ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগের কারণ জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৮:২৯, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন। মঙ্গলবার দুপুরের পর এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে পরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি দাবি করেন, আইনজীবীদের কল্যাণ ও স্বার্থ নিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে কিছু কথা বলা হয়েছে এমন দাবি করা হলেও ওই ধরনের কোনো বক্তব্য মামলার কার্যধারায় ছিল না।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি মামলায় আদালত একজন নারী আইনজীবীর ওপর পাঁচ লাখ টাকা এবং রিট আবেদনকারীর ওপর আরও পাঁচ লাখ টাকা খরচা আরোপ করেন। ওই অর্থ ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, মামলাটির সূত্রপাত ২০১৩ সালে একজন কাজি নিয়োগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। একই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনকারী পাঁচটি রিট করেন। তবে আগের রিট খারিজের বিষয়টি পরবর্তী রিটে উল্লেখ করা হয়নি বলে তিনি জানান। আদালত এটিকে গুরুতর প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করে খরচা আরোপ করেছেন বলে অ্যাটর্নি জেনারেল দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, সকালে আদেশ দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী তাঁর পাশে বসে আদালতের সিদ্ধান্ত শুনেছেন। ওই সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী, সকাল সোয়া ৯টার দিকে ওই মামলার আদেশ হয়। পরে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে অন্য একটি মামলার শুনানির সময় খোকন ওই মামলায় একজন আইনজীবীর ওপর জরিমানা আরোপের প্রসঙ্গ তোলেন।

এ সময় প্রধান বিচারপতি জানান, আদালত সবকিছু বিবেচনা করেই আদেশ দিয়েছেন এবং সেটি পরিবর্তনের সুযোগ নেই। আদালতের সঙ্গে প্রতারণা এবং আপিল বিভাগের আগের আদেশ গোপন করার মতো গুরুতর বিষয় ঘটেছে বলেও প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

এরপর খোকন প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আইনজীবীদের আয় কমে গেছে—এমন মন্তব্য করেন বলে দাবি করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাঁর ভাষ্য, প্রথমে বিষয়টি প্রধান বিচারপতি হালকাভাবে নিলেও পরে মন্তব্যটির ব্যাখ্যা জানতে চান।

অ্যাটর্নি জেনারেলের দাবি, একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি ওই মন্তব্যকে আদালত অবমাননার শামিল বলে উল্লেখ করেন। এরপর তিনি জানান, এমন বক্তব্যের পর সেদিন আর আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। এ কথা বলেই প্রধান বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন।

এমএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি