ঢাকা, বুধবার   ২২ জুলাই ২০২৬

পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে বিয়ের চাপ, শারমিনকে হত্যা করে পালায় মাসুম: পিবিআই

সাভার প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২২:০৯, ২১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২২:১৫, ২১ জুলাই ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

গ্রেপ্তার এড়াতে দেশ ছেড়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন সাভারের আলোচিত শারমীন আক্তার হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত মাসুম ইসলাম। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।

পিবিআই জানিয়েছে, অনৈতিক সম্পর্কের জেরে মনোমালিন্য এবং বিয়ের জন্য চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করেই শারমীনকে হত্যা করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, সাভারের কাতলাপুর এলাকায় বাবা ইউনুস মণ্ডলের চায়ের দোকানে কাজ করার সময় মাসুম ইসলামের সঙ্গে পরিচয় হয় ঢাকার বসুন্ধরা এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শারমীন আক্তারের (৩৯)। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে শারমীন সাভারের বড়দেশী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করলে সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন মাসুম।

তদন্তে জানা গেছে, একপর্যায়ে শারমীন মাসুমকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে বিবাহিত মাসুমের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত ২ জুলাই ওই ভাড়া বাসায় দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শারমীনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান মাসুম।

ঘটনার পর ৩ জুলাই নিহতের বাবা শওকত হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ৮ জুলাই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই।

তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পিবিআই জানতে পারে, মাসুম তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার মণ্ডলপাড়ায় অবস্থান করছেন এবং সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ জুলাই সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. খালেদ জানান, মাসুম বিভিন্ন সময়ে শারমীনের কাছ থেকে চাপ দিয়ে নগদ অর্থ নিতেন। শারমীন চাকরির পাশাপাশি ব্যক্তিগত খরচের জন্য বাবার কাছ থেকেও টাকা নিতেন। একপর্যায়ে শওকত হোসেন তাদের সম্পর্কের বিষয়টি বুঝতে পেরে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন। এতে একদিকে অর্থসংকট, অন্যদিকে বিয়ের চাপ—দুইয়ের কারণে মাসুমের সঙ্গে শারমীনের বিরোধ আরও তীব্র হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এসব কারণ থেকেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি