ঢাকা, শুক্রবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

২২ জেলায় সরকারি ছুটি বাতিল

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২৩:৫১ ৮ নভেম্বর ২০১৯

গভীর সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে বাংলাদেশে আঘাত হানছে। শনিবার ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ অতিক্রম করবে। এর মধ্যে উপকূলবর্তী বেশ কয়েকটি জেলাসহ সারা দেশে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বেশ ক্ষয়ক্ষতিরও শঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় দেশের উপকূলবর্তী সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, খুলনা, চাঁদপুর, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ ২২ জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শনিবার ও রোববারের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে শুক্রবার সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন। 

অন্যদিকে দেশের ৯ জেলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এছাড়া চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেওয়া হয়েছে। তবে কক্সবাজার থাকবে ৪ নম্বর হুশিয়ারি সংকেতের আওতায়। তবে দেশের প্রধান নৌ-বন্দর চট্টগ্রামে জারি করা হয়েছে ৬ নম্বর সতর্কতা সংকেত।  এসব অঞ্চলের লোকজনকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আব্দুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

উপকূলে ৫ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এ অবস্থায় উপকূলবর্তী এলাকার জনগণকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে উপকূলবর্তী সব জেলা ও উপজেলায় প্রায় ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ক্রমেই শক্তি সঞ্চার করে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। শুরুর দিকে ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮০-৯০ কিলোমিটার। যা শুক্রবার দুপুর থেকে ক্রমশই শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। ইতোমধ্যেই দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে উন্নীত হওয়া ‘বুলবুল’ এখনই উপকূলে আঘাত হানলে উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে বহু সংখ্যক ঘরবাড়ি। কেননা এরই মধ্যে ঝড়টির গতিবেগ বেড়ে হয়েছে ১৩০ কিলোমিটার। 

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরসহ উপকূলীয় জেলাগুলোর ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ও তার নিয়ন্ত্রণাধীন সব উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার উপকূলের কাছাকাছি ঘূর্ণিঝড়টি অবস্থান করতে পারে। পরে বঙ্গোপসাগরের উত্তর দিক দিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১০ ও ১১ নভেম্বর সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরিশাল, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মাগুরা, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরে ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। 

যেসব জেলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত
মোংলা ও পায়রা বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

যেসব জেলায় ৬ নম্বর বিপদ সংকেত
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এসি

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি