প্রেমের টানে ইটনায় ছুটে এলেন চীনা যুবক
প্রকাশিত : ০৯:৫৫, ১৮ মে ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়। আর সেখান থেকেই শুরু। তারপর ধীরে ধীরে জমে ওঠে কথোপকথন। অপেক্ষা আর ভালোলাগা। সেই টানেই হাজার মাইল দূরের দেশ চীন থেকে বাংলাদেশের হাওরাঞ্চল কিশোরগঞ্জের ইটনায় ছুটে এসেছেন এক যুবক। আর এ ঘটনাকে ঘিরেই এখন কিষ্টপুর গ্রামের অলিগলিতে কৌতূহল।
জেলার ইটনা উপজেলার চৌগাংগা ইউনিয়নের কিষ্টপুর গ্রামের মড়ল পাড়ায় যেন হঠাৎ করেই বইছে ভিন্ন এক আবহ। গ্রামের মানুষ এমন দৃশ্য আগে দেখেনি। চীনের হেনান প্রদেশের শিনশিয়াং শহরের মুয়ে জেলার বাসিন্দা গাও ওয়েইয়ান এখন গ্রামের মানুষের কাছে সবচেয়ে আলোচিত নাম। তিনি সেখানে পুলিশ বিভাবে কর্মরত রয়েছেন।
জানা গেছে, প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় আগে একটি চ্যাটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হয় গাও ওয়েইয়ান ও ঝুমা আক্তারের। প্রথমে সাধারণ কথাবার্তা, পরে ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় ভালোবাসায়। সময়ের সঙ্গে দূরত্ব যেন আর দূরত্ব থাকেনি। অবশেষে সম্পর্ককে পরিণতি দিতেই গত ১৬ মে রাতে মেয়েটির দেওয়া ঠিকানা কিষ্টপুর চলে আসেন তিনি।
গাও ওয়েইয়ান বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশে আসার ইচ্ছে ছিল। শুধু ফোনে কথা বলে আর ভালো লাগছিল না। আমি ঝুমাকে ভালোবাসি। তাই এত দূর থেকে এসেছি। এখানকার মানুষও আমাকে খুব আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে।’
ঝুমা আক্তার স্থানীয় বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম ও পাখি আক্তার দম্পতির মেয়ে। কিষ্টপুর আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করার পর বর্তমানে তিনি চৌগাংগা পুরান বাজার কামিল মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করছেন।
পরিবারের সদস্যদের কাছেও বিষয়টি ছিল অনেকটা সিনেমার গল্পের মতো। তবে বাস্তবে বিদেশি যুবককে বাড়িতে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রথমে কিছুটা হতবাক হলেও পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
রোববার দুপুর থেকেই খবরটি আশপাশের গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বাড়িটিতে ভিড় করতে থাকে উৎসুক লোকজন। কেউ শুধু একনজর দেখতে, কেউ ছবি তুলতে, আবার কেউ গল্প শুনতে হাজির হন সেখানে। তবে এত মানুষের ভিড়েও বিরক্তির ছাপ ছিল না গাও ওয়েইয়ানের চোখেমুখে। বরং গ্রামের মানুষের কৌতূহল, হাসি আর আন্তরিকতা যেন উপভোগই করছিলেন তিনি।
গ্রামের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সবখানেই এখন এই প্রেমের গল্প। কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। কেউ আবার ভাবছেন মেয়েটির সামনে হয়তো খুলে যেতে পারে নতুন জীবনের দরজা। তবে সবার মাঝে একটাই প্রত্যাশা, সম্পর্কটি যেন নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিণতি পায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য,আবেগের গল্প হলেও আইনগত বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়া জরুরি। যেন ভবিষ্যতে মেয়েটিকে কোনো জটিলতা বা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে না হয়।
ইটনা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর জানান, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। চিনা যুবক স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেছেন। বর্তমানে ওই পরিবারের আতিথিয়তায় তিনি রয়েছেন।
প্রয়োজন হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তাও দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এএইচ
আরও পড়ুন










