প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য যদি শহিদ হতে পারি, গ্রেপ্তারের আগে ভিডিওবার্তায় আখতারুজ্জামান
প্রকাশিত : ১৯:৫৭, ২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২০:০৪, ২ অক্টোবর ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার মামলায় গ্রেপ্তারের ঠিক আগমুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওবার্তা দিয়েছেন জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে হেফাজতে নেওয়ার সময় তিনি এই বার্তা দেন।
ভিডিওবার্তায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, দোয়া করবেন তিনি যেন জনগণের জন্য, দেশের মানুষের জন্য বিশেষ করে প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য যদি শহিদ হতে পারেন আল্লাহর কাছে, যেন তার সেই দাবি ও আহ্বান কবুল করেন।
ডিবি পুলিশের অভিযানের সময় ধারণ করা সংক্ষিপ্ত ওই ভিডিওতে সাবেক এই সংসদ সদস্য দেশবাসীকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তাকে এই মুহূর্তে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে, তিনি শুধু সবাইকে এটি জানিয়ে গেলেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের অধিকারের সংগ্রামে তিনি আজীবন আছেন এবং থাকবেন। যতদিন বেঁচে আছেন, ততদিন জনগণের পাশে থেকে তাদের জন্য সংগ্রাম করবেন এবং জনগণের জন্য এই জীবন ত্যাগ করবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে লাগেজ ও ট্রলি পেতে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় মদিনা ফেরত যাত্রীদের সঙ্গে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বাগবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে এলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন এবং বিমান মন্ত্রীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
আজ সকালে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে সংরক্ষিত কেপিআই এলাকায় ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ায় নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ফেলে দেওয়া এবং বিমান প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করার কথাও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিএনপি থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত হওয়া সাবেক এই সংসদ সদস্য গত ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। বর্তমানে বিমানবন্দর থানার ওই মামলায় সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।
এমএইচ
আরও পড়ুন










