ঢাকা, সোমবার   ১০ আগস্ট ২০২৬

মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আবুল কালাম আযাদের আপিল

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৮:৩৭, ১০ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪৪, ১০ আগস্ট ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা আবুল কালাম আযাদের খালাস চেয়ে করা আপিল আবেদনের শুনানি আগামী ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেছে আপিল বিভাগ।

সোমবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকসহ তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আপিলের কপি হাতে না পাওয়ায়,  শুনানি পেছাতে আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। পরে আবেদন মঞ্জুর করে ১৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ।

আবুল কালাম আযাদের আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক জানান, “আপিল আবেদনের সাথে বিলম্ব মার্জনা এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেয়া সাজা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। জুলাই মাসে আপিল আবেদনটি করা হয়েছে।”

আইন অনুযায়ী, রায় প্রকাশের একমাসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার বিধান রয়েছে। সেই সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিলম্ব মার্জনার আবেদন করে এই আপিল আবেদনটি করা হয়েছে।

২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সেসময় পলাতক ছিলেন তিনি।

এই রায়টিই ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার প্রথম রায়।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে এ মামলার বিচার শুরু হলে তিনি প্রথম থেকেই অনুপস্থিত ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতেি চলে বিচার কাজ। পলাতক থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি প্রথম রায় ছিল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালে হওয়া আদালতের রায় সাতটি অভিযোগ তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এর  মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড, এবং চারটিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।  প্রমাণের অভাবে একটি অভিযোগ খারিজ করে দেয় আদালাত। 

রায়ের ১৩ বছর পর এই বছরের ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আযাদ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

পরে জানা গেছে, আত্মসমর্পণের শর্তে নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করেছিলেন তখনকার রাষ্ট্রপতি। পরে তিনি আত্মসমর্পণ করলে আপিলের জন্য তাকে নথিপত্র সরবরাহ করার নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

আবুল কালাম আযাদ বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনে ইসলাম বিষয়ক অনুষ্ঠানের জন্য পরিচিত ছিলেন।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি