আইন শিক্ষা ও পেশাজীবনে অনন্য দৃষ্টান্ত ব্যারিস্টার সায়েদ উল হক দিনার
প্রকাশিত : ১৭:৩৬, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৪০, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে আইন পেশা এবং গুণগত মানসম্পন্ন ব্রিটিশ আইন শিক্ষার প্রসারে যে কজন মানুষ নিজেদের মেধা, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তাঁদের মধ্যে ব্যারিস্টার সায়েদ উল হক (দিনার) অন্যতম।
তিনি একই সাথে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন সফল আইনজীবী এবং দেশের খ্যাতনামা আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 'দ্য ইকুইটাস স্কুল অব ল'-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক (আইন বিভাগের প্রধান)। আইন চর্চার পাশাপাশি দক্ষ আইনি প্রজন্ম গড়ে তোলার পেছনে তাঁর এই অনন্য অবদান তাঁকে তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের কাছে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্তে পরিণত করেছে।
ব্যারিস্টার সায়েদ উল হক দিনারের উচ্চশিক্ষা এবং সফল ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল যুক্তরাজ্যে। তিনি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে কৃতিত্বের সাথে এলএলবি (আইন বিষয়ে স্নাতক) ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর আইনের বিভিন্ন শাখায় আরও গভীর জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে তিনি নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটি এবং স্ট্রাথক্লাইড ইউনিভার্সিটি থেকে দুটি আলাদা এলএলএম (আইনে স্নাতকোত্তর) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
পরবর্তীতে ২০০৪ সালে বিশ্বখ্যাত দ্য অনারেবল সোসাইটি অব লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল (বারে অন্তর্ভুক্তি) খেতাব অর্জন করেন। শিক্ষার প্রতি তাঁর এই গভীর অনুরাগ এখানেই থেমে থাকেনি; ২০২২ সালে তিনি ঐতিহ্যবাহী ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর ডিপ্লোমাও সম্পন্ন করেন।
যুক্তরাজ্য থেকে শিক্ষা সমাপন শেষে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার তাগিদে ব্যারিস্টার সায়েদ উল হক দিনার বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ২০০৫ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার) এবং ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
দীর্ঘ দুই দশকের পেশাদার জীবনে তিনি সাংবিধানিক আইন, দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং জটিল বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে একজন অত্যন্ত দক্ষ ও দূরদর্শী আইনজীবী হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মামলায় তাঁর আইনি বিশ্লেষণ ও আইনি যুক্তি আদালত প্রাঙ্গণে সমাদৃত হয়েছে।
পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও ব্যারিস্টার দিনার নিজেকে নিয়োজিত করেছেন শিক্ষার আলো ছড়াতে। বাংলাদেশে ব্রিটিশ আইন ডিগ্রির প্রসারে তিনি এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধীনে দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে বাংলাদেশে যে আইনি শিক্ষা পরিচালিত হয়, তার মানোন্নয়নে তিনি অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর এই অতুলনীয় শিক্ষাদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন তাঁকে বাংলাদেশে একমাত্র "বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত শিক্ষক" হিসেবে বিশেষ খেতাব প্রদান করেছে, যা দেশের আইন অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত গর্বের।
শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি অত্যন্ত প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় "দিনার স্যার"। জটিল আইনি ধারা এবং তাত্ত্বিক বিষয়গুলোকে অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় ও বাস্তব জীবনের উদাহরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মগজে ঢুকিয়ে দেওয়ার এক জাদুকরী ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। তাঁর হাতে গড়া হাজারো শিক্ষার্থী আজ দেশে ও বিদেশে সুনামের সাথে আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। তাঁর দেখানো পথ ধরে শত শত শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি অর্জন করে দেশের বিচার ব্যবস্থায় অবদান রাখছেন।
ব্যারিস্টার সায়েদ উল হক দিনার প্রমাণ করেছেন যে, সততা, মেধা আর সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যেকোনো কঠিন লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। আইন পেশার মতো একটি চ্যালেঞ্জিং পেশায় থেকেও যেভাবে তিনি হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ে দিচ্ছেন, তা সমসাময়িক বাস্তবতায় সত্যিই এক বিরল দৃষ্টান্ত। তরুণ যারা আইনকে নিজেদের পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান, তাদের জন্য ব্যারিস্টার সায়েদ উল হক দিনার একটি আলোকবর্তিকা এবং এক অনুপ্রেরণার নাম।
এমএইচ










