ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৪

আজ সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর, উপকূলবাসীর দুঃস্বপ্নের দিন

ভোলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৯:০৩, ১২ নভেম্বর ২০২৩ | আপডেট: ০৯:০৬, ১২ নভেম্বর ২০২৩

আজ সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর। ভোলাসহ উপকূলবাসীর বিভিষীকাময় এক দুঃস্বপ্নের দিন। ১৯৭০ সালের এই দিনে বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে ধ্বংসলীলায় পরিণত হয়। মুহূর্তের মধ্যে প্রলয়ঙ্ককারী ঘূর্ণিঝড় ও জলচ্ছ্বাস ক্ষত বিক্ষত করে দেয় বিভিন্ন এলাকার জনপদ। উপকূলীয় জনপদগুলো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। 

ওই  প্রলয়ঙ্ককারী ঘূর্ণিঝড়ে ভোলায় হারিয়ে লক্ষাধিক প্রাণ। নিখোঁজ হয় সহস্রাধিক মানুষ। এক এক করে ৫৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও কান্না থামেনী স্বজন হারা মানুষের। রয়ে গেছে সেই ক্ষত। কিন্তু এতো বছর পরও ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় ভোলায় প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র গড়ে উঠেনি। তাই দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ আজও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
 
৭০’র এর ১২ নভেম্বর। দিন ভর ছিল গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস। সন্ধ্যার পর মুহূর্তের মধ্যেই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে থাকে ঝড়। গভীর রাতে শুরু হয় ঝড়ের তাণ্ডব। হারিকেনরুপী জলচ্ছ্বাসের সময় ঝড়টি ভোলাসহ উপকূলীয় ১৮টি জেলায় আঘাত হানে। তৎকালীন সময় তথ্যপ্রযুক্তি অনেকটা দুর্বল থাকায় উপকূলের মানুষ ঝড়ের পূর্বভাস পায়নি। 

এ সময় তিন দিকে নদী ও একদিকে সাগর বেষ্টিত দ্বীপজেলা ভোলায় জলচ্ছাস হয়েছিল ৮/১০ ফুট উচ্চতায়। রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি, খাল-বিল, নদী-নালয় ভাসছিল লাশ আর লাশ। এমনকি গাছের সাথে ঝুলে ছিল শত শত মানুষের মৃতদেহ। বহু মানুষ তাদের প্রিয়জনের লাশ খুঁজেও পায়নি। তখন বাঁচতে কেউ গাছের ডালে, কেউ উঁচু ছাদে আশ্রয় নিয়ে কোনমতে প্রাণে রক্ষা পেলেও ১০ দিন পর্যান্ত তাদের প্রায় অভুক্ত কাটাতে হয়েছে।

গত ৫২ বছরের সবকয়টি ঘূর্ণিঝড়ের চেয়ে ৭০’র ঝড়টি হিংস্র বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্রলঙ্কারী সেই বিভৎস ঝড়ের তাণ্ডবের ঘটনার ৪ দিন পর তখন পূর্ব দেশ পত্রিকায় প্রকাশ হলে দেশবাসীসহ বিশ্ববাসী জানতে পারে।

এদিকে নদী ও সাগর বেষ্টিত উপকূলীয় দ্বীপজেলা ভোলার মানুষকে প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড় জলোচ্ছ্বাস মোকাবেল করে বসবাস করতে হয়। ভোলার মাঝের, মদনপুর, চর জহিরুদ্দিন, চর মোজাম্মেল, কলাতলীরচর, চরনিজাম, ঢালচর, কুকরি-মুকরি, চর পাতিলাসহ জেলার অর্ধশতাধিক চরাঞ্চলে প্রয়োজনের তুলনায় আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা কম হওয়ায় এসব এলাকার কয়েক লাখ মানুষ চরম ঝুঁকিতে বসবাস করছেন।

এ অবস্থায় ভোলায় যে পরিমাণ আশ্রয়কেন্দ্র আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই যে কোন দুর্যোগ এলেই চরাঞ্চল থেকে মানুষকে অনেক ঝুঁকি নিয়ে মূল ভূ-খণ্ডে নিরাপদ আশ্রয়ে আনতে হয়। আবার অনেকে চরম ঝুঁকি নিয়ে চরেই বসবাস করেন।

তবে ভোলা জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্যোগপ্রবণ ভোলা জেলায় দুর্যোগ প্রতিরোধে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি। এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য আমরা সক্ষম। এ জেলায় বর্তমানে ৮৬৯টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। ১২টি মুজিব কিল্লা নির্মাণ করা হয়েছে। 

এএইচ


Ekushey Television Ltd.


Nagad Limted


© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি