ঢাকা, সোমবার   ২৭ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই সনদকে ‘আননেসেসারি’ বলায় সংসদে উত্তেজনা, হইচই

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২১:২৬, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

বিএনপির একজন সংসদ সদস্য তাঁর বক্তব্যে জুলাই সনদকে ‘আননেসেসারি’ (অপ্রয়োজনীয়) বলে উল্লেখ করায় জাতীয় সংসদে কিছু সময়ের জন্য হইচই ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের বিরতির আগে এ ঘটনা ঘটে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে গাজীপুর-২ আসনের (বিএনপি) সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, এই সংসদের প্রথম দিন থেকেই আননেসেসারি (অপ্রয়োজনীয়) একটি জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছে।

মঞ্জুরুল করিমের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় আজকে ট্রেজারি বেঞ্চের সরকার গঠন করেছেন, আজকের এই মহান সংসদে জুলাইকে অপ্রয়োজনীয় বলা হয়েছে, জুলাই আলোচনাকে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জুলাই সনদকে অপ্রয়োজনীয় বলা হয়েছে। এটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

এ সময় সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যা কিছু বলবেন স্পিকারকে অ্যাড্রেস করে বলবেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ, এখানে তো বিভিন্ন দলের সদস্যবৃন্দ প্রতিনিধি। প্রত্যেকের কি একই অনুভব হতে পারে? গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো মতভিন্নতা। সুতরাং এ বাক্‌স্বাধীনতার সফলতা নিয়ে বাক্‌স্বাধীনতার কারণে যে যাঁর বক্তব্য খোলাখুলিভাবে জাতীয় সংসদে প্রকাশ করতে পারেন।’

তখনো সংসদ সদস্যরা হইচই করতে থাকেন। এ পর্যায়ে স্পিকার বলেন, ‘যখন স্পিকার কথা বলে, অনুগ্রহ করে সবাই চুপ করে বসে থাকবেন নিজের আসনে। আমি যেটা বলতে চাই, সকলেরই বাক্‌স্বাধীনতা আছে এবং যদি কোনো বক্তব্য আপনাদের পছন্দ না হয়, আপনারা বক্তব্য রাখবেন।’

স্পিকার আরও বলেন, ‘সুন্দর ও শালীনভাবে যে যাঁর বক্তব্য জাতীয় সংসদে রাখবেন, এটাই আমরা আশা করি। অহেতুক একজন বক্তাকে কেউ ডিস্টার্ব করবেন না। আপনার সময় যখন আসবে, আপনি আপনার বক্তব্য সুবিধামতোভাবে দেবেন।’

এরপর মাগরিবের নামাজের জন্য অধিবেশনে বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেন, তিনি সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিমকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করেছেন। ওই সদস্য বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক করা যাবে না। প্রয়োজন হলে এটি এক্সপাঞ্জ করে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি