ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়: প্রধান উপদেষ্টা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:০৬, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশে একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত এই নির্বাচন সেটির একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে একথা বলেন তিনি।

 প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই নির্বাচন কেবল একটা ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, নতুন অভিযাত্রার সূচনা। নুতন বাংলাদেশের জন্ম।”

জুলাই সনদ অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন উল্লেখ করে করে ড. ইউনূস বলেন, জাতি কখনো জুলাই সনদের কথা ভুলবে না।

“অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন জুলাই সনদ। যার ভিত্তিতে গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশের মানুষ। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথগুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। আশা করবো এটা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের ছোটবড় ভালো মন্দ অনেক কথা ভুলে গেলেও জুলাই সনদের কথা জাতি কখনো ভুলবে না” বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

স্বপ্ন, আকাঙ্খা ও শক্তিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলে বাংলাদেশকে কেউ কোনদিন ঠেকাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শেষ কর্মদিবসে বিদায় নেওয়ার আগে তিনি বলেন, শূন্য থেকে নয় বরং মাইনাস পয়েন্ট থেকে অন্তর্বর্তী সরকার কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ''আমরা শূন্য থেকে শুরু করিনি—শুরু করেছি মাইনাস থেকে। ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে তারপর সংস্কারের পথ ধরেছি। আজ অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নিচ্ছে। কিন্তু গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, বাকস্বাধীনতা ও অধিকার চর্চার যে ধারা শুরু হয়েছে—তা যেন কখনো থেমে না যায়।''

নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব সকলের বলে আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বিগত ১৮ মাস আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন শেষে, একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি।”

গত ১৮ মাসের দায়িত্ব পালনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমাদের প্রথম কাজ ছিল দেশকে সচল করা। এটা ছিল সবচাইতে কঠিন কাজ। যারা দেশকে লুটেপুটে খেত তারাই দেশের এই যন্ত্র চালাতো। তাদের একান্ত অনুগত লোক নিয়ে অভ্যুত্থানের সঙ্গে সঙ্গে সবাই পালিয়েছে। বড় কর্তা পালিয়েছে। মাঝারি কর্তা পালিয়েছে। অন্যরা ভোল পাল্টিয়েছে। অথবা আত্মগোপনে চলে গেছে।”

“কেউ নানাজনের সুপারিশ নিয়ে আসছে তারা অভ্যুত্থানের গোপন সৈনিক ইত্যাদি। সরকারের ভেতরে যারা পালিয়ে যায়নি তাদের মধ্যে কাকে বিশ্বাস করবেন, কাকে করবেন না- এটি মহাসংকট হয়ে দাঁড়াল। যতই মৃতদেহের, অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন দেহের সন্ধান আসছিল ততই তারা চিহ্নিত হচ্ছিল।”

ড. ইউনূস বলেন, “সেই থেকে ১৮ মাস চলে গেছে। অবশেষে ১২ই ফেব্রুয়ারি আসলো। দেড় যুগ পর দেশে একটি জাতীয় নির্বাচন এবং ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য সর্বসম্মত জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠান হলো। এই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ, দেশের সর্বত্র একটা ঈদের পরিবেশ ছিল যা আমাদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন তাদের আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। যারা পরাজিত হয়েছেন তাদেরকেও আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি।”

নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে মঙ্গলবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। সেই হিসাবে আজই অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ কর্মদিবস। এর মধ্যেই কার্যালয়েল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি