জেল গেটে আ.লীগ নেতাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ এমপির
প্রকাশিত : ১২:৫৫, ৯ মার্চ ২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গা ইউনিয়ন রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়কারী আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিঞা জামিনে মুক্তির পর ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।
রোববার (৮মার্চ) বিকেলে জামিনে বের হলে ফরিদপুর জেল গেটে ফুলের মালা দিয়ে সিদ্দিক মিঞাকে স্বাগত জানান এমপি বাবুল।
জানান গেছে, ম.ম.সিদ্দিক মিঞা ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ও ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) সংসদীয় আসনে কেটে নেওয়ার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন।
এ নিয়ে এলাকাবাসীর আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে তাকে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে পুলিশের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
কারামুক্তির পরে ইউপি চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিঞা জানান, ‘আমার জেলমুক্তির জন্য নবনির্বাচিত এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
এদিকে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল এদিন বিকেলে তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা কথা দিয়েছিলাম ভাঙ্গার ইউনিয়ন রক্ষার আন্দোলনে গ্রেফতারকৃত আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ সবাইকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মুক্ত করব। আলহামদুলিল্লাহ, আজকে সিদ্দিক চেয়ারম্যান মুক্ত হলো। আমি নিজে জেলগেটে থেকে তাকে রিসিভ করলাম।’
প্রসঙ্গত, ভাঙ্গা উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) থেকে কেটে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। গত ৪ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে। নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি এলাকাবাসী।
পরে এ নিয়ে আন্দোলনে নামে আলগী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ম.ম.সিদ্দিক মিঞা। এলাকাবাসীকে নিয়ে চার দিন অবরোধ চলার পর ১৪ তারিখ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর তিন দিন সকাল-সন্ধ্যা ভাঙ্গায় মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সিদ্দিক মিঞা। কর্মসূচি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই তাকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
যদিও উচ্চ আদালতের মাধ্যমে ওই দুই ইউনিয়ন পুনরায় ফরিদপুর-৪ আসনে ফিরে আসে এবং গত নির্বাচনে এ দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা ফরিদপুর-৪ আসনেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
এএইচ
আরও পড়ুন










