ঢাকা, বুধবার   ১৮ মার্চ ২০২৬

টাঙ্গুয়ার হাওরে ঢুকছে পাহাড়ি ঢল, উৎকণ্ঠায় ৮২ গ্রামের কৃষক

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১০:৫৯, ১৮ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩৮, ১৮ মার্চ ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

টানা তিন দিনের বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে টাঙ্গুয়ার হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চার ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক। 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকাভুক্ত না হওয়ায় প্রতি বছরের মতো এবারও স্বেচ্ছাশ্রম আর নিজেদের চাঁদার টাকায় বাঁধ রক্ষার যুদ্ধে নেমেছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার ভোর থেকে অরক্ষিত নজরখালি বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকছে। 

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার ৮২টি গ্রামের কৃষকদের প্রায় ২০ হাজার একর বোরো ফসলি জমি এই নজরখালি বাঁধের ওপর নির্ভরশীল। 

স্থানীয়দের দাবি, পাউবো এই বাঁধটির দায়িত্ব না নেওয়ায় প্রতি বছরই কৃষকদের ঘর থেকে টাকা তুলে বাঁধ নির্মাণ করতে হয়। এবারও সোনাডুবি তেকুনিয়া লামারবিলসহ বিভিন্ন উপ-হাওরের ফসল রক্ষায় উত্তর ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা এবং শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের কৃষকরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। বিঘাপ্রতি নির্দিষ্ট হারে চাঁদা তুলে প্রায় ১০ লাখ টাকা বাজেট করে বাঁশ-চাটাই ও বস্তা সংগ্রহের কাজ চলছে।

রুপনগর গ্রামের কৃষক আব্দুছ সালাম জানান, টাঙ্গুয়ার হাওর রামসার সাইট হওয়ার অজুহাতে পাউবো এখানে কাজ করতে চায় না। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকরা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে ফসল রক্ষার চেষ্টা চালান। 

শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী হায়দার জানান, প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বাঁধটি সরকারি তালিকার আওতাভুক্ত করা যায়নি।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, নজরখালি বাঁধটি তাদের তালিকায় না থাকায় সেখানে সরকারিভাবে কাজ করার সুযোগ নেই। 

বর্তমানে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাসহ আশপাশের কৃষকরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। কৃষকদের আশঙ্কা দ্রুত বাঁধটি মজবুত করা না গেলে বছররের একমাত্র সোনালী ফসল পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি