সাড়ে পাঁচ বছর কোনো ক্যাম্পেইন না হওয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
প্রকাশিত : ১৮:৫১, ৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৫৩, ৬ এপ্রিল ২০২৬
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বিগত সরকারের অব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর কোনো টিকাদান ক্যাম্পেইন না থাকায় দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে।
বর্তমান হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (০৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে সংসদ সদস্য আকতার হোসেনের এক জরুরি জন গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর অন্তর হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও গত সাড়ে পাঁচ বছর কোনও ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে বিপুল সংখ্যক শিশু নিয়মিত টিকাদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং বর্তমানে হামের প্রকোপ বেড়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তে টিকার মজুতেও সংকট তৈরি হয়েছিল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে গত ৫ এপ্রিল থেকে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু হয়েছে।
প্রথম ধাপে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় ৫৯ মাস বয়সী অর্থাৎ ৫ বছরের কম বয়সী ১২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দিনেই ৩০টি উপজেলায় ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা ৯৬ শতাংশ অর্জন।
তিনি বলেন, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে এবং ৩ মে থেকে সারা দেশের অবশিষ্ট জেলা ও সিটি কর্পোরেশনগুলোতে এই কর্মসূচি শুরু হবে। টিকাদানের পাশাপাশি শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলও খাওয়ানো হচ্ছে।
সংসদ সদস্যের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীতে আরও ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইসিইউ এবং ভেন্টিলেটরও প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া আইসিডিডিআর-বি এর বিজ্ঞানী ডা. তাহমিদের উদ্ভাবিত মাত্র ৩০০ টাকা ব্যয়ের সাশ্রয়ী অক্সিজেন ইনফ্লো সিস্টেমের মাধ্যমে যেকোনো হাসপাতালে দ্রুত অক্সিজেন সেবা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংক, ডব্লিউএইচও (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) এবং ইউনিসেফ এই সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
সমন্বয় নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৫০০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া করোনাকালীন সাশ্রয় হওয়া ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে ইউনিসেফ থেকে অতিরিক্ত হামের টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও সংকট না হয়।
জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় মাঠ পর্যায়ের সকল স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করে নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও সংসদকে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এমআর//
আরও পড়ুন










