সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সিঙ্গাপুরের, তিন ধাপ এগিয়ে ৯৭তম স্থানে বাংলাদেশ
প্রকাশিত : ১৪:২৪, ২২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৪:২৫, ২২ জুলাই ২০২৬
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৭তম। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়াও।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) লন্ডনভিত্তিক বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স তাদের বার্ষিক হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৬ প্রকাশ করে।
সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে বিশ্বের ৩৫টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই অথবা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন।
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে কোনো দেশের পাসপোর্টের শক্তি নির্ধারণ করা হয়, সেই দেশের নাগরিকরা কতটি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধায় প্রবেশ করতে পারেন, তার ভিত্তিতে। ২০২৬ সালের সূচকে বিশ্বের ১৯৯টি পাসপোর্ট এবং ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সূচকটি তৈরিতে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)-এর টিম্যাটিক ডেটাবেজ ব্যবহার করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় কোথায় বাংলাদেশ?
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। দেশটি ৫২তম স্থানে রয়েছে এবং তাদের নাগরিকরা ৯৩টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পান।
অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ৮১তম। ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা ৫৫টি গন্তব্যে এ সুবিধা পান। শ্রীলঙ্কা রয়েছে ৯৪তম স্থানে; দেশটির নাগরিকরা ৩৯টি গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারেন।
বাংলাদেশের পরেই রয়েছে নেপাল (৯৮তম)। পাকিস্তান রয়েছে ১০১তম স্থানে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্ট আফগানিস্তানের, যা বৈশ্বিক তালিকার সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে। আফগান নাগরিকরা মাত্র ২২টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পান।
শীর্ষে সিঙ্গাপুর
এবারও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা ১৯২টি গন্তব্যে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন।
যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৮টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পান।
১৮৭টি গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন।
এ ছাড়া ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের ১১টি দেশ যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৬টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা ভোগ করেন।
বেড়েছে বৈশ্বিক ভ্রমণ সুবিধা, রয়ে গেছে বৈষম্য
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স জানিয়েছে, সূচকটি চালুর ২০ বছরে বৈশ্বিক ভ্রমণ সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বের একটি পাসপোর্ট গড়ে ১০৮টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা দেয়। ২০০৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫৮টি।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বৈষম্যও বাড়ছে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টধারীরা ১৯২টি গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারলেও সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্টধারীদের সুযোগ সীমাবদ্ধ ২২টি গন্তব্যে। ফলে দুই প্রান্তের মধ্যে ভ্রমণ সুবিধার ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৭০টি গন্তব্যে।
সূত্র: হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সে
এসএস/
আরও পড়ুন










