ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১, || ফাল্গুন ১৭ ১৪২৭

প্রতিবছরই প্লাবিত হচ্ছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা (ভিডিও)

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৪:৩৭, ২ সেপ্টেম্বর ২০২০

জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধের কারণে প্রতিবছরই ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হচ্ছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা। এর ফলে তলিয়ে যাচ্ছে ঘের, ফসলী জমি ও বাড়িঘর। আর তাতে নিঃস্ব হচ্ছে লাখো মানুষ। সম্প্রতি জোয়ারের পানিতে আবারও তলিয়ে গেছে আশাশুনি ও শ্যামনগরের উপকূল এলাকা। তাই ত্রাণ নয়, বেঁচে থাকার জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি তাদের।

কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদী দ্বারা বেষ্টিত সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা। ৬০ বছর আগে নির্মিত ৮শ’ ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের দেড় শতাধিক পয়েন্ট এখন ঝুঁকিপূর্ণ। ২০ বছর আগেই মেয়াদ শেষ হওয়া বেড়িবাঁধগুলো আইলা, সিডর, ফণি, বুলবুল, আম্পানসহ বিভিন্ন সময়ে সাইক্লোন, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। 

আম্পানের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাঁধের ২৩টি পয়েন্ট ভেঙে প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। তিন মাসেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় জোয়ার-ভাটার খেলা থেকে মুক্তি পায়নি উপকূলবাসী। সম্প্রতি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে অর্ধ শতাধিক গ্রাম, ভেঙেছে রাস্তাঘাট এবং পানির তোড়ে ভেসে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। এই অবর্ণনীয় দূর্ভোগে এখানকার লক্ষাধিক মানুষ। 

ভুক্তভোগি এলাকাবাসী জানান, নদী ভাঙনে অনেক পরিবার এখন অসহায়। তারা এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। অন্য আরেকজন বলেন, সাতক্ষীরা জেলা শহর, উপজেলা শহরে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা, সেই রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর দাবি, এই বেড়িবাঁধের কারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভুগতেছি। যাতে দ্রুতভাবে এই রাস্তাটি হয়, তার ব্যবস্থা করা হোক।

তবে বরাবরের মত এবারও বেড়িবাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-০২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার জানান, টেকসই বেড়িবাঁধ করার জন্য আমরা অলরেডি ডিভিটি প্রণয়ন করে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠিয়েছি। 

এলাকাবাসী জানান, অবিলম্বে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে সাতক্ষীরার মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হবে প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়ন।

এএইচ/এসএ/

 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি