ঢাকা, রবিবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

আন্তর্জাতিক সঙ্গীত অঙ্গনে বাংলাদেশি নিশান শুভ্র

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০০:০০, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | আপডেট: ২২:৫০, ১ অক্টোবর ২০১৮

নিশাদ শুভ্র

নিশাদ শুভ্র

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের ছেলে নিশান শুভ্র দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ের সঙ্গীত জগতে বেশ সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। নম্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি ঢাকায় এসে গীতিকার, গায়ক ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। নিজের গাওয়া একক অ্যালবাম ‘শুধু মনে রেখো’ দিয়ে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি। পরে ভারতের সুপার স্টার কুমার শানু, অনুরাধা পাড়োয়াল, অলকা ইয়াগনিক, উদিৎ নারায়ণসহ অনেক শিল্পীকে নিয়ে একটি অ্যালবাম বের করেন। এখন তিনি কলকাতা-মুম্বাইয়ে কাজ করছেন। এই গীতিকার, গায়ক ও সঙ্গীত পরিচালকের সঙ্গে কথা হয় একুশে টেলিভিশন অনলাইনের। তার সাক্ষাতকারের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো-

তিনি প্রখ্যাত গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়জীর কথায় আসিফ, এসডি রুবেল ও কুমার শানুকে নিয়ে ‘কেন দেখলাম তারে’অ্যালবামের সঙ্গীত পরিচালনা করে দারুন আলোচিত হন। বাংলাদেশে তার সঙ্গীত পরিচালনায় সর্বশেষ অডিও অ্যালবাম ‘স্বপ্নীল প্রেম’। অ্যালবামের ৮টি গান লিখেছিলেন নিশান শুভ্র ও কলকাতার জনপ্রিয় গীতিকার প্রিয় চট্রোপাধ্যায়।

নিশান শুভ্র বলেন, ‘স্বপ্নীল প্রেম’ এর পর আমি কলকাতার কণ্ঠশিল্পী রেমা, পূজা, সোনালী চৌধুরী ও কুমার শানুকে নিয়ে যথাক্রমে ‘গানচিলের দেশে’, ‘রঙিলা বন্ধু’ ও ‘প্রিয়তমা’ নামের তিনটি অ্যালবাম করি।

তিনি কথা বলেন বাংলাদেশের ও কলকাতা, মুম্বাইয়ের সিনেমা, গান নিয়ে। বাংলাদেশের সিনেমা জনপ্রিয় না হওয়ার কারণ নিয়ে তিনি জানান, ভারতের সিনেমাগুলোর গল্প জীবনভিত্তিক। তাদের সিনেমার গল্পগুলো সাধারণত সাধারণ মানুষকে নিয়ে। তাদের সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হয়। তাছাড়া ভারতের সিনেমাগুলো বেশ বড় বাজেটে করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সিনেমাগুলো তৈরি করা হয়।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ভালো মানের সিনেমা তৈরি করতে হলে নিজস্ব গল্প লাগবে। অন্যের লেখা বা সিনেমা চুরি করে ভালো কিছু করা সম্ভব নয়। এ জন্য উন্নতমানে ভালো গল্প আগে নির্বাচন করতে হবে।

তিনি বাংলাদেশের পরিচালক ও কলকাতা বা মুম্বাইয়ের সিনেমার পরিচালক দের নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, কলকাতার পরিচালকরা ধৈর্য ধরে কাজ করেন। অনেক দিন ধরে তারা একটা সিনেমা তৈরি করেন। আর বাংলাদেশের পরিচালকদের এতো ধৈর্য নেই। তারা তারা হুড়া করে একটা সিনেমা করে ফেলেন। সেটাতো ভালো হওয়ার কথা নয়। আর ভালো সিনেমা তৈরি করতে হলে প্রথমত ভালো পরিচালক হতে হবে। সেটা বাংলাদেশে হচ্ছে না।

বাংলাদেশের সিনেমা বা সঙ্গীতের ভবিশ্যত কেমন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এটা ভালো করবে বলে মনে হয় না। কারণ এ পেশায় মুলত যারা আসছেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা খুবই কম। সঙ্গীত বিষয়ে ভালো জ্ঞান অর্জন করেই এ পেশায় আসলে ভালো করা সম্ভব হবে বলেই মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশের কবি জামশেদ উদ্দীনের গল্প অবলম্বে অনার্য নূরজাহান পূর্ণদৈর্ঘ্য ছায়াছবি নির্মাণ করার কথা বলেছেন। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এটা মৌলিক একটা গল্প। ইতিহাস নির্ভর। এ গল্প নিয়ে ভারতের একজন বিখ্যাত পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি গল্পটি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। এটা একটা ভালো সিনেমা হতে পারে। এ নিয়ে কাজ শুরু করা হবে আগামীতে আশা করছি।
তবে, তিনি আরও বলেন, কলকাতার যারা বিখ্যাত শিল্পী এদের বেশিভাগের বাড়ি বাংলাদেশে।

তার মিউজিক আইকন হলো এসডি বর্মণ। যার বাড়ি কুমিল্লায়। তার হাত ধরেই বিখ্যাত শিল্পীরা এসেছেন বলে তিনি জানান, যেমন মোহাম্মদ রাফি, মান্না দে, কিশোর কুমার গিতা দত্ত। এরা সবাই এসডি বর্মণের হাত ধরে স্টার হয়েছেন।
এছাড়াও তিনি আরও বলেন, বাংলা সিনেমাগুলো বাস্তবভিত্তিক কাহিনী নিয়ে করতে হবে। বড় বাজেটে করতে হবে। কার‌ণ ভালো মানের সঙ্গীত করার মতো যতেষ্ট সাপোর্ট এখনও তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। কলকাতা বা মুম্বাই যেভাবে সিনেমা বা সঙ্গীত নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশে সেভাবে হয় না। সেইভাবে করতে পারলে বাংলা সিনেমাও আবার তার পূর্বের অবস্থা ফেরে পাবেন বলে তিনি আশা করেন।
নিশান শুভ্র দেশের সঙ্গীত জগত নিয়ে ভালো কিছু করতে চান বলে সব শেষ জানান।

এসএইচ/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি