ঢাকা, বুধবার   ১৮ মার্চ ২০২৬

সরকারের প্রথম মাসে সীমান্ত হত্যা শূণ্য, প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তায় পরস্থিতি বদল

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৫:০৬, ১৮ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৫:০৭, ১৮ মার্চ ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

বিএনপি সরকারের প্রথম মাসে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নেমে এসেছে। যা যুগান্তকারী সাফল্য। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে হত্যাকাণ্ডের নৃশংস অতীতের প্রেক্ষাপটে এমন পরিস্থিতি কার্যকর নেতৃত্ব ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির প্রতিফলন। এটা সত্যিই নতুন সরকারের অনন্য অর্জন। 

১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এক মাস পূর্ণ করেছে নতুন সরকার। এই এক মাসের খতিয়ানে সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী দৃশ্যপটের বিপরীতে গত এক মাসে সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে দেওয়া কঠোর বার্তার কারণেই সীমান্ত পরিস্থিতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিনাকারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে বিএনপি সরকারের কূটনৈতিক বার্তা এবং বিশাল জনসমর্থন নিয়ে সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের প্রেক্ষাপটে বিএসএফ-এর সংযত আচরণ এবং বিজিবি'র অধিকতর সতর্ক ও  স্বপ্রণোদিত ভূমিকা জনমনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সীমান্তের বর্তমান এই শান্ত রূপ অতীতের চরম বিভীষিকাময় চিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, বিদায়ী ২০২৫ সালে বিএসএফ-এর গুলিতে ও নির্যাতনে অন্তত ৩৪ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন, যা ছিল গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। 

আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানীর মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও এদেশের মানুষের স্মৃতিতে এখনও দগদগে। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তিন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। সেই রক্তঝরা প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে গত এক মাসে সীমান্তে বিএসএফ-এর অস্ত্র নীরব থাকাকে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

সীমান্ত হত্যা চিরতরে শূন্যে নামিয়ে আনতে গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ এবং বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেশীর দিকে কোনো গুলি না ছোঁড়ার বিষয়টিকে একটি 'ইতিবাচক দিক' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 

মানবাধিকার কর্মীরাও সরকারের প্রথম মাসের এই পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এখনই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই বাহিনী প্রাণহানির এই শূন্যের অংক ধরে রাখতে সীমান্ত এলাকার জনসাধারণকে অবৈধ অনুপ্রবেশ থেকে বিরত থাকা এবং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে। 

এছাড়াও, বিজিবি তার ঐতিহ্যমন্ডিত অতীত এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ অগ্রাধিকার দিয়ে চোরাচালান এবং মানবপাচার বিরোধী অভিযান জোরদারে নতুন সরকারের নির্দেশনায় অধিকতর  দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে। এ সময় বিজিবি প্রায় দুই শত কোটি টাকার চোরাই পণ্য, ২০টি বিদেশি অস্ত্রসহ গোলাবারুদ ও সরঞ্জামাদি, বিপুল পরিমাণ মাদকসহ দুই শতাধিক ব্যক্তিকে সীমান্তে অবৈধভাবে গমনাগমন  কালে আটক করে বলে জানা যায়। 

এহেন পরিস্থিতি দেশের জনগণের জন্য একটি আশাব্যাঞ্জক বার্তা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকার এ  পরিস্থিতি অব্যাহত রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রাখবে, যাতে সীমান্ত হতে পারে শান্তি ও সহযোগিতার প্রতীক।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি