ঢাকা, শুক্রবার   ০৯ অক্টোবর ২০২৬

আগামী ৫ বছরে ২ কোটি মানুষকে উন্নত চক্ষুসেবা দেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী মুহিত

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২০:০৫, ৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২০:১০, ৮ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

অন্ধত্ব ও দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যা মোকাবিলায় নেওয়া পাঁচ বছর মেয়াদী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে, সরকার আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ২ কোটি মানুষকে উন্নত প্রাথমিক চক্ষুসেবা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রাথমিক চক্ষুসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্তর্ভুক্ত করার এবং তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, স্কুল এবং পোশাক কারখানার মতো কর্মক্ষেত্রে মানুষের কাছেও এই সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। 

দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও চিকিৎসার মাধ্যমে আমরা মানুষের কর্মক্ষমতা, কাজের দক্ষতা এবং আয় বৃদ্ধি করতে চাই। সরকার একটি যথাযথ রেফারেল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে এবং রেফারেল হাসপাতালগুলো চিহ্নিত করবে, যাতে স্ক্রিনিং ও প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া রোগীরা উপযুক্ত চিকিৎসা পান।

পাঁচটি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সরকার স্কুলপড়ুয়া শিশুসহ ১ কোটি মানুষকে চশমা প্রদান করবে, অন্তত ১০ লাখ মানুষের ছানি অপারেশন করবে, অন্তত ৮০ শতাংশ চক্ষু বিশেষজ্ঞকে প্রশিক্ষণ দেবে এবং এই কর্মসূচিগুলোর দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে একটি 'জাতীয় চক্ষু স্বাস্থ্য কৌশলগত পরিকল্পনা' প্রণয়ন করবে। 

তিনি এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে আগামী মাসে 'গ্লোবাল সামিট ফর আই হেলথ'-এ উপস্থাপন করা হবে, একটি বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন।

প্রতিমন্ত্রী মুহিত বলেন, আমি জানি, চক্ষুসেবার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানো, ১ কোটি মানুষকে চশমা দেওয়া এবং ১০ লাখ ছানি অপারেশন করা সহজ কাজ নয়। কিন্তু এই খাতে কর্মরত সবার মধ্যে যে উদ্দীপনা, ঐক্য, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং প্রমাণ-ভিত্তিক কর্মপদ্ধতি দেখা যাচ্ছে, তা আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে যে আমরা এই লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারব।

'আইএনজিও ফোরাম ইন আই হেলথ'-এর সহায়তায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অফ বাংলাদেশ (ওএসবি) যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. সৈয়দ মাহবুবুল কাদির, আইএপিবির কান্ট্রি চেয়ার (বাংলাদেশ চ্যাপ্টার) ও অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ, ওএসবি প্রেসিডেন্ট ডা. মো. তৌহিাদুর রহমান ও মহাসচিব অধ্যাপক মো. নিনু রেইন (নিউটন), আইএনজিও ফোরামের চেয়ার ও সাইটসেভার্সের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও এবং ভিশনস্প্রিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিন।

ডা. মুনির আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, চক্ষুসেবা প্রসারে এ খাতের সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। 

তিনি বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, চক্ষু স্বাস্থ্যসেবাকে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন এজেন্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। 

ডা. মুনির জানান, বাংলাদেশে কর্মরত আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর দ্য ব্লাইন্ড’-কে পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি চক্ষু সেবা খাতে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বের কাঠামো ছাড়া একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন হবে, আমরা যতই কাজ করি না কেন।

এমএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি