ট্রাম্পকে মোদি: ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে পারি?’
প্রকাশিত : ১৮:০৮, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভারতের অমীমাংসিত প্রতিরক্ষা কেনাকাটা ও বাণিজ্যসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
এসব বিষয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহের বিষয়টিও ছিল। ট্রাম্প জানান, এ সময় মোদি তাকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্যদের এক সম্মেলনে বক্তৃতা করার সময় ট্রাম্প বলেন,“ভারত অ্যাপাচি হেলিকপ্টার অর্ডার দিয়েছিল, কিন্তু পাঁচ বছরেও তা পায়নি।প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন— ‘স্যার, আমি কি আপনাকে একটু দেখতে পারি? হ্যাঁ!’”
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো বলেও এসময় তিনি উল্লেখ করেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়ালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, শুল্কনীতিকে ঘিরে মোদি তার ওপর বিশেষ খুশি নন। তার কথায়, ‘ওঁ খুব খুশি নন। কারণ এখন ওঁদের অনেক শুল্ক দিতে হচ্ছে—বিশেষ করে তেল কেনার কারণে।’ যদিও তিনি যোগ করেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।
শুল্ক নীতির সাফল্য নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ট্রাম্প। তার দাবি, ‘আমরা শুল্কের মাধ্যমে ধনী হয়ে উঠছি। শিগগিরই ৬৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ আমেরিকায় আসছে, শুধুই ট্যারিফের কারণে।’
প্রতিরক্ষা সম্পর্কের প্রসঙ্গেও ফের অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের বিলম্বিত সরবরাহ নিয়ে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, ভারত মোট ৬৮টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার অর্ডার করেছিল এবং সেই বিষয়টি এখন আলোচনার পর্বে রয়েছে, যদিও বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প।
এর আগেই এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছিলেন, প্রয়োজনে ভারতের উপর আরো শুল্ক চাপানো হতে পারে। তার মন্তব্য ছিল, ‘রাশিয়ার তেল ইস্যুতে যদি ভারত সাহায্য না করে, তাহলে আমরা শুল্ক বাড়াতে পারি।’
তবে একইসাথে তিনি বলেন, ‘মোদি খুব ভালো মানুষ। তিনি জানতেন আমি খুশি নই। আমাকে খুশি করাটা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমরা খুব দ্রুতই শুল্ক বাড়াতে পারি।’
বর্তমানে আমেরিকা ভারতের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়েছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক সরাসরি যুক্ত ভারতের রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার সাথে। ওয়াশিংটনের দাবি, মস্কোর সাথে জ্বালানি বাণিজ্য বন্ধ করতে দেশগুলোর উপর চাপ তৈরি করাই এই নীতির উদ্দেশ্য।
এমআর//
আরও পড়ুন










