শুধু আইন করে নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধ সম্ভব নয়: আইনমন্ত্রী
প্রকাশিত : ১৬:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শুধু আইন প্রণয়ন করে দেশে নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। নির্যাতন একটি অমানবিক কাজ, এটি অন্যায় এবং অগ্রহণযোগ্য। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
শনিবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ইউএনসিএটি ও ওপিসিএটি বাস্তবায়ন বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভা’য় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের এই সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তবেই আমাদের ভালো আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে। নির্যাতনের সংস্কৃতি নির্মূল করতে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। আমাদের এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সমান গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। যেন মানুষ বুঝতে পারে যে, নির্যাতন একটি অমানবিক কাজ, এটি অন্যায় এবং অগ্রহণযোগ্য।
তিনি আরো বলেন, আমাদের সংবিধান নিজেই শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করে। অনুচ্ছেদ ৩৫(৫) স্পষ্টভাবে বলে যে, কোনো ব্যক্তিকে নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর শাস্তি বা আচরণের শিকার বানানো যাবে না। সাংবিধানিক এই বিধান মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র এবং আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী সম্মেলনের নীতিসমূহকে প্রতিফলিত করে। এটি সরাসরি একটি নিষেধাজ্ঞা এবং রাষ্ট্র ও সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।
চাইলেই রাতারাতি এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ হবে না জানিয়ে আইনমন্ত্রী আরো বলেন, গত দুই মাসে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জোরপূর্বক গুমের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, আগস্ট-পরবর্তী ক্ষমতার পালা বদলের পর থেকে হেফাজতে নির্যাতনও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এগুলো আমাদের আইনি সংস্কৃতি, আমাদের আইনশাস্ত্র এবং আমাদের জাতীয় বিবেকের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
তবে, সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার যেন না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি দৃঢ়ভাবে জোর দিয়ে বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা দায়মুক্তির সংস্কৃতি চাই না। আমরা কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন চাই না। আমরা হেফাজতে মৃত্যু চাই না। আমরা জোরপূর্বক গুম চাই না। আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চাই না। আমরা জানি এই ধরনের লঙ্ঘন কী পরিমাণ যন্ত্রণা দেয়।
আজকের অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার এবং নির্যাতন, জোরপূর্বক গুম, যথেচ্ছ আটক ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণের বিরুদ্ধে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক জোট ওএমসিটি।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার; দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারপারসন বিচারপতি মঈনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার ড. অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস।
এএইচ
আরও পড়ুন










