তরুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি এ শ্লোগানকে মাননে রেখে দেশের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ যুবসমাজতে সংগঠিত,সুশঙ্খল এবং উৎপাদনমুখী শুক্তিতে রূপন্তরের জন্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানে নিযোজিত করার লক্ষ্যে সারাদেশে ১১১টি প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রর মাধ্যমে ব্যাপক সৃষ্টি করা হবে।

এবিষয় জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদের বাংলাদেশ সরকার ব্যপকমাত্রায় কর্মসংস্থান তৈরির চেষ্টা করছে। ২০১১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত সরকার ৪০ লাখের মতো কর্মসংস্থান তৈরি করেছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টকে সামনে রেখে। তবে দেশের বাইরে জনশক্তি আগের চেয়ে কম রফতানি হচ্ছে। দেশে শিক্ষার হার বাড়ছে ।

কিন্তু বিপরীতে বাড়ছে বেকারত্বের সংখ্যাও। এছাড়া দেশ থেকে যারা বিদেশে যাচ্ছে, তারাও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারছেন না। এসব কারণে আমরা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারছি না। তবে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে এটা যথাযথ বস্তবায়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে ।

এবিষয় জানতে চাইলে, ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোম ইঞ্জিনিয়ার্স অব বাংলাদেশ-আইডিইবির সভাপতি এ কে এম এ হামিদ একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, তরুণরাই রাষ্ট্রের প্রাণশক্তি। তাদের যত বেশি কাজে লাগানো যাবে দেশ তত বেশি অগ্রসর হবে। পৃথিবীর বহু দেশ এই তরুণদের কাজে লাগিয়ে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে পৌঁছে যাবে। তবে বাজেটে দেশের জনসংখ্যা দক্ষ করার জন্য যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে যথাযত বাস্তবায়নের জন্য সঠিকভাবে মাস্টারপ্ল্যান করে প্রতিটি সেক্টর নিয়ে চিন্তা করে এলাকা ভিত্তিক দক্ষ লোক গড়ে তোলা যায়, কারিগরি শিক্ষার প্রসার করা যায়, হাতে কলমে শিক্ষার মাধ্যমে বিপুল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে পরিণত করা যায় তবেই দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।

টিআর/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি