ঢাকা, শনিবার   ১৬ মে ২০২৬

পরকীয়ার জেরে পেট্রোলের আগুনে জ্বলসে দেওয়া সেই গৃহবধূর মৃত্যু

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৬:৪২, ১৬ মে ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

প্রেম থেকে বিয়ে, তারপর চার বছরের সংসার। কিন্তু সেই সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় নির্মম নির্যাতনে। অভিযোগ উঠেছে, পরকীয়ার জেরে স্ত্রী বিথি আক্তারের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন স্বামী সাজু খান। মুমূর্ষু অবস্থায় কয়েক দফা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়বাড়ি নিজামের চৌপথী এলাকার বাসিন্দা বাবুল হোসেনের মেয়ে বিথি আক্তার। প্রায় সাত বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের জামবাড়ি এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে সাজু খানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের কোলজুড়ে আসে সাড়ে তিন বছরের শিশু সন্তান আব্দুর রহমান।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিথির ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন স্বামী সাজু খান। সম্প্রতি তিনি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলেও দাবি স্বজনদের। ঘটনার একদিন আগে বাবার বাড়ি থেকে বিথিকে নিয়ে যান সাজু। এরপর পরিকল্পিতভাবে ঘরের ভেতরে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে সাড়ে তিন বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন সাজু খান। পরে শিশুর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বিথিকে উদ্ধার করেন।

প্রথমে তাকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সর্বশেষ ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিথি আক্তার।

সাড়ে তিন বছরের শিশু আব্দুর রহমানও জানায়, চোখের সামনেই তার মাকে মারধরের পর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শিশুটির এমন বর্ণনা ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযুক্ত স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে নারী নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

প্রেমের সম্পর্ক থেকে শুরু হওয়া একটি সংসারের এমন মর্মান্তিক পরিণতি হতবাক করেছে এলাকাবাসীকে। এখন স্বজনদের একটাই দাবি—বিথি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি