সুনামগঞ্জে এত বজ্রপাত হয় জানলে ওখানে বিয়েই করতাম না: স্পিকার
প্রকাশিত : ১৯:৫৮, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২০:০১, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সুনামগঞ্জের বজ্রপাতের অবস্থা ও ভয়াবহতার কথা শুনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘এত বজ্রপাত সুনামগঞ্জে হয়, জানলে তো বিয়েই করতাম না ওখানে।’
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি এ কথা বলেন।
বজ্রপাত নিয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমার নির্বাচনী আসনে চারটি উপজেলা হাওরবেষ্টিত। কৃষি ও মৎস্য আহরণের নিমিত্তে সারা বছর এই এলাকার কৃষক ও মৎস্যজীবীদের হাওরে কাজ করতে হয়।কিন্তু গ্রীষ্ম ও বর্ষায় হাওরে কাজ করতে গিয়ে আকস্মিক বজ্রাঘাতে অনেকেরই প্রাণহানি ঘটে। অতি সম্প্রতি দেশে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, তার মধ্যে আমার আসনেই চারজন। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা নাসার মতে, সুনামগঞ্জ হাওর অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘনত্ব অনেক বেশি। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৫টির বেশি বজ্রপাত সংঘটিত হয়। বিগত সরকার বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করলেও এ ব্যাপারে কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচি নেই।’ তিনি প্রতিটি হাওরে আশ্রয়কেন্দ্র এবং বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের দাবি জানান।
জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘বাংলাদেশ পৃথিবীর ৯টি দুর্যোগপ্রবণ দেশের একটি। সাম্প্রতিক কয়েক বছর যাবৎ সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বজ্রপাত। বিশেষ করে হাওর ও উত্তরাঞ্চলে এর তীব্রতা বেশি। আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ওই অঞ্চলে সাইরেন বসানোর পরিকল্পনা করছি, যাতে মেঘ জমলে কৃষকরা নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারেন। এ ছাড়া তালগাছ রোপণ এবং বজ্রনিরোধক টাওয়ার বসানোর গবেষণাও চলছে। আমরা বিধিমালা সংশোধন করেছি যাতে বজ্রাঘাতে গবাদি পশু মারা গেলেও কৃষকরা আর্থিক সহায়তা পান।’
মন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সুনামগঞ্জে এত বজ্রপাত হয় জানলে তো বিয়েই করতাম না ওখানে।’
উল্লেখ্য, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের শ্বশুরবাড়ি সুনামগঞ্জে। তার সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ ১৯৪৯ সালের ২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল দীর্ঘ ৫৪ বছরের। গত ২৮ মার্চ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দিলারা হাফিজ।
এমআর//
আরও পড়ুন










