মিরপুর টেস্ট: ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে হার বাংলাদেশের
প্রকাশিত : ১৮:০৯, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
দুই ইনিংসেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের খেসারত দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ।
শনিবার মিরপুরে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিনের খেলায় এই পরাজয় বরণ করে স্বাগতিকরা।
চতুর্থ দিন ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১৪২ রানে অলআউট হয় তারা। এতে জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১৭০ রান, যা সহজেই পেরিয়ে যায় সফরকারীরা।
বাংলাদেশের ব্যাটাররা স্পিনের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা ক্রমেই ভাঙতে থাকা উইকেটে টিকে থাকার পরিবর্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পথ বেছে নেন।
ওপেনার ব্র্যান্ডন কিংয়ের অপরাজিত ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে মাত্র ৩৫.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আলোকস্বল্পতা, বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে বারবার খেলা বন্ধ হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার বাংলাদেশের স্পিনারদের সামলে সাবলীলভাবে রান তুলতে থাকেন। উদ্বোধনী জুটিতে তাঁদের ১১২ রানই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।
৬৮ বলে নিজের ষষ্ঠ অর্ধশতক পূর্ণ করেন কিং। ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে কাট শটে চার মেরে তিনি ফিফটির মাইলফলক স্পর্শ করেন। একই সঙ্গে উদ্বোধনী জুটির রান ১০০ ছাড়িয়ে গেলে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশা আরও বাড়ে।
স্পিনাররা উইকেটের দেখা না পাওয়ায় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত পেসারদের আক্রমণে আনেন। তাতে দ্রুত সাফল্য এলেও ততক্ষণে ম্যাচ বাংলাদেশের হাতের বাইরে চলে যায়।
নিখুঁত ইনসুইঙ্গারে ক্যাম্পবেলের স্টাম্প ভেঙে দেন পেসার শরিফুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে ৫৪ রান করা ক্যাম্পবেল দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৪৯ রান।
এরপর হাসান মাহমুদ ত্যাগনারাইন চন্দরপলকে ১ রানে আউট করলে জয়ের ক্ষীণ আশা জাগে বাংলাদেশের।
তবে কেভাম হজ ও কিং ৫৮ বলে ৫০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ৩১ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন হজ। কিং ১১৫ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ৮১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
এতে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এর আগে চতুর্থ দিন ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে যোগ করতে পেরেছে মাত্র ৬৩ রান। এর বেশির ভাগই এসেছে নাঈম হাসানের ব্যাট থেকে।
টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম অর্ধশতক তুলে নেওয়ার পর শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন নাঈম। জোমেল ওয়ারিকান ও রোস্টন চেজের দুর্দান্ত স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে নিচের সারির ব্যাটারদের নিয়ে দলকে টেনে নিয়ে যান তিনি। তাঁর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের লিড ১৫০ রান ছাড়িয়ে যায়।
২৯ রানে থাকার সময় চেজের বলে জীবন পান নাঈম। তবে কঠিন উইকেটে ধৈর্য ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে ৮৭ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। ওয়ারিকানের বলে মিডউইকেটে ঠেলে এক রান নিয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন নাঈম।
পঞ্চমবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকারের পথে নাঈমকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন চেজ। লং-অনে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন নাঈম।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭২ রানে অলআউট হওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে গুটিয়ে দেয়। এতে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং বিপর্যয়ে সেই লিড কোনো কাজে আসেনি।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন জোমেল ওয়ারিকান (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।
আগামী ৪ নভেম্বর সিলেটে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
এএইচ










