ঢাকা, বুধবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২২, || মাঘ ৫ ১৪২৮

রোহিঙ্গা ইস্যুতে এয়ালাইন্স ও কক্সবাজারের হোটেলগুলোর ব্যবসা বেড়েছে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৭:২৫, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | আপডেট : ১২:১৫, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আসার পর থেকে কক্সবাজারের স্থানীয় আবাসিক হোটেলগুলো সরকারী কর্মকর্তা, মানবাধিকার ও উন্নয়নকর্মীদের ভিড়ে মুখরিত। একই ইস্যুতে অভ্যন্তরীন বিমান কোম্পানিগুলোর টিকেট বিক্রিও বেড়েছে।

রয়েল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল হক শামিম বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে আমাদের এখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদেশি অতিথির আগমন ঘটেছে।’

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আগষ্টের শেষ সপ্তাহ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের আগ পর্যন্ত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃসংশতার মুখে বাংলাদেশে প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

যদিও গত কয়েকদিন ধরে রোহিঙ্গার ঢল তুলনামূলক কমেছে তবুও হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

কক্সবাজারের হোটেল অপারেটরদের কাছে সেপ্টেম্বর মাস ‘অফ সিজন’ বা খারাপ সময়। কিন্তু মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের আগমনের প্রেক্ষাপটে অফ সিজনের কোনো প্রভাব পড়েনি বলে হোটেল মালিকারা জানিয়েছেন।  

গত মাসেও যেখানে অতিথি আগমনের হার ৪০ শতাংশ ছিল সেখানে বর্তমানে তা ৭০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অ্যালবাট্রস রিসোর্টের মহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম। তার মতে, সার্বিকভাবে তাদের রিসোর্টে অতিথিদের আগমন বেড়েছে।

রেজাউল করিম বলেন, গত দশ দিনে আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অতিথির আগমন লক্ষ্য করেছি। অনেকে ত্রাণ বিতরণের জন্যে এসে রাতযাপন করে পরের দিন চলে যাচ্ছেন।

লং বিচ হোটেলের সেলস ম্যানেজার সারওয়ার হাসান বলেন, আগের মাসের চেয়ে চলতি মাসে আমাদের রিসোর্টে অতিথি আগমনের হার ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আমার লক্ষ্য করেছি, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিদের আগমনের হার বাড়ছে। অক্টোবর মাসে আগাম বুকিংয়ের হার আরো বেড়েছে। ত্রাণ বিতরণের জন্য অতিথিদের অনেকে কিছুটা দীর্ঘ সময় হোটেলে অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।  

একই কারণে অভ্যন্তরীন বিমান কোম্পানিগুলোর ঢাকা-কক্সবাজার ‍রুটে টিকিট বিক্রির হার বেড়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের পর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে টিকিট বিক্রির হার বেড়েছে বলে জানান নভোএয়ারের সিনিয়র মার্কেটিং ম্যানেজার একেএম মাহফুজুল আলম। তার মতে, ঢাকা-কক্সবাজারে রুটে তাদের দৈনিক দুটো ফ্লাইটে আগে যেখানে ৮০ শতাংশ যাত্রী পাওয়া যেত, এখন সেখানে ৯০-৯২ শতাংশ যাত্রী আসছে।

তিনি বলেন, সরকারী কর্মকর্তা, জাতিংসঘের প্রতিনিধি ছাড়াও সাংবাদিকদের যাতায়াত তুলনামূলক বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত আকাশপথে পরিবহনের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। চলতি সপ্তাহেও আকাশপথে যাতায়াতের হার বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।  

তবে অভ্যন্তরীর রুটে কোনো কোম্পানি ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ায়নি। নভোএয়ার আগের মতোই দুটো ফ্লাইট পরিচালনা করছে, বিমানের তিনটি, রিজেন্ট ও ইউএস বাংলা আগের মতোই ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সড়ক পথেও মানুষের যাতায়াত অনেক বেড়েছে।  

ডব্লিউএন


Ekushey Television Ltd.

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি