ঢাকা, রবিবার   ০৫ জুলাই ২০২৬

১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের: প্রতিমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৭:৫৪, ৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৩১, ৫ জুলাই ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জুলাই মাসকে কেন্দ্র করে বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ১৬ জুলাই দিনটিকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।

রোববার (৫ জুলাই) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত পরিবারগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এদিন ভোর ৬টায় শাহবাগে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে আন্দোলনের সময় নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি শহীদ ও আহত পরিবারের কয়েকজন সদস্য বক্তব্য দেবেন।

তিনি বলেন, আগামী ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, ওই দিন সংঘটিত দুটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলনের প্রভাব দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচিত হয় এবং আন্দোলন আরও ত্বরান্বিত হয়।

এদিন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আজম খান উপস্থিত থাকবেন। একই দিনে চট্টগ্রামের কক্সবাজারের পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণেও একই মর্যাদায় একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। সেখানে উপস্থিত থেকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন ইশরাক হোসেন।

 

কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৫ জুলাই ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা স্মরণে ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ বা ‘প্রতিরোধের সূচনা’ নামে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ উপলক্ষে আর্মি স্টেডিয়ামে প্রতিবাদী সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। 

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জানান, রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে স্মরণসভা, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরো আগস্ট মাস জুড়ে গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করা হবে। শহীদদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি তুলে ধরাই সরকারের এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে শুরু হওয়া প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণ, ছাত্র-জনতা এবং অসংখ্য মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অংশ নেন। যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কয়েক দিন অবরোধ কর্মসূচি চলেছিল। সেখানে কমপক্ষে ৮০ জন শহীদ হন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাদের স্মরণে এবং ওই স্থানকে স্মরণীয় করে রাখতে সেখানে একটি সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি